মাধ্যমিক ২০২২ ভূগোল প্রশ্নপত্রের সমস্ত উত্তর | Madhyamik 2022 Geography Question Answer PDF Download

Share This Awesome Post 😊

Madhyamik 2022 Geography Question Paper Solved PDF Download: তোমরা যারা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং ভূগোল বিষয়ে ভালো নম্বর পেতে চাও, তাদের জন্য আজকের এই পোস্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পোস্টে আমরা তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করছি Madhyamik 2022 Geography Question Paper Solved PDF Download, যেখানে প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও সম্পূর্ণ উত্তর ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করে দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করার মাধ্যমে তোমরা সহজেই বুঝতে পারবে বোর্ড পরীক্ষায় কীভাবে প্রশ্ন আসে এবং কোন ধরনের উত্তর লিখলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া সম্ভব।

মাধ্যমিক ২০২২ ভূগোল প্রশ্নপত্রের সমাধান পিডিএফ ডাউনলোড করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তোমরা অফলাইনেও যেকোনো সময় এই সমাধানগুলো পড়ে প্রস্তুতি নিতে পারবে। বিশেষ করে যারা পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে দ্রুত রিভিশন দিতে চাও, তাদের জন্য এই Question With Answer PDF একটি আদর্শ রিসোর্স হতে পারে।

নিচে আমরা সম্পূর্ণ মাধ্যমিক ২০২২ ভূগোল প্রশ্ন উত্তর ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছি, যাতে তোমরা প্রতিটি বিভাগ (MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত, রচনাধর্মী প্রশ্ন) আলাদা আলাদাভাবে বুঝে নিতে পারো। Madhyamik 2022 Geography প্রশ্নপত্রের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভূগোলের প্রতিটি অধ্যায় থেকেই প্রশ্ন এসেছিল, তাই সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্রটি ভালোভাবে সমাধান করলে পরীক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।

WhatsApp Channel
WhatsApp Channel (মাধ্যমিক) Join Now
Telegram Channel
Telegram Channel (মাধ্যমিক) Join Now
YouTube Channel
YouTube Channel (মাধ্যমিক) Subscribe

মাধ্যমিক ২০২২ ভূগোল প্রশ্নের সমাধান | Madhyamik 2022 Geography Question Paper Solved PDF Download

(ক) অগ্ন্যুদগম
(খ) আরােহণ
(গ) সঞ্চয় কার্য
(ঘ) অবরােহণ

(ক) জলবিভাজিকা
(খ) নদীমঞ্চ
(গ) স্বাভাবিক বাঁধ
(ঘ) দোয়াব

(ক) করি হ্রদ
(খ) প্লায়া হ্রদ
(গ) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
(ঘ) উপহ্রদ

(ক) বালিয়াড়ি 
(খ) হামাদা
(গ) ধ্রিয়ান
(ঘ) লােয়েস

(ক) শট্‌স 
(খ) বােলসন
(গ) ধান্দ
(ঘ) তাল

(ক) তেলেঙ্গানা
(খ) জম্মু ও কাশ্মীর 
(গ) উত্তরাখণ্ড
(ঘ) ঝাড়খণ্ড

(ক) ভাবর
(খ) খাদার
(গ) কারেওয়া
(ঘ) দুন

(ক) হিরাকুঁদ
(খ) ভাকরা-নাঙ্গাল 
(গ) নাগার্জুন সাগর
(ঘ) রাণাপ্রতাপ সাগর

(ক) কেরলে
(খ) কর্ণাটকে
(গ) মেঘালয়ে
(ঘ) পশ্চিমবঙ্গে

(ক) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ উদ্ভিদ
(খ) ক্রান্তীয় পর্ণমােচী উদ্ভিদ
(গ) ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদ
(ঘ) সরলবর্গীয় উদ্ভিদ

(ক) জোড়হাটে
(খ) বেঙ্গালুরুতে
(গ) চিকমাগালুরে
(ঘ) কোয়েম্বাটোরে

(ক) দুর্গাপুরে
(খ) খড়গপুরে
(গ) সেক্টর ৫, সল্টলেকে
(ঘ) শিলিগুড়িতে

(ক) ৪০০০
(খ) ৫০০০
(গ) ৬০০০
(ঘ) ৭০০০

(ক) হলদিয়া
(খ) চেন্নাই
(গ) কোলকাতা
(ঘ) মুম্বই

বামদিকডানদিক
২.৪.১ নামচা বারওয়া১. রাজস্থান
২.৪.২ মাজুলী২. ওড়িশা
২.৪.৩ মরুস্থলি৩. পূর্ব হিমালয়ের শৃঙ্গ
২.৪.৪ পারাদ্বীপ৪. ব্রহ্মপুত্র
বামদিকডানদিক
২.৪.১ নামচা বারওয়া৩. পূর্ব হিমালয়ের শৃঙ্গ
২.৪.২ মাজুলী৪. ব্রহ্মপুত্র
২.৪.৩ মরুস্থলি১. রাজস্থান
২.৪.৪ পারাদ্বীপ২. ওড়িশা

অর্থাৎ, পর্যায়ন হল অবরোহণ (ক্ষয়কার্য) ও আরোহণ (সঞ্চয়কার্য) — এই দুটি বিপরীতমুখী প্রক্রিয়ার সম্মিলিত ফল, যার লক্ষ্য ভূপৃষ্ঠকে সমতলীকরণ করা।

পার্বত্য অঞ্চল থেকে প্রবাহিত নদী যখন হঠাৎ করে পার্বত্য প্রবাহ ছেড়ে সমভূমিতে প্রবেশ করে, তখন ভূমির ঢাল হঠাৎ কমে যাওয়ার ফলে নদীর গতিবেগ ও বহনক্ষমতা অনেকটা কমে যায়। ফলে নদী তার সঙ্গে বয়ে আনা নুড়ি, বালি, পলি প্রভৃতি পার্বত্য পাদদেশে সঞ্চয় করতে শুরু করে। এই সঞ্চিত পদার্থ ক্রমশ জমতে জমতে অর্ধবৃত্তাকার বা শঙ্কু আকৃতির যে ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে পলল শঙ্কু (Alluvial Fan) বলে।

পার্বত্য উপত্যকা বেয়ে নেমে আসা একাধিক উপত্যকা হিমবাহ (Valley Glacier) যখন পর্বতের পাদদেশে (পাদভূমিতে) এসে একত্রে মিলিত হয়ে বিস্তৃত সমভূমি বা সমতল অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে পাদদেশীয় হিমবাহ (Piedmont Glacier) বলে।
পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহগুলি সরু উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, কিন্তু পাদদেশে পৌঁছে ঢাল কমে যাওয়ায় এবং পার্শ্ববর্তী বাধা না থাকায় সেগুলি পাখার মতো ছড়িয়ে গিয়ে একটি বিস্তীর্ণ বরফক্ষেত্র গঠন করে।
(টীকা: উদাহরণ — আলাস্কার মালাসপিনা হিমবাহ (Malaspina Glacier) পৃথিবীর বিখ্যাত পাদদেশীয় হিমবাহের উদাহরণ।)

বায়ুপ্রবাহের লম্বভাবে বা আড়াআড়িভাবে (সমকোণে) যে বালিয়াড়ি গড়ে ওঠে, তাকে তির্যক বালিয়াড়ি (Transverse Dune) বলে।
মরু অঞ্চলে যেখানে বালির প্রাচুর্য থাকে এবং বায়ুপ্রবাহের দিক প্রায় স্থির থাকে, সেখানে বায়ুপ্রবাহের গতিপথের আড়াআড়ি অভিমুখে দীর্ঘ, সমান্তরাল সারিতে এই ধরনের বালিয়াড়ি সৃষ্টি হয়। এদের ঢাল বায়ুমুখী দিকে মৃদু এবং বায়ু-বিমুখী দিকে খাড়া হয়।
(টীকা: বার্খান (Barchan) বালিয়াড়িও এক ধরনের তির্যক বালিয়াড়ি, যার আকৃতি অর্ধচন্দ্রাকার বা ঘোড়ার খুরের মতো।)

দাক্ষিণাত্য মালভূমির অন্তর্গত কর্ণাটক মালভূমির পূর্বাংশে অবস্থিত অনুচ্চ ও মৃদু তরঙ্গায়িত সমপ্রায়ভূমি (peneplain) অঞ্চলকে ময়দান (Maidan) বলে।


বৈশিষ্ট্য:

  • এটি মালনাদ (Malnad) মালভূমির পূর্বদিকে অবস্থিত একটি সমপ্রায় ভূমি।
  • ময়দান অঞ্চলের গড় উচ্চতা প্রায় ৬০০ মিটারের কম।
  • এই অঞ্চল প্রধানত গ্রানাইট ও নিস (Gneiss) জাতীয় প্রাচীন কেলাসিত শিলা দ্বারা গঠিত।
  • দীর্ঘকাল ধরে ক্ষয়কার্যের ফলে ভূমি ক্ষয় পেয়ে প্রায় সমতল আকার ধারণ করেছে বলে একে সমপ্রায়ভূমি বলা হয়।

গুজরাটের কচ্ছ জেলায় অবস্থিত একটি লবণাক্ত জলাভূমি বা জলাভূমি সমতলকে (Salt Marsh) কচ্ছের রণ (Rann of Kutch) বলে। এটি মূলত সমুদ্র ও নদীর যৌথ ক্রিয়ায় গঠিত একটি অগভীর অঞ্চল, যা বর্ষাকালে সমুদ্রের জলে বা নদীর জলে প্লাবিত হয়ে জলাভূমিতে পরিণত হয় এবং শুষ্ক ঋতুতে জল শুকিয়ে গিয়ে লবণাক্ত সাদা সমতলে পরিণত হয়।
এটি দুটি ভাগে বিভক্ত:

  • বৃহৎ রণ (Great Rann of Kutch) — উত্তরে অবস্থিত
  • ক্ষুদ্র রণ (Little Rann of Kutch) — দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত

শীতকালে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে সৃষ্ট নিম্নচাপ অক্ষরেখা যখন পশ্চিমা বায়ুপ্রবাহের (Westerlies) সাহায্যে ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে উত্তর-পশ্চিম ভারতে (পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, পার্বত্য হিমালয় অঞ্চল প্রভৃতি) প্রবেশ করে এবং সেখানে হালকা বৃষ্টিপাত ও পার্বত্য অঞ্চলে তুষারপাত ঘটায়, তাকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা (Western Disturbance) বলে।
(টীকা: এই বৃষ্টিপাত রবি শস্য, বিশেষত গম চাষের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে একে “মেওয়া বৃষ্টি” বা কৃষকের পক্ষে উপকারী বৃষ্টিপাত হিসেবেও গণ্য করা হয়।)

একই জমিতে কৃষিজ ফসল (যেমন — ধান, গম, ডাল, সবজি ইত্যাদি) এবং বৃক্ষ বা বনজ উদ্ভিদকে একসঙ্গে রোপণ ও চাষ করার পদ্ধতিকে কৃষি বনসৃজন (Agroforestry) বলে।
এই পদ্ধতিতে কৃষিজমির চারপাশে বা মাঝে গাছ লাগিয়ে একদিকে যেমন কৃষিজ ফসল উৎপাদন করা হয়, তেমনি অন্যদিকে কাঠ, জ্বালানি, ফল, পশুখাদ্য প্রভৃতি বনজ সম্পদও উৎপন্ন করা হয়। এর ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি, ভূমিক্ষয় রোধ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হয়।

পার্বত্য বা পাহাড়ি অঞ্চলের খাড়া ঢাল বরাবর সিঁড়ির মতো ধাপ বা সোপান কেটে যে পদ্ধতিতে চাষ করা হয়, তাকে ধাপ চাষ বা সোপান চাষ (Terrace/Step Farming) বলে।
এই পদ্ধতিতে পাহাড়ের ঢালকে একাধিক সমতল ধাপে ভাগ করে প্রতিটি ধাপে পৃথকভাবে ফসল চাষ করা হয়, যার ফলে জলের প্রবাহের বেগ কমে যায়, মাটির ক্ষয় রোধ হয় এবং জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
(টীকা: উদাহরণ — উত্তর-পূর্ব ভারতের পার্বত্য অঞ্চল, দার্জিলিং, নীলগিরি প্রভৃতি স্থানে এই পদ্ধতিতে চাষ দেখা যায়।)

যে সমস্ত ফসল কৃষক নিজের ভোগের জন্য নয়, বরং বাজারে বিক্রয় করে অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে চাষ করেন, তাদের বাণিজ্যিক ফসল (Commercial/Cash Crop) বলে।
এই ফসলগুলি সাধারণত কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় বা রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে।
(টীকা: উদাহরণ — চা, পাট, তুলা, আখ, তামাক, রাবার প্রভৃতি ভারতের প্রধান বাণিজ্যিক ফসল।)

যে কাঁচামালকে শিল্পজাত দ্রব্যে রূপান্তরিত করলে তার ওজন বিশেষ কমে না, তাকে বিশুদ্ধ কাঁচামাল বলে। উদাহরণ: তুলা, পাট।

ভারতের জাতীয় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের (NHDP) অন্তর্গত যে জাতীয় সড়ক জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে তামিলনাড়ুর কন্যাকুমারী পর্যন্ত ভারতের উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত, তাকে উত্তর-দক্ষিণ করিডর (North-South Corridor) বলে।
এই মহাসড়কটি ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ও শহরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ ভাগের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে দ্রুততর ও উন্নত করে তোলে।

উষ্ণ মরুঅঞ্চলে ভূমিরূপ পরিবর্তনে বায়ুপ্রবাহের প্রাধান্য দেখা যাওয়ার প্রধান কারণগুলি হল—

  • স্বল্প ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত:
    মরু অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত অত্যন্ত কম (প্রায় ২৫ সেমি-র কম) এবং অনিয়মিত হওয়ায় নদীর প্রবাহ সারাবছর স্থায়ী হয় না। ফলে নদীর ক্ষয়কার্যের সুযোগ সীমিত থাকে এবং বায়ুই প্রধান ক্ষয়কারী শক্তি হিসেবে কাজ করে।
  • উদ্ভিদহীন ও অনাবৃত ভূপৃষ্ঠ:
    বৃষ্টির অভাবে মরু অঞ্চলে গাছপালা প্রায় জন্মায় না। ফলে মাটি ও শিলাচূর্ণ কোনো আবরণ ছাড়াই অনাবৃত অবস্থায় থাকে, যা বায়ুর দ্বারা সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত ও বাহিত হতে পারে।
  • দৈনিক তাপমাত্রার প্রবল তারতম্য:
    মরু অঞ্চলে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য অত্যধিক হওয়ায় শিলার উপরিভাগ প্রসারণ ও সংকোচনের ফলে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায় (তুষারভাঙন/insolation weathering), যা বায়ু দ্বারা সহজে অপসারিত হয়।
  • শুষ্ক ও প্রবল বায়ুপ্রবাহ:
    মরু অঞ্চলে আর্দ্রতাহীন শুষ্ক ও প্রবল বেগে বায়ু প্রবাহিত হয়, যা যথেষ্ট শক্তি নিয়ে বালি ও ধূলিকণা বহন করে ক্ষয়, বহন ও সঞ্চয়কার্য চালাতে সক্ষম হয়।


এই কারণগুলির জন্য উষ্ণ মরু অঞ্চলে নদীর পরিবর্তে বায়ুই প্রধান বহির্জাত শক্তি (Dominant Exogenic Agent) হিসেবে ভূমিরূপ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিষয়উপনদী (Tributary)শাখানদী (Distributary)
সংজ্ঞাযে ছোটো নদী প্রধান নদীতে এসে মিলিত হয়, তাকে উপনদী বলে।প্রধান নদী থেকে বিভক্ত হয়ে যে ছোটো নদী পৃথকভাবে প্রবাহিত হয়, তাকে শাখানদী বলে।
প্রবাহের দিকউপনদী মূল নদীর দিকে প্রবাহিত হয়ে তার সঙ্গে মিলিত হয়।শাখানদী মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত হয়।
অবস্থানসাধারণত নদীর উচ্চ ও মধ্যগতিতে দেখা যায়।সাধারণত নদীর নিম্নগতিতে, বিশেষত মোহনা বা বদ্বীপ অঞ্চলে দেখা যায়।
জলের পরিমাণউপনদী মিলিত হওয়ায় মূল নদীর জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়শাখানদী বিভক্ত হওয়ায় মূল নদীর জলের পরিমাণ হ্রাস পায়
উদাহরণযমুনা, ঘাঘরা, গণ্ডক — গঙ্গা নদীর উপনদী।ভাগীরথী-হুগলি, পদ্মা — গঙ্গা নদীর শাখানদী।
  • সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ভূমিক্ষয়:
    বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরু ও হিমবাহের বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনের নীচু দ্বীপগুলি (যেমন — ঘোড়ামারা, লোহাচড়া) ক্রমশ জলমগ্ন হয়ে ভাঙনের শিকার হচ্ছে এবং কিছু দ্বীপ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
  • লবণাক্ততা বৃদ্ধি:
    সমুদ্রের জল প্রবেশের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাটি ও জলের লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের (বিশেষত সুন্দরী গাছের) স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে এবং কৃষিজমির উর্বরতাও হ্রাস পাচ্ছে।
  • ঘূর্ণিঝড়ের প্রকোপ বৃদ্ধি:
    জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে (যেমন — আয়লা, আমফান, ইয়াস)। এর ফলে সুন্দরবনের জনবসতি, কৃষিজমি ও বনভূমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্যও বিপন্ন হয়ে পড়ছে।

উত্তর:

বিষয়নদী উপত্যকা (River Valley)হিমবাহ উপত্যকা (Glacial Valley)
আকৃতিনদী উপত্যকা ইংরেজি ‘V’ আকৃতির হয়।হিমবাহ উপত্যকা ইংরেজি ‘U’ আকৃতির হয়।
গতিপথনদী উপত্যকা সাধারণত আঁকাবাঁকা পথে প্রবাহিত হয়।হিমবাহ উপত্যকা তুলনামূলক সোজা পথে অগ্রসর হয়।
বিস্তৃতি অঞ্চলমেরু প্রদেশ ও শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সর্বত্র নদী উপত্যকা দেখা যায়।কেবলমাত্র বরফাবৃত উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল ও হিমশীতল মেরু অঞ্চলে হিমবাহ উপত্যকা দেখা যায়।
বিষয়পশ্চিমঘাট (Western Ghats)পূর্বঘাট (Eastern Ghats)
অবস্থানভারতের পশ্চিম উপকূল বরাবর বিস্তৃত।ভারতের পূর্ব উপকূল বরাবর বিস্তৃত।
গঠনপশ্চিমঘাট একটানা ও প্রায় অবিচ্ছিন্ন পর্বতশ্রেণি।পূর্বঘাট বিচ্ছিন্ন ও অনিয়মিত — মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী প্রভৃতি নদী দ্বারা খণ্ডিত।
উচ্চতাপশ্চিমঘাটের উচ্চতা তুলনামূলক বেশি (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ আনাইমুদি, ২৬৯৫ মিটার)।পূর্বঘাটের উচ্চতা তুলনামূলক কম (সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জিন্দাগড়া, ১৬৯০ মিটার)।
জলবিভাজিকা হিসেবে ভূমিকাপশ্চিমঘাট একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবিভাজিকা — গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী প্রভৃতি নদীর উৎস এখান থেকেই।পূর্বঘাট তেমন গুরুত্বপূর্ণ জলবিভাজিকা নয়

ভারতের পশ্চিমবাহিনী প্রধান নদী নর্মদা ও তাপ্তী আরব সাগরে মিলিত হওয়ার সময় বদ্বীপ গঠন না করে বরং খাঁড়ি বা মোহনা (Estuary) গঠন করে। এর কারণগুলি হল—

  • ফাটল উপত্যকা দিয়ে প্রবাহ ও অধিক গতিবেগ:
    নর্মদা ও তাপ্তী নদী ফাটল উপত্যকা (Rift Valley) দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এদের নদীখাতের ঢাল অনেক বেশি এবং জলের গতিবেগ প্রবল থাকে। ফলে নদীবাহিত পলি মোহনায় সঞ্চিত না হয়ে সরাসরি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে।
  • সংকীর্ণ মহীসোপান ও গভীর সমুদ্র:
    পশ্চিম উপকূলে মহীসোপান (Continental Shelf) সংকীর্ণ এবং সমুদ্র তুলনামূলকভাবে অধিক গভীর হওয়ায় নদীবাহিত পলি জমা হওয়ার মতো অগভীর স্থান পাওয়া যায় না।
  • প্রবল জোয়ার-ভাটার প্রভাব:
    আরব সাগরে জোয়ার-ভাটার প্রাবল্য বেশি হওয়ায় নদীমুখে সঞ্চিত সামান্য পলিও জোয়ারের জলের ধাক্কায় সমুদ্রে ভেসে যায় এবং মোহনায় স্থায়ীভাবে জমতে পারে না। এই কারণে বদ্বীপের পরিবর্তে তরঙ্গাকার খাঁড়ি (Funnel-shaped Estuary) গঠিত হয়।
  • দক্ষ ও সুলভ মানবসম্পদের প্রাচুর্য:
    ভারতে ইংরেজি ভাষায় দক্ষ প্রচুর কারিগরি শিক্ষাপ্রাপ্ত (IIT, NIT, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ) যুবশক্তি রয়েছে, যারা তুলনামূলক কম বেতনে উচ্চমানের সফটওয়্যার সংক্রান্ত কাজ করতে সক্ষম। এই সুলভ ও দক্ষ শ্রমশক্তিই ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের দ্রুত বিকাশের প্রধান কারণ।
  • সরকারি নীতি ও পরিকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা:
    ভারত সরকার সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক (STPI), বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) প্রতিষ্ঠা এবং কর ছাড়, শুল্কমুক্ত আমদানি-রপ্তানির মতো বিভিন্ন উদার শিল্পনীতি গ্রহণ করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে এবং শিল্পের প্রসারে সহায়ক হয়েছে।
  • সময়ের ব্যবধানজনিত সুবিধা (Time Zone Advantage):
    ভারতের সময় আমেরিকা ও ইউরোপের তুলনায় বিপরীতমুখী হওয়ায়, যখন পাশ্চাত্যের দেশগুলিতে রাত হয়, তখন ভারতে দিন থাকে। ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলি ২৪ ঘণ্টা পরিষেবা (Round-the-clock service) প্রদান করতে সক্ষম হয়, যা বহুজাতিক সংস্থাগুলিকে ভারতে তাদের কাজ আউটসোর্স করতে উৎসাহিত করে।


(টীকা: অতিরিক্ত কারণ হিসেবে যোগ করা যায় — উপযুক্ত টেলি-যোগাযোগ পরিকাঠামো এবং বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, পুনে, সল্টলেকের মতো প্রতিষ্ঠিত তথ্যপ্রযুক্তি হাব-এর উপস্থিতি।)

  • উর্বর পলিমাটি ও কৃষি সমৃদ্ধি:
    গাঙ্গেয় সমভূমি গঙ্গা ও তার উপনদীবাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত, যা অত্যন্ত উর্বর। এই উর্বর মাটিতে ধান, গম, আখ, পাট প্রভৃতি ফসল প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়, যা বিপুল জনসংখ্যার খাদ্য জোগান দিতে সক্ষম। ফলে এই অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক জনবসতি ঘন হয়ে ওঠে।
  • সমতল ভূপ্রকৃতি ও জলসেচের সুবিধা:
    গাঙ্গেয় সমভূমি সম্পূর্ণ সমতল হওয়ায় কৃষিকাজ, শিল্পস্থাপন ও জনবসতি গড়ে তোলা সহজ। এছাড়া গঙ্গা ও তার উপনদীগুলি থেকে সহজেই জলসেচের সুবিধা পাওয়া যায়, যা কৃষিকাজকে আরও উন্নত করে তোলে।
  • উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা ও শিল্প-বাণিজ্যের প্রসার:
    গাঙ্গেয় সমভূমিতে সড়কপথ, রেলপথ ও নদীপথের মাধ্যমে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। পাশাপাশি কলকাতা, পাটনা, কানপুর, এলাহাবাদ প্রভৃতি শহরকে কেন্দ্র করে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে, যা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে বহু মানুষকে এই অঞ্চলে আকৃষ্ট করেছে।


(টীকা: অতিরিক্ত কারণ হিসেবে বলা যায় — এই অঞ্চলের মনোরম জলবায়ু, দীর্ঘকালীন ঐতিহাসিক জনবসতি এবং প্রাচীনকাল থেকে গড়ে ওঠা সভ্যতাও জনঘনত্ব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।)

১) প্লাবনভূমি (Flood Plain):

নদীর মধ্যগতিতে ঢাল কমে যাওয়ায় নদীর স্রোতের বেগ হ্রাস পায়, ফলে নদী তার বহন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। বর্ষাকালে নদীর জল দুকূল ছাপিয়ে প্লাবিত হয় এবং প্লাবনের সময় বাহিত পলি, বালি ও কাদা নদীর দুই তীরে সঞ্চিত হয়ে সমতল ও উর্বর ভূমি গঠন করে, একে প্লাবনভূমি বলে।

২) স্বাভাবিক বাঁধ (Natural Levee):

বন্যার সময় নদীর জল দুকূল ছাপিয়ে যখন প্লাবিত হয়, তখন নদীর জলস্রোতের গতিবেগ নদীর গর্ভের কাছে বেশি ও তীরের দিকে কম থাকে। ফলে ভারী পলি ও বালি নদীর তীরের কাছে সঞ্চিত হয়ে ক্রমশ উঁচু ও দীর্ঘ বাঁধের মতো গঠন তৈরি করে, একে স্বাভাবিক বাঁধ বলে।

৩) অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Oxbow Lake):

নদীর নিম্নগতিতে সমতল ভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় নদী তার গতিপথে একাধিক আঁকাবাঁকা বাঁক বা মিয়েন্ডার (Meander) সৃষ্টি করে। ক্রমাগত ক্ষয় ও সঞ্চয়কার্যের ফলে এই বাঁকগুলি অত্যধিক বেঁকে গিয়ে একসময় সংকীর্ণ সংযোগস্থল ছিন্ন হয়ে যায় এবং মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অশ্বখুরের (ঘোড়ার খুরের) আকৃতির একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়, একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ (Oxbow Lake) বলে।

১) গ্রাবরেখা (Moraine):

হিমবাহ অগ্রসর হওয়ার সময় তার সাথে বহন করা শিলাখণ্ড, নুড়ি, বালি ও কাদা (till/boulder clay) বিভিন্ন স্থানে সঞ্চিত হয়ে যে দীর্ঘ ও অনিয়মিত ভূমিরূপ গঠন করে, তাকে গ্রাবরেখা বলে। অবস্থানভেদে গ্রাবরেখা বিভিন্ন প্রকার হয়:

  • ভূমি গ্রাবরেখা (Ground Moraine): হিমবাহের নিচে সঞ্চিত হয়
  • প্রান্তিক গ্রাবরেখা (Terminal Moraine): হিমবাহের সম্মুখপ্রান্তে সঞ্চিত হয়
  • পার্শ্বিক গ্রাবরেখা (Lateral Moraine): হিমবাহের দুই পাশে সঞ্চিত হয়
  • মধ্যবর্তী গ্রাবরেখা (Medial Moraine): দুটি হিমবাহ মিলিত হওয়ার স্থানে সঞ্চিত হয়

২) ড্রামলিন (Drumlin):

হিমবাহ যখন তার বাহিত পলি ও শিলাচূর্ণ কোনো শক্ত শিলাখণ্ডের উপর সঞ্চিত করে হিমবাহের গতিপথে উল্টানো চামচ বা ডিমের মতো আকৃতির ছোট টিলা গঠন করে, তাকে ড্রামলিন বলে। এর একদিক (হিমবাহ আগমনের দিক—stoss end) খাড়া ও অন্যদিক (হিমবাহ গমনের দিক—lee end) ঢালু হয়।

উদাহরণ: ড্রামলিনের গুচ্ছকে “ডিমের ঝুড়ি ভূপ্রকৃতি” (Basket of Eggs Topography) বলা হয়।

৩) এসকার (Esker):

হিমবাহের অভ্যন্তরে বা নিচে প্রবাহিত গলিত জলধারা (subglacial stream) যখন বালি, নুড়ি ও পলি বহন করে সংকীর্ণ সুড়ঙ্গপথে সঞ্চিত করে, তখন হিমবাহ গলে যাওয়ার পর সেই সঞ্চিত পদার্থ দীর্ঘ, সরু ও আঁকাবাঁকা রেলপথ বাঁধের মতো শৈলশিরার আকার ধারণ করে, তাকে এসকার বলে।

সংক্ষিপ্ত পার্থক্য: গ্রাবরেখা হিমবাহ কর্তৃক সরাসরি বাহিত ও সঞ্চিত পদার্থে গঠিত, ড্রামলিন হিমবাহের নিচে সঞ্চিত ডিম্বাকার টিলা, আর এসকার হিমবাহের ভেতরে বা নিচে প্রবাহিত জলধারার দ্বারা সঞ্চিত দীর্ঘ ও সরু শৈলশিরা।

১) জিউগেন (Zeugen):

মরুভূমি অঞ্চলে যদি কঠিন শিলাস্তরের নিচে কোমল শিলাস্তর অনুভূমিকভাবে (horizontally) স্তরীভূত থাকে, তাহলে বায়ুর অবঘর্ষ ক্রিয়ায় নিচের কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, কিন্তু উপরের কঠিন শিলাস্তর ক্ষয় প্রতিরোধ করে টিকে থাকে। ফলে টেবিলের মতো চ্যাপ্টা মাথাযুক্ত ও নিচের দিকে সরু ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, একে জিউগেন বলে।

২) ইয়ারদাং (Yardang):

মরুভূমি অঞ্চলে যদি কঠিন ও কোমল শিলাস্তর পর্যায়ক্রমে উলম্বভাবে (vertically) বা বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে অবস্থান করে, তাহলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে খাদের সৃষ্টি করে এবং কঠিন শিলা সরু, দীর্ঘ ও খাড়া শৈলশিরার আকারে টিকে থাকে, একে ইয়ারদাং বলে।

৩) মাশরুম রক বা গৌর (Mushroom Rock/Gour):

মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুবাহিত বালুকণা সাধারণত ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি (নিচের দিকে) বেশি ঘনত্বে প্রবাহিত হয়। ফলে শিলাখণ্ডের নিচের অংশে অবঘর্ষ ক্রিয়া বেশি ও উপরের অংশে কম হওয়ায় শিলাখণ্ডের নিচের দিক সরু ও উপরের দিক প্রশস্ত হয়ে ছাতা বা মাশরুমের মতো আকৃতি ধারণ করে, একে মাশরুম রক বা গৌর বলে।

উদাহরণ: এই ভূমিরূপগুলি সাহারা মরুভূমি ও রাজস্থানের থর মরুভূমিতে দেখা যায়।

শুষ্ক ও অর্ধশুষ্ক মরু অঞ্চলে যদিও বায়ুর ক্ষয় ও সঞ্চয়কার্য প্রধান, তবে মাঝে মাঝে আকস্মিক প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সাময়িক জলধারারও ভূমিরূপ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। এই দুইয়ের মিলিত কার্যের ফলে নিম্নলিখিত ভূমিরূপগুলি গঠিত হয়:

১) পেডিমেন্ট (Pediment):

পার্বত্য অঞ্চলের পাদদেশে জলধারা ও বায়ুর মিলিত ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত মৃদু ঢালযুক্ত, প্রায় সমতল শিলাক্ষয়জাত ভূমিকে পেডিমেন্ট বলে। পার্বত্য অংশ থেকে আকস্মিক বৃষ্টির জল দ্রুত নেমে এসে পাদদেশে শিলাক্ষয় ঘটায় এবং বায়ুর ক্ষয়কার্য এই ভূমিকে আরও মসৃণ করে তোলে।

২) বাজাদা (Bajada):

পার্বত্য পাদদেশে অবস্থিত একাধিক পলল শঙ্কু (alluvial fan) যখন পরস্পর সংযুক্ত হয়ে একটানা ঢালু পলল সমভূমি গঠন করে, তখন তাকে বাজাদা বলে। আকস্মিক বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলধারা পাহাড় থেকে পলি বহন করে এনে পাদদেশে সঞ্চিত করে এবং পরবর্তীতে বায়ুর দ্বারা এই পলি আরও বিস্তৃত হয়।

৩) প্লায়া (Playa):

মরু অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নিম্নভূমি বা গর্তে সাময়িক বৃষ্টির জল জমা হয়ে অগভীর হ্রদ সৃষ্টি করে। গ্রীষ্মের প্রখর উত্তাপে এই জল দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যায় এবং জলে দ্রবীভূত লবণ তলদেশে সঞ্চিত হয়ে সাদা লবণাক্ত সমতল ভূমির সৃষ্টি করে, একে প্লায়া বলে।

৪) ইনসেলবার্জ (Inselberg):

দীর্ঘদিন ধরে বায়ু ও জলধারার মিলিত ক্ষয়কার্যের ফলে চতুর্দিকের কোমল শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সমতলে পরিণত হওয়ার পর, কঠিন ও অবশিষ্ট শিলাখণ্ড বিচ্ছিন্ন পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকে, একে ইনসেলবার্জ বলে।

উদাহরণ: এই ভূমিরূপগুলি রাজস্থানের থর মরুভূমি এবং আফ্রিকার সাহারা মরুভূমিতে সুস্পষ্টভাবে দেখা যায়।

ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলীয় সমভূমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য:

বিষয়পূর্ব উপকূলীয় সমভূমিপশ্চিম উপকূলীয় সমভূমি
১) বিস্তৃতিপশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের তীর ধরে বিস্তৃতগুজরাট থেকে কেরল পর্যন্ত আরব সাগরের তীর ধরে বিস্তৃত
২) প্রস্থতুলনামূলকভাবে প্রশস্ত (গড়ে ১০০-১৩০ কিমি)তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ (গড়ে ১০-২৫ কিমি)
৩) গঠনপ্রধানত নদীবাহিত পলি সঞ্চয়ের ফলে গঠিত (নিমজ্জিত উপকূল নয়)সমুদ্রের জলে নিমজ্জিত পশ্চিমঘাট পর্বতের নিমজ্জিত অংশ হিসেবে গঠিত
৪) প্রধান নদীমহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী নদীর ব-দ্বীপ গঠিত হয়েছেনর্মদা, তাপ্তি, সরাবতী প্রভৃতি নদী প্রবাহিত, কিন্তু বড় ব-দ্বীপ গঠিত হয়নি
৫) ব-দ্বীপবৃহৎ ব-দ্বীপ গঠিত (যেমন—মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরীর ব-দ্বীপ)সাধারণত ব-দ্বীপ গঠিত হয়নি (নদীগুলি খাঁড়ির (estuary) মাধ্যমে সাগরে মেশে)
৬) নামকরণ (অংশ অনুযায়ী)উত্তরাংশ উৎকল উপকূল ও দক্ষিণাংশ করমণ্ডল উপকূল নামে পরিচিতউত্তরাংশ কঙ্কণ উপকূল ও দক্ষিণাংশ মালাবার উপকূল নামে পরিচিত
৭) হ্রদ/উপহ্রদচিলকা হ্রদ (উড়িষ্যা) ও পুলিকট হ্রদ (অন্ধ্রপ্রদেশ-তামিলনাড়ু) অবস্থিতকয়াল (Kayal) নামক উপহ্রদ ও ব্যাকওয়াটার (যেমন—ভেম্বানাদ হ্রদ) দেখা যায়
৮) বন্দর/নাব্যতাঅগভীর হওয়ায় প্রাকৃতিক বন্দর কম, বৃহৎ জাহাজ প্রবেশে অসুবিধা হয়গভীর হওয়ায় প্রাকৃতিক বন্দর বেশি (যেমন—মুম্বাই, কোচি, মারমাগাঁও)
৯) জলবায়ুগত প্রভাবশীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয় (তামিলনাড়ু অংশে)দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সরাসরি প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়
১০) কৃষিকাজধান চাষের প্রধান কেন্দ্রনারকেল, মশলা ও ধান চাষের জন্য বিখ্যাত

সংক্ষেপে: পূর্ব উপকূল প্রশস্ত, পলল সঞ্চয়জাত ও ব-দ্বীপ সমৃদ্ধ, অপরদিকে পশ্চিম উপকূল সংকীর্ণ, নিমজ্জিত প্রকৃতির ও গভীর বন্দরসমৃদ্ধ।

১) মৌসুমি জলবায়ু (Monsoon Type): ভারতের জলবায়ু মূলত মৌসুমি বায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যেখানে গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

২) ঋতু বৈচিত্র্য: ভারতে প্রধানত চারটি ঋতু লক্ষ্য করা যায়—গ্রীষ্মকাল, বর্ষাকাল, শরৎ-হেমন্তকাল ও শীতকাল, যা জলবায়ুর বৈচিত্র্যময় বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।

৩) বৃষ্টিপাতের অসম বণ্টন: ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়—মৌসিনরাম-চেরাপুঞ্জিতে অত্যধিক বৃষ্টিপাত (১১০০০ মিমি-র বেশি), আবার রাজস্থানের থর মরুভূমিতে অত্যন্ত কম বৃষ্টিপাত (১০০ মিমি-র কম) হয়।

৪) উষ্ণতার তারতম্য: অক্ষাংশ, উচ্চতা ও সমুদ্র থেকে দূরত্বের কারণে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে উষ্ণতার তারতম্য লক্ষ্য করা যায়—উপকূলীয় অঞ্চলে সমভাবাপন্ন এবং মহাদেশীয় অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বিদ্যমান।

৫) হিমালয় পর্বতের প্রভাব: হিমালয় পর্বত একটি প্রাকৃতিক প্রাচীর হিসেবে কাজ করে মধ্য এশিয়ার শীতল বায়ুকে ভারতে প্রবেশে বাধা দেয়, ফলে ভারতের জলবায়ু অপেক্ষাকৃত মৃদু থাকে।

৬) বিপরীতমুখী বায়ুপ্রবাহ: গ্রীষ্মকালে সমুদ্র থেকে স্থলভাগের দিকে এবং শীতকালে স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে বায়ু প্রবাহিত হওয়ার এই বৈশিষ্ট্যই ভারতীয় মৌসুমি জলবায়ুর মূল বৈশিষ্ট্য।

৭) অনিশ্চয়তা ও অনিয়মিততা: মৌসুমি বৃষ্টিপাতের সময়কাল, পরিমাণ ও বণ্টনে প্রতি বছর তারতম্য দেখা যায়, যা কৃষিকাজে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে (কখনো অতিবৃষ্টি, কখনো অনাবৃষ্টি বা খরা)।

৮) স্থলভাগ ও জলভাগের বিপরীত প্রভাব: ভারতের বিশাল স্থলভাগ ও তিনদিকে সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত হওয়ার কারণে মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি ও তার গতিপথ নির্ধারিত হয়।

উপসংহার: এই বৈশিষ্ট্যগুলির সামগ্রিক প্রভাবে ভারতের জলবায়ুকে “মৌসুমি জলবায়ু” (Tropical Monsoon Climate) বলা হয়, যা ভারতের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে।

ভারতে ধান চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ:

১) উষ্ণতা:

ধান একটি ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় ফসল হওয়ায় এর চাষের জন্য সারাবছর উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর প্রয়োজন। বীজ অঙ্কুরোদগম থেকে ফসল পাকা পর্যন্ত গড় উষ্ণতা প্রায় ২০°-৩৫° সেলসিয়াস থাকা আবশ্যক। কম উষ্ণতায় ধানগাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।

২) বৃষ্টিপাত:

ধান একটি জলনির্ভর ফসল হওয়ায় বার্ষিক ১৫০-২০০ সেমি বা তার বেশি বৃষ্টিপাত প্রয়োজন। বিশেষত জুন থেকে সেপ্টেম্বর (বর্ষাকাল) পর্যন্ত পর্যাপ্ত ও নিয়মিত বৃষ্টিপাত ধান চাষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ধানের জমিতে সবসময় জল জমে থাকা প্রয়োজন।

৩) মৃত্তিকা:

নদীবাহিত পলিমাটি (Alluvial Soil) ধান চাষের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত, কারণ এই মাটির জলধারণ ক্ষমতা বেশি এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। এছাড়া দোআঁশ ও এঁটেল মাটিতেও ধান ভালো জন্মায়, কারণ এই মৃত্তিকা জল দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখতে পারে।

৪) ভূপ্রকৃতি:

ধান চাষের জন্য সমতল বা মৃদু ঢালযুক্ত নিম্নভূমি প্রয়োজন, যেখানে জল সহজে জমে থাকতে পারে এবং সেচের সুবিধা থাকে। এই কারণে নদী উপত্যকা, ব-দ্বীপ অঞ্চল ও উপকূলীয় সমভূমি ধান চাষের জন্য আদর্শ।

৫) জলসেচের সুবিধা:

স্বল্প বৃষ্টিপাত অঞ্চলে ধান চাষের জন্য কৃত্রিম জলসেচ ব্যবস্থার (খাল, নলকূপ, পুকুর) প্রয়োজন হয়, যা জলের ঘাটতি পূরণ করে ধান চাষকে সহায়তা করে।

৬) দীর্ঘ অনুর্বাত ঋতু (Frost-free period):

ধান তুষারস্পর্শকাতর ফসল হওয়ায় দীর্ঘ তুষারমুক্ত সময়কাল (কমপক্ষে ৩০০ দিন) প্রয়োজন, যেখানে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নামে না।

৭) প্রচুর শ্রমিকের সহজলভ্যতা:

ধান চাষ একটি শ্রমঘন কৃষিকাজ (জমি তৈরি, চারা রোপণ, নিড়ানি, ফসল কাটা ইত্যাদি) হওয়ায় প্রচুর সস্তা শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, যা জনবহুল অঞ্চলে সহজলভ্য।

উদাহরণ: এই অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু প্রভৃতি রাজ্যে ধান চাষ ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে। পশ্চিমবঙ্গ ভারতে ধান উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করে।

পূর্ব ভারতে লৌহ-ইস্পাত শিল্প কেন্দ্রীভবনের কারণসমূহ:

১) কাঁচামালের সান্নিধ্য: পূর্ব ভারতে (ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড়) প্রচুর পরিমাণে লৌহ আকরিক (সিংভূম, ময়ূরভঞ্জ, বাস্তার), কয়লা (ঝরিয়া, রানিগঞ্জ), চুনাপাথরম্যাঙ্গানিজ পাওয়া যায়, যা লৌহ-ইস্পাত শিল্পের প্রধান কাঁচামাল। কাঁচামালের নিকটবর্তী স্থানে শিল্প স্থাপন পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।

২) কয়লার সহজলভ্যতা: ঝরিয়া ও রানিগঞ্জ কয়লাক্ষেত্র থেকে সহজেই কোকিং কয়লা পাওয়া যায়, যা ইস্পাত উৎপাদনের গলনোপযোগী জ্বালানি হিসেবে অপরিহার্য।

৩) জলের সহজলভ্যতা: দামোদর, সুবর্ণরেখা প্রভৃতি নদী থেকে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় প্রচুর জল সহজেই পাওয়া যায়, যা শীতলীকরণ ও অন্যান্য প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত হয়।

৪) উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা: এই অঞ্চলে ঘনবিন্যস্ত রেলপথ ও সড়কপথের মাধ্যমে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং উৎপাদিত পণ্য বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা সহজ হয়।

৫) সস্তা ও দক্ষ শ্রমিকের সহজলভ্যতা: এই অঞ্চল জনবহুল হওয়ায় প্রচুর সস্তা ও দক্ষ শ্রমিক সহজলভ্য, যা উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে।

৬) বন্দরের সান্নিধ্য: কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি ও পণ্য পরিবহনের সুবিধা পাওয়া যায়।

৭) বৃহৎ বাজারের সান্নিধ্য: কলকাতা, দিল্লি প্রভৃতি শিল্পোন্নত ও জনবহুল অঞ্চলে ইস্পাত জাত দ্রব্যের বিশাল বাজার থাকায় শিল্প স্থাপনে সুবিধা হয়।

৮) মূলধন ও সরকারি উদ্যোগ: স্বাধীনতার পর সরকার এই অঞ্চলে একাধিক সরকারি ইস্পাত কারখানা (দুর্গাপুর, বোকারো, রাউরকেলা) স্থাপন করে, যা শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

উদাহরণ: এই কারণগুলির সম্মিলিত প্রভাবে জামশেদপুর (TISCO), দুর্গাপুর, বোকারো, রাউরকেলা এবং ভিলাই পূর্ব ভারতের প্রধান লৌহ-ইস্পাত শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

৬.১ বিন্ধ্য পর্বত

৬.২ মালাবার উপকূল

৬.৩ কাবেরী নদী

৬.৪ একটি অতি অল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চল

৬.৫ একটি কৃষ্ণমৃত্তিকা অঞ্চল

৬.৬ উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি চা উৎপাদক অঞ্চল

৬.৭ পশ্চিমবঙ্গের একটি পেট্রো-রসায়ন-শিল্পকেন্দ্র

৬.৮ একটি ভারী ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পকেন্দ্র

৬.৯ পূর্ব-উপকূলের একটি কৃত্রিক পোতাশ্রয়যুক্ত বন্দর

৬.১০ নতুন দিল্লি




Share This Awesome Post 😊

Leave a Comment