Madhyamik 2025 History Question Paper Solution PDF Download | মাধ্যমিক ২০২৫ ইতিহাস প্রশ্নপত্রের সমাধান

Share This Awesome Post 😊

তোমরা কি Madhyamik 2025 History Question Paper with Answer [PDF] খুঁজছো? তাহলে তোমরা একদম সঠিক জায়গায় এসেছো! এই পোস্টে আমরা তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছি মাধ্যমিক ২০২৫ ইতিহাস প্রশ্নের সম্পূর্ণ সমাধান, যেখানে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর WBBSE বোর্ডের নির্ধারিত মার্কিং স্কিম অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য, সাল-তারিখ ও বিশিষ্ট ইতিহাসবিদদের মতামত সহকারে লেখা এই উত্তরগুলো তোমাদের পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করে তুলবে।

যারা Madhyamik 2025 History Question Paper Solution PDF Download করতে চাও, তাদের জন্য নিচে সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্র ও তার নির্ভুল সমাধান PDF ফরম্যাটে দেওয়া হয়েছে। এই মাধ্যমিক ২০২৫ ইতিহাস প্রশ্নপত্রের সমাধান ডাউনলোড করে তোমরা যেকোনো সময় অফলাইনে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে। MCQ, SAQ থেকে শুরু করে ২ নম্বর ও বড় প্রশ্ন — সবকিছুর উত্তর ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে খাতায় লেখার সময় কোনো অসুবিধা না হয়।

মাধ্যমিক ২০২৫ ইতিহাস প্রশ্নপত্রের সমাধান | Madhyamik 2025 History Question Paper Solution নিয়ে অনুশীলন করলে তোমরা বর্তমান বছরের প্রশ্নের ধরন ও কঠিনতার মাত্রা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবে। এটি শুধু উত্তর মুখস্থ করার জন্য নয়, বরং ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনার পারস্পরিক সম্পর্ক, কারণ ও ফলাফল বিশ্লেষণ করার দক্ষতা বাড়ানোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এই গাইড একটি সম্পূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে, যা তাদের ইতিহাসে ভালো নম্বর তুলতে সাহায্য করবে।

WhatsApp Channel
WhatsApp Channel (মাধ্যমিক) Join Now
Telegram Channel
Telegram Channel (মাধ্যমিক) Join Now
YouTube Channel
YouTube Channel (মাধ্যমিক) Subscribe

মাধ্যমিক ২০২৫ ইতিহাস প্রশ্নপত্রের সমাধান | Madhyamik 2025 History Question Paper Solution

(ক) সরলাদেবী চৌধুরানি
(খ) রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী
(গ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(ঘ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর: (খ) রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী

(ক) লীলা নাগ
(খ) কল্পনা দত্ত
(গ) বাসন্তী দেবী
(ঘ) লীলাবতী মিত্র

উত্তর: (ক) লীলা নাগ

(ক) ১৯৩০ খ্রিঃ
(খ) ১৯৩২ খ্রিঃ
(গ) ১৯৩৩ খ্রিঃ
(ঘ) ১৯৩৪ খ্রিঃ

উত্তর: (ঘ) ১৯৩৪ খ্রিঃ

(ক) ৪ঠা জুন, ১৯৪৬ খ্রিঃ
(খ) ১৮ই জুলাই, ১৯৪৭ খ্রিঃ
(গ) ১৪ই আগস্ট, ১৯৪৭ খ্রিঃ
(ঘ) ১৫ই আগস্ট, ১৯৪৭ খ্রিঃ

উত্তর: (খ) ১৮ই জুলাই, ১৯৪৭ খ্রিঃ

(ক) এস. কে. দার
(খ) বল্লভভাই প্যাটেল
(গ) ভি. পি. মেনন
(ঘ) ফজল আলি

উত্তর: (ঘ) ফজল আলি

(ক) কলকাতায়
(খ) শ্রীরামপুরে
(গ) হুগলিতে
(ঘ) ঢাকায়

উত্তর: (গ) হুগলিতে

(ক) ১৮৯৬ খ্রিঃ
(খ) ১৯০৪ খ্রিঃ
(গ) ১৯০৭ খ্রিঃ
(ঘ) ১৯১৩ খ্রিঃ

উত্তর: (ঘ) ১৯১৩ খ্রিঃ

(ক) বাবা রামচন্দ্র
(খ) স্বামী সহজানন্দ
(গ) মৌলানা ভাসানী
(ঘ) ফজলুল হক

উত্তর: (ঘ) ফজলুল হক

(ক) স্বদেশি আন্দোলনে
(খ) অসহযোগ আন্দোলনে
(গ) আইন-অমান্য আন্দোলনে
(ঘ) ভারত-ছাড়ো আন্দোলনে

উত্তর: (খ) অসহযোগ আন্দোলনে

(ক) লালা লাজপত রায়
(খ) অশ্বিনীকুমার দত্ত
(গ) অশ্বিনীকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
(ঘ) অরবিন্দ ঘোষ

উত্তর: (খ) অশ্বিনীকুমার দত্ত

(ক) ক্যাপ্টেন রজার্স
(খ) ক্যাপ্টেন স্কট
(গ) ক্যাপ্টেন উইলকিনসন
(ঘ) মেজর উইলিয়ামস্

উত্তর: (গ) ক্যাপ্টেন উইলকিনসন

(ক) হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়
(খ) কাদের মোল্লা
(গ) রেভাঃ জেমস লঙ্
(ঘ) রামরতন মল্লিক

উত্তর: (ঘ) রামরতন মল্লিক

(ক) ওয়ারেন হেষ্টিংস্
(খ) লর্ড বেন্টিঙ্ক
(গ) লর্ড ক্যানিং
(ঘ) লর্ড মাউন্টব্যাটেন

উত্তর: (গ) লর্ড ক্যানিং

(ক) রামমোহন রায়
(খ) রাজা রাধাকান্ত দেব
(গ) কালীনাথ রায়চৌধুরী
(ঘ) মদনমোহন তর্কালঙ্কার

উত্তর: (গ) কালীনাথ রায়চৌধুরী

(ক) গণেন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) উপেন্দ্র কিশোর রায়চৌধুরী
(ঘ) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

উত্তর: (ঘ) গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

(ক) সম্বাদ ভাস্কর
(খ) সংবাদ কৌমুদি
(গ) সংবাদ প্রভাকর
(ঘ) সমাচার দর্পণ

উত্তর: (গ) সংবাদ প্রভাকর

(ক) ১৭৮০ খ্রিঃ
(খ) ১৮১৫ খ্রিঃ
(গ) ১৮৬৩ খ্রিঃ
(ঘ) ১৮৭২ খ্রিঃ

উত্তর: (ঘ) ১৮৭২ খ্রিঃ

(ক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
(খ) রাধাকান্ত দেব
(গ) বিদ্যাসাগর
(ঘ) মতিলাল শীল

উত্তর: (খ) রাধাকান্ত দেব

(ক) দ্বারকানাথ ঠাকুর
(খ) বৈষুবচরণ শেঠ
(গ) ডেভিড হেয়ার
(ঘ) মতিলাল শীল

উত্তর: (ঘ) মতিলাল শীল

(ক) রামমোহন রায়
(খ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) কেশবচন্দ্র সেন
(ঘ) প্রসন্ন কুমার ঠাকুর

উত্তর: (খ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিভাগ খ

উত্তর: প্ৰবন্ধচিন্তামনী

উত্তর: ১৮৫৩

উত্তর: ১৯১৪

উত্তর: কোল

উত্তর:

‘ক’ স্তম্ভ‘খ’ স্তম্ভ
(২.২.১) রেভাঃ কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়২) ভারতসভা
(২.২.২) বিদ্যাসাগর(৪) নারী শিক্ষা
(২.২.৩) মিনু মাসানি(১) কংগ্রেস সমাজতন্ত্রী দল
(২.২.৪) কল্পনা দত্ত(৩) বিপ্লবী কার্যকলাপ

উত্তর: ভুল

উত্তর: ভুল

উত্তর: ঠিক

উত্তর: ঠিক

উত্তর:

ব্যাখ্যা ১ : এটি ছিল, হিন্দু বিপ্লবীদের একটি মুখপত্র।
ব্যাখ্যা ২: এটি ছিল, নব্যহিন্দু আন্দোলনের একটি মুখপত্র
ব্যাখ্যা ৩: এটি ছিল, একটি স্বাধীন, সাহসী ও প্রগতিশীল সংবাদপত্র

উত্তর: ব্যংখ্যা ৩: এটি ছিল, একটি স্বাধীন, সাহসী ও প্রগতিশীল সংবাদপত্র।

ব্যাখ্যা ১: উনিশ শতকের বাংলায় ইংরেজি শিক্ষিত ছাত্ররা নব্যবঙ্গ নামে পরিচিত ছিল।
ব্যাখ্যা ২: এটি ছিল, ডিরোজিও কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কলকাতার তরুন ছাত্রদের একটি দল।
ব্যাখ্যা ৩: হিন্দু কলেজের শিক্ষক ডিরোজিও-র ছাত্রগণ যৌথভাবে ‘নব্যবঙ্গ’ নামে পরিচিত ছিল।

উত্তর: ব্যাখ্যা ৩: হিন্দু কলেজের শিক্ষক ডিরোজিও-র ছাত্রগণ যৌথভাবে ‘নব্যবঙ্গ’ নামে পরিচিত ছিল।

ব্যাখ্যা ১: ঐ সময়ে পুস্তক ব্যবসাকে সম্মানীয় পেশারূপে গণ্য করা হত না।
ব্যাখ্যা ২: ঐ সময়ে বইয়ের দোকানের সংখ্যা ছিল খুবই সীমিত।
ব্যাখ্যা ৩: ঐ সময়ে ফেরিওয়ালাদের মাধ্যমে অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে বই পৌঁছানো ছিল সহজ এবং সুলভ।

উত্তর: ব্যাখ্যা ৩: ঐ সময়ে ফেরিওয়ালাদের মাধ্যমে অধিক সংখ্যক মানুষের কাছে বই পৌঁছানো ছিল সহজ এবং সুলভ।

ব্যাখ্যা ১: জুনাগড় রাজ্যটির শাসক ভারতীয় ইউনিয়নে স্বেচ্ছায় যোগদান করেন।
ব্যাখ্যা ২: ভারতীয় সেনাবাহিনী জুনাগড় রাজ্যটি আক্রমণ ও দখল করে।
ব্যাখ্যা ৩: জুনাগড় রাজ্যটির জনগণ গণভোটের মাধ্যমে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

উত্তর: ব্যাখ্যা ৩: জুনাগড় রাজ্যটির জনগণ গণভোটের মাধ্যমে ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

উত্তর: ১৯৩০ সালের ৮ ডিসেম্বর বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত নামে তিনজন বিপ্লবী যুবক কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং-এ প্রবেশ করে কারা বিভাগের ইনস্পেক্টর জেনারেল কর্নেল এন. এস. সিম্পসনকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর ইংরেজ পুলিশের সঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিং-এর অলিন্দে (বারান্দায়) তাঁদের যে সংঘর্ষ হয়, তাকেই অলিন্দ যুদ্ধ বলা হয়।

যুদ্ধের শেষে বাদল সায়ানাইড খেয়ে আত্মহত্যা করেন, বিনয় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কিছুদিন পর মারা যান এবং দীনেশকে পরে বিচারে ফাঁসির আদেশ দেওয়া হয়।

উত্তর: ১৯২৮ সালে লতিকা ঘোষ কলকাতায় নারী কর্মমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল মেয়েদের সামরিক প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবিকা বাহিনী গঠন এবং আত্মরক্ষার শিক্ষা দেওয়া, যাতে তারা স্বদেশী আন্দোলন ও ব্রিটিশ-বিরোধী সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে।

উত্তর: শেখ আবদুল্লা ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতা, যিনি “কাশ্মীরের শের” নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি জাতীয় কনফারেন্স দলের প্রতিষ্ঠাতা এবং স্বাধীন ভারতে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, এবং কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়েছিলেন।

উত্তর: স্বাধীনতার পর ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের দাবি জোরালো হয়ে উঠলে, এই বিষয়ে বিবেচনার জন্য ১৯৪৮ সালে জাস্টিস এস. কে. দার-এর নেতৃত্বে ‘দার কমিশন’ গঠিত হয়। ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠন করা সংগত হবে কিনা এবং তা করলে কী কী প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা খতিয়ে দেখাই ছিল এই কমিশনের মূল উদ্দেশ্য। কমিশন ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের বিপক্ষে মত দেয়, কারণ তাদের মতে এতে জাতীয় ঐক্য বিঘ্নিত হতে পারে।

উত্তর: বাংলা ছাপাখানার আধুনিকীকরণে সুরেশচন্দ্র মজুমদারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি ‘কুন্তলীন প্রেস’-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে বাংলায় আধুনিক মুদ্রণ প্রযুক্তি যেমন প্রসেস ব্লক ও অফসেট প্রিন্টিং প্রবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া তিনি ১৯২২ সালে ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বাংলা মুদ্রণ ও সংবাদপত্র শিল্পের ব্যাপক প্রসারে বিশেষভাবে সহায়ক হয়।

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯২১ সালে শান্তিনিকেতনে ‘বিশ্বভারতী’ প্রতিষ্ঠা করেন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের জ্ঞান-সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানোর উদ্দেশ্যে। তাঁর লক্ষ্য ছিল প্রকৃতির মুক্ত পরিবেশে, পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল ও মননশীল করে গড়ে তোলা। ‘যত্র বিশ্বম্ ভবত্যেকনীড়ম্’ (যেখানে বিশ্ব একটি নীড়ে মিলিত হয়) — এই আদর্শকে সামনে রেখেই তিনি বিশ্বভারতীকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন।

উত্তর: অসহযোগ আন্দোলনের সময় (১৯২১-২২) বীরেন্দ্রনাথ শাসমল মেদিনীপুর জেলায় ‘ইউনিয়ন বোর্ড কর বিরোধী আন্দোলন’ পরিচালনা করেন। ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক আরোপিত ইউনিয়ন বোর্ড কর প্রত্যাখ্যান করতে তিনি কৃষকদের সংগঠিত করেন এবং এই করবিরোধী আন্দোলনকে ব্যাপক গণআন্দোলনে পরিণত করেন। তাঁর নেতৃত্বে মেদিনীপুরের কৃষকসমাজ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

উত্তর: ১৯২৯ সালে ব্রিটিশ সরকার ভারতে সাম্যবাদী ভাবধারা ও শ্রমিক-কৃষক আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে ‘মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা’ দায়ের করে। এই মামলায় ব্রিটিশ সম্রাটের সার্বভৌমত্বকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রের মিথ্যা অভিযোগে মুজফফর আহমদ, এস. এ. ডাঙ্গে, ফিলিপ স্প্র্যাট প্রমুখ কমিউনিস্ট ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। এই মামলা ভারতে সাম্যবাদী ও শ্রমিক আন্দোলনকে দমন করার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত হয়, কারণ এটি বরং কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রচার বৃদ্ধি করে।

উত্তর: তিতুমীরের নেতৃত্বে পরিচালিত বারাসাত বিদ্রোহ (১৮৩১) ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ ছিল সুসজ্জিত ব্রিটিশ বাহিনীর তুলনায় বিদ্রোহীদের আধুনিক অস্ত্রের অভাব। তিতুমীরের ‘বাঁশের কেল্লা’ ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর কামানের গোলার সামনে টিকতে পারেনি এবং এই আক্রমণে তিতুমীর নিহত হন। এছাড়া বিদ্রোহটি সীমিত এলাকায় আবদ্ধ থাকায় ব্যাপক জনসমর্থন ও সংগঠিত প্রস্তুতির অভাবে তা দ্রুত ব্রিটিশ শক্তির কাছে দমিত হয়।

উত্তর: সাঁওতাল বিদ্রোহের (১৮৫৫-৫৬) ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। সিধু-কানুর নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিদ্রোহ ছিল ব্রিটিশ শাসন, জমিদার ও মহাজনি শোষণের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের প্রথম সংগঠিত ও সশস্ত্র গণবিদ্রোহ, যা পরবর্তী কৃষক ও আদিবাসী আন্দোলনগুলিকে প্রেরণা জোগায়। এই বিদ্রোহের ফলস্বরূপ ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে ‘সাঁওতাল পরগনা টেন্যান্সি অ্যাক্ট’ প্রণয়ন করে এবং পৃথক ‘সাঁওতাল পরগনা’ জেলা গঠন করে, যা আদিবাসীদের ভূমি অধিকার রক্ষায় সহায়ক হয়।

উত্তর: ১৮৩৮ সালে দ্বারকানাথ ঠাকুর, রাধাকান্ত দেব প্রমুখের উদ্যোগে ‘ল্যান্ডহোল্ডার্স সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল জমিদারদের স্বার্থরক্ষা করা এবং ব্রিটিশ সরকারের রাজস্ব ও ভূমি সংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সাংবিধানিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানানো। এটি ভারতের প্রথম সংগঠিত রাজনৈতিক সমিতিগুলির অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হয়, যা পরবর্তীকালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়া অ্যাসোসিয়েশন গঠনের পথ প্রশস্ত করে।

উত্তর: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন প্রথম ভারতীয়দের অন্যতম, যিনি ব্রিটিশ সরকারের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ করে সিভিল সার্ভিস (ICS) থেকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত হন। তিনি ১৮৭৬ সালে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দু’বার (১৮৯৫ ও ১৯০২) সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন ও স্বদেশী আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকার জন্য তিনি ‘রাষ্ট্রগুরু’ উপাধিতে ভূষিত হন।

উত্তর: মানুষের খাদ্যাভাসের ওপর ভৌগোলিক পরিবেশের গভীর প্রভাব রয়েছে, কারণ জলবায়ু, মাটির প্রকৃতি ও ভূপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করেই একটি অঞ্চলের খাদ্যশস্য উৎপাদন নির্ধারিত হয়। যেমন, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও নদীবিধৌত পলিমাটির কারণে পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে ধান প্রধান খাদ্য, অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত শুষ্ক ও কম বৃষ্টিপাতযুক্ত উত্তর-পশ্চিম ভারতে গম প্রধান খাদ্যশস্য হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলে মাছ এবং মরু বা পার্বত্য অঞ্চলে বাজরা, ভুট্টার মতো শস্য খাদ্যতালিকায় প্রাধান্য পায়, যা প্রমাণ করে পরিবেশই মানুষের খাদ্যাভাস নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

উত্তর: বিপিনচন্দ্র পাল রচিত আত্মজীবনী ‘সত্তর বৎসর’ (১৯৩২) আধুনিক ভারতের ইতিহাস রচনার এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, কারণ এতে ঊনবিংশ শতকের বাংলার সামাজিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জীবনের প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ পাওয়া যায়। ব্রাহ্মসমাজ আন্দোলন, নবজাগরণ এবং প্রথমদিকের জাতীয়তাবাদী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে এই গ্রন্থে যে বিস্তারিত ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতালব্ধ বিবরণ আছে, তা ইতিহাসবিদদের কাছে অত্যন্ত মূল্যবান তথ্যসূত্র হিসেবে বিবেচিত হয়।

উত্তর: ১৮৩৩ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জন্মগ্রহণকারী হরিনাথ মজুমদার ‘কাঙাল হরিনাথ’ নামে পরিচিত এবং তিনি স্মরণীয় মূলত ১৮৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকার জন্য। এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি নীলকর ও জমিদারদের দ্বারা কৃষকদের ওপর অত্যাচার এবং শোষণের চিত্র তুলে ধরে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গ্রামবাংলার প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি শিক্ষার প্রসারেও তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন, যার জন্য তিনি ‘প্রজাদের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

উত্তর: ১৮৪৪ সালে গভর্নর জেনারেল লর্ড হার্ডিঞ্জ ঘোষণা করেন যে, সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত ভারতীয়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই নীতির ফলে সাধারণ ভারতীয়দের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও ইংরেজি ভাষা শেখার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরি হয়, যা ইংরেজি শিক্ষার দ্রুত প্রসারে সহায়ক হয়। এর ফলে একদিকে যেমন ইংরেজি শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব ঘটে, তেমনি প্রশাসনিক কাজে দক্ষ ভারতীয় কর্মীর জোগানও নিশ্চিত হয়।

উত্তর: স্বাধীনতার সময় ভারতে প্রায় ৫৬৫টি দেশীয় রাজ্য ছিল, যাদের ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দেওয়া অথবা স্বাধীন থাকার সুযোগ ছিল। এই জটিল পরিস্থিতিতে উপপ্রধানমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, তাঁর সচিব ভি. পি. মেননের সহায়তায়, দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতভুক্তির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা পালন করেন।

১. কূটনৈতিক প্রক্রিয়া: প্যাটেল অধিকাংশ রাজন্যবর্গকে বোঝান যে ভৌগোলিক ঐক্য ও প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তার খাতিরে ভারতভুক্তিই একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ, এবং তাঁর প্রচেষ্টায় অধিকাংশ রাজ্য স্বেচ্ছায় “ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন”-এ স্বাক্ষর করে।

২. হায়দরাবাদ: নিজাম স্বাধীন থাকতে চাইলে প্যাটেল ‘অপারেশন পোলো’ (১৯৪৮) নামক সামরিক অভিযান চালিয়ে হায়দরাবাদকে ভারতভুক্ত করেন।
৩. জুনাগড়: নবাব পাকিস্তানে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে, ফলে ভারতীয় সেনা হস্তক্ষেপ করে এবং পরবর্তীতে গণভোটের মাধ্যমে জুনাগড় ভারতভুক্ত হয়।

৪. কাশ্মীর: মহারাজা হরি সিং প্রথমে নিরপেক্ষ থাকতে চাইলেও পাকিস্তানি উপজাতি হানাদারদের আক্রমণের মুখে ভারতীয় সাহায্য প্রার্থনা করেন এবং ভারতভুক্তির স্বাক্ষরের পরই ভারতীয় সেনা কাশ্মীরে প্রবেশ করে।

এভাবে কূটনীতি ও প্রয়োজনে সীমিত শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে সর্দার প্যাটেল বিক্ষিপ্ত দেশীয় রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে অখণ্ড ভারত গঠনে অসামান্য অবদান রাখেন, যার জন্য তিনি ভারতের “লৌহমানব” (Iron Man of India) নামে সুপরিচিত।

উত্তর: স্বাধীনতার পরবর্তীকালে ভারতীয় প্রদেশগুলির সীমানা মূলত ব্রিটিশ আমলের প্রশাসনিক সুবিধার ভিত্তিতে গঠিত হয়েছিল, ভাষা বা সংস্কৃতির ভিত্তিতে নয়। ফলে বহু অঞ্চলে একাধিক ভাষাভাষী মানুষ একই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েন, যার ফলে প্রশাসনিক জটিলতা ও ভাষাগত বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে।

১. ভাষাগত সংখ্যালঘুদের অসন্তোষ দূরীকরণ — বহু ভাষাভাষী রাজ্যে সংখ্যালঘু ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী নিজেদের ভাষায় শিক্ষা, বিচার ও প্রশাসনিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন, যা তাঁদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়।

২. আন্দোলনের চাপ — অন্ধ্র রাজ্য গঠনের দাবিতে পট্টি শ্রীরামালুর অনশন ও মৃত্যু সমগ্র দেশে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠনের দাবিকে তীব্র করে তোলে, যা সরকারকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করে।

৩. প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি — একই ভাষাভাষী অঞ্চল নিয়ে রাজ্য গঠিত হলে শাসনকার্য, আইন প্রণয়ন ও জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সহজ ও কার্যকর হয়।

৪. শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ — মাতৃভাষায় শিক্ষাদান সহজ হলে সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি পায় এবং আঞ্চলিক সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ ত্বরান্বিত হয়।

৫. জাতীয় সংহতি রক্ষা — দীর্ঘদিন ভাষাগত দাবি উপেক্ষিত হলে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা ছিল, তাই যুক্তিসঙ্গত দাবি মেনে নেওয়া জাতীয় ঐক্যের স্বার্থেই প্রয়োজনীয় ছিল।

এই সমস্ত কারণে গঠিত ফজল আলি কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠন আইন (States Reorganisation Act) পাশ হয় এবং ভাষার ভিত্তিতে নতুন রাজ্য গঠিত হয়।

উত্তর: উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে বাংলা তথা ভারতীয় মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের অবদান অপরিসীম। উইলিয়াম কেরি, জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড— এই ত্রয়ী (একত্রে “শ্রীরামপুর ত্রয়ী” নামে পরিচিত) ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে শ্রীরামপুরে মিশন স্থাপন করে এই কাজের সূচনা করেন।

১. ছাপাখানা প্রতিষ্ঠা ও বাংলা হরফ নির্মাণ — তাঁরা শ্রীরামপুরে একটি মুদ্রণালয় স্থাপন করেন এবং পঞ্চানন কর্মকারের সহায়তায় বাংলা মুদ্রণের উপযোগী ধাতব হরফ (টাইপ) তৈরি করেন, যা বাংলা মুদ্রণকে বাস্তবে সম্ভব করে তোলে।

২. ধর্মগ্রন্থ ও সাহিত্য প্রকাশ — উইলিয়াম কেরির উদ্যোগে বাংলা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ ও মুদ্রণ করা হয়, পাশাপাশি রামায়ণ-মহাভারতের মতো সংস্কৃত গ্রন্থেরও বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়।

৩. ব্যাকরণ ও অভিধান রচনা — কেরি রচিত “A Grammar of the Bengali Language” এবং বাংলা-ইংরেজি অভিধান বাংলা ভাষার আধুনিক কাঠামো নির্মাণে সহায়ক হয়।

৪. সংবাদপত্র প্রকাশনা — ১৮১৮ সালে জে. সি. মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত “সমাচার দর্পণ” বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র হিসেবে সাংবাদিকতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

৫. শিক্ষাবিস্তার — শ্রীরামপুর কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং বহু পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের মাধ্যমে তাঁরা বাংলায় আধুনিক শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখেন।

এভাবে শ্রীরামপুর মিশনারিদের প্রচেষ্টায় বাংলা মুদ্রণ শিল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়, যা পরবর্তীকালে বাংলা নবজাগরণ ও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বিকাশের পথ প্রশস্ত করে।

উত্তর: ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ভারতীয়দের নিজস্ব উদ্যোগে বিজ্ঞানচর্চার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার ১৮৭৬ সালে কলকাতায় ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স’ (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন। ইউরোপীয় রয়্যাল ইনস্টিটিউশনের আদলে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠান ভারতে বিজ্ঞান আন্দোলনের ভিত্তি স্থাপন করে।

১. স্বাধীন গবেষণার সূচনা — সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ভারতীয়দের উদ্যোগে পরিচালিত এটি ছিল দেশের প্রথম বেসরকারি বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যেখানে বিশুদ্ধ বিজ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরি হয়।

২. জনসাধারণের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা তৈরি — নিয়মিত বক্তৃতা, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রদর্শন ও আলোচনাসভার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ ও যুক্তিবাদী মনোভাব গড়ে তোলা হয়।

৩. বিশ্বমানের বিজ্ঞানী তৈরি — এই প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগারে কাজ করেই স্যার চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রামন বিখ্যাত “রামন এফেক্ট” আবিষ্কার করেন এবং ১৯৩০ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

৪. কলেজ শিক্ষার সঙ্গে যোগসূত্র — প্রেসিডেন্সি কলেজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও শিক্ষকরা এখানকার গবেষণাগার ব্যবহারের সুযোগ পেতেন, যা কলেজ-স্তরের বিজ্ঞান শিক্ষাকে বাস্তব গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করে।

৫. জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতিফলন — এই প্রতিষ্ঠান প্রমাণ করে যে ভারতীয়রাও নিজস্ব উদ্যোগে বিশ্বমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাতে সক্ষম, যা স্বদেশী চেতনা ও আত্মনির্ভরতার বার্তা বহন করে।

এইভাবে IACS শুধু একটি গবেষণাগার নয়, বরং বাংলার তথা ভারতের বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়, যা পরবর্তীকালে দেশের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ভিত্তি রচনা করে।

উত্তর: উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ছোটনাগপুর অঞ্চলে বিরসা মুণ্ডার নেতৃত্বে সংঘটিত মুণ্ডা বিদ্রোহ বা “উলগুলান” (মহাবিদ্রোহ) ভারতের ঔপনিবেশিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। “দিকু” (বহিরাগত জমিদার, মহাজন ও ঠিকাদার) শোষণ এবং ঐতিহ্যবাহী “খুৎকাঠি” জমি ব্যবস্থার ভাঙনের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহ গড়ে ওঠে।

১. অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ — জমিদার ও মহাজনদের দ্বারা মুণ্ডাদের ঐতিহ্যবাহী জমি ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়া এবং বেগার প্রথার বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহ ছিল আদিবাসীদের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম।

২. বিরসা মুণ্ডার ঐশ্বরিক নেতৃত্ব — বিরসা নিজেকে “ধরতি আবা” (পৃথিবীর পিতা) ঘোষণা করে ধর্মীয় আবেগের মাধ্যমে আদিবাসীদের একত্রিত করেন, যা আন্দোলনকে ব্যাপক জনসমর্থন এনে দেয়।

৩. সশস্ত্র প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত — তীর-ধনুক ও ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র নিয়ে সংগঠিত এই বিদ্রোহ ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যা আদিবাসী সাহস ও সংগঠন ক্ষমতার প্রমাণ দেয়।

৪. আইনি সংস্কারে প্রভাব — বিদ্রোহ দমনের পরও এর চাপে ব্রিটিশ সরকার ১৯০৮ সালে ছোটনাগপুর প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ন করতে বাধ্য হয়, যা আদিবাসীদের জমি হস্তান্তর নিষিদ্ধ করে সুরক্ষা দেয়।

৫. জাতীয় আন্দোলনে প্রেরণা — এই বিদ্রোহ প্রমাণ করে যে আদিবাসী সমাজও ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত হয়ে লড়াই করতে সক্ষম, যা পরবর্তীকালের আদিবাসী আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদী চেতনাকে প্রভাবিত করে।

এইভাবে মুণ্ডা বিদ্রোহ শুধু একটি স্থানীয় বিদ্রোহ নয়, বরং ঔপনিবেশিক শোষণ-বিরোধী আদিবাসী প্রতিরোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

উত্তর: ১৮৫৯-৬০ সালের নীলবিদ্রোহ ছিল বাংলার কৃষক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা, এবং এই বিদ্রোহে প্রত্যক্ষভাবে অংশ না নিলেও শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজ কৃষকদের পক্ষে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

১. নাট্যসাহিত্যের মাধ্যমে জনজাগরণ — দীনবন্ধু মিত্র রচিত “নীলদর্পণ” নাটক (১৮৬০) নীলকরদের অকথ্য অত্যাচার ও কৃষকদের দুর্দশা এমনভাবে তুলে ধরে যে তা সমগ্র বাংলা তথা ইংল্যান্ড পর্যন্ত আলোড়ন সৃষ্টি করে।

২. রেভারেন্ড জেমস লঙের অবদান — এই নাটকের ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করার জন্য বিচারে দণ্ডিত হয়েও তিনি নীলকরদের অত্যাচারের প্রকৃত চিত্র বিদেশি শাসকদের সামনে তুলে ধরেন, যা ছিল এক বিরল সাহসিকতার দৃষ্টান্ত।

৩. সংবাদপত্রের ভূমিকা — হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “হিন্দু প্যাট্রিয়ট” পত্রিকা নীলকরদের অত্যাচারের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করে জনমত গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

৪. বুদ্ধিজীবীদের সমর্থন — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও অক্ষয়কুমার দত্তের মতো সমাজ সংস্কারকরা তাঁদের রচনা ও প্রভাবের মাধ্যমে কৃষকদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

৫. সরকারি হস্তক্ষেপে প্রভাব — এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলে ব্রিটিশ সরকার বাধ্য হয়ে ১৮৬০ সালে নীল কমিশন গঠন করে, যার প্রতিবেদনে নীলকরদের অত্যাচারের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।

সুতরাং বলা যায়, অস্ত্র হাতে না নিলেও কলম, মঞ্চ ও সংবাদপত্রকে হাতিয়ার করে শিক্ষিত বাঙালি সমাজ নীলবিদ্রোহকে নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমর্থন জুগিয়ে তৎকালীন জনমতকে কৃষকদের পক্ষে সংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছিল।

উত্তর: ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনকালে ভারতে রেল, ডাক, তার (টেলিগ্রাফ) প্রভৃতি আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রবর্তন সভ্যতার বিকাশে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। যদিও এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ঔপনিবেশিক শাসন ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত করা, তবুও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ভারতীয় সমাজ-অর্থনীতিতে গভীরভাবে পড়েছিল।

১. অর্থনৈতিক সংহতি ও বাণিজ্য বিস্তার — ১৮৫৩ সালে প্রথম রেলপথ চালুর পর কাঁচামাল বন্দরে এবং শিল্পজাত পণ্য বাজারে পৌঁছানো সহজ হয়, যা সমগ্র দেশকে একটি অভিন্ন অর্থনৈতিক বাজারে পরিণত করে।

২. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালীকরণ — টেলিগ্রাফ ব্যবস্থার প্রবর্তন দূরবর্তী অঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করে, যার ফলে ব্রিটিশ প্রশাসন সমগ্র ভারতে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়।

৩. জাতীয় চেতনার উন্মেষ — রেল ও ডাকব্যবস্থার সুবাদে বিভিন্ন প্রদেশের মানুষ পরস্পরের সংস্পর্শে আসে, যা আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে সর্বভারতীয় জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে তুলতে সহায়ক হয়।

৪. সামাজিক গতিশীলতা বৃদ্ধি — সহজ যাতায়াত ব্যবস্থার ফলে তীর্থযাত্রা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মানুষের স্থান পরিবর্তন সহজ হয়, যা জাতিভেদ প্রথার কঠোরতা কিছুটা হলেও শিথিল করে।

৫. সংবাদপত্র ও ধারণার প্রসার — উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবাদে সংবাদপত্র ও সাময়িকপত্র দ্রুত বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছাতে থাকে, যা নতুন চিন্তাধারা ও সংস্কার আন্দোলনের প্রসারে সহায়তা করে।

সুতরাং বলা যায়, যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার এই বিকাশ শুধু অর্থনৈতিক শোষণের হাতিয়ার হিসেবে নয়, বরং ভারতীয় সমাজে আধুনিকীকরণ ও জাতীয় সংহতির ভিত্তি রচনায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

উত্তর: দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের সম্পাদনায় ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত “সোমপ্রকাশ” উনিশ শতকীয় বাংলার নবজাগরণের ইতিহাসে এক বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে। সাপ্তাহিক এই পত্রিকাটি নিরপেক্ষ ও নির্ভীক সাংবাদিকতার জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয়।

১. নির্ভীক সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি — ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ সরকারি নীতির ভুলত্রুটি নিয়ে নির্ভীকভাবে সমালোচনা করতেন, যার ফলে পত্রিকাটি প্রশাসনের কাছে যথেষ্ট সমীহ আদায় করে।

২. কৃষক স্বার্থের পক্ষে অবস্থান — নীলবিদ্রোহের সময় নীলকরদের অত্যাচার এবং পরবর্তীকালে পাবনার কৃষক বিদ্রোহের সময় প্রজাদের ওপর জমিদারি শোষণের বিরুদ্ধে এই পত্রিকা জোরালো প্রতিবাদ জানায়।

৩. নারী শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে ভূমিকা — বিধবাবিবাহ, বাল্যবিবাহ রোধ ও নারীশিক্ষার প্রসারের মতো প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনগুলিকে পত্রিকাটি ধারাবাহিকভাবে সমর্থন জুগিয়েছিল।

৪. নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার মানদণ্ড স্থাপন — কোনো বিশেষ ধর্মীয় বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব না দেখিয়ে তথ্যনির্ভর ও যুক্তিসংগত সংবাদ পরিবেশনের যে রীতি এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে, তা পরবর্তী বাংলা সাংবাদিকতার আদর্শ হয়ে ওঠে।

৫. জনমত গঠনে প্রভাব — শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যা পরবর্তীকালের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত্তি প্রস্তুত করে।

উপসংহারে বলা যায়, “সোমপ্রকাশ” শুধু একটি সংবাদপত্র ছিল না, বরং তা ছিল উনিশ শতকের বাংলার সামাজিক বিবেক ও সংস্কার আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ বাহক, যা সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড স্থাপনেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।

৫। পনেরো বা যোলটি বাক্যে যে কোন একটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ৮×১=৮

উত্তর: চট্টগ্রাম বিদ্রোহের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী শক্তির এক অবিস্মরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। মাস্টারদা সূর্য সেনের ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি সশস্ত্র বিপ্লবের পথ বেছে নেন।

১. শিক্ষাজীবন ও বিপ্লবী চেতনা — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর পাঠরত অবস্থাতেই তিনি বিপ্লবী রাজনীতির সংস্পর্শে আসেন এবং পরবর্তীতে সূর্য সেনের চট্টগ্রাম বিপ্লবী দলে যোগ দেন।

২. ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মির সদস্যপদ — তিনি চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের (১৯৩০) পরবর্তী পর্যায়ে গঠিত ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মিতে যোগদান করে সক্রিয়ভাবে বিপ্লবী কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করেন।

৩. পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব — ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বর্ণবিদ্বেষী “কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশ নিষেধ” সাইনবোর্ড সংবলিত ক্লাবটিতে আক্রমণ চালানোর দায়িত্ব পান তিনি, যা ছিল নারী নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিরল সশস্ত্র অভিযান।

৪. আত্মবলিদানের মাধ্যমে অমরত্ব লাভ — আক্রমণ সফল হলেও পুলিশের হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কায় তিনি পটাশিয়াম সায়ানাইড সেবন করে আত্মবিসর্জন দেন, যা তাঁকে বিপ্লবী আন্দোলনের প্রথম নারী শহিদের মর্যাদা এনে দেয়।

তাঁর এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে যে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নারীরাও পুরুষদের সমকক্ষ ভূমিকা পালনে সক্ষম, যা পরবর্তী প্রজন্মের নারী বিপ্লবীদের কাছে চিরন্তন প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

বিংশ শতকে নারী আন্দোলনে দীপালি সংঘের ভূমিকা —

১৯২৩ সালে বিপ্লবী নেত্রী লীলা নাগ (পরবর্তীতে লীলা রায়) ঢাকায় দীপালি সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বিংশ শতকীয় বাংলার নারী আন্দোলনের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত।

১. নারী শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী ভূমিকা — সংঘটি মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় ও শারীরশিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করে, যেখানে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ব্যায়াম ও আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হত।

২. বিপ্লবী প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা — আপাতদৃষ্টিতে সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হলেও দীপালি সংঘ প্রকৃতপক্ষে ছিল একটি গোপন বিপ্লবী কেন্দ্র, যেখানে অস্ত্র চালনা ও গেরিলা কৌশলে প্রশিক্ষণ দেওয়া হত।

৩. স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী যোদ্ধা তৈরি — এই সংগঠনের হাত ধরেই প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্ত, বীণা দাসের মতো বহু নারী বিপ্লবী রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন, যাঁরা পরবর্তীকালে সশস্ত্র সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

৪. নারী স্বাধীনতার আদর্শ প্রতিষ্ঠা — সংঘের কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজে এই বার্তা প্রতিষ্ঠিত হয় যে নারীরা কেবল গৃহবধূ নন, বরং তাঁরাও রাজনৈতিক সংগ্রাম ও জাতি গঠনে সমান অংশীদার হতে পারেন।

সামগ্রিকভাবে দীপালি সংঘ কেবল একটি সংগঠন ছিল না, বরং তা ছিল বাংলার নারী সমাজকে ঘরের চার দেওয়াল থেকে মুক্ত করে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের মূলস্রোতে সংযুক্ত করার এক ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা।

উত্তর: ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-১৮৯১) কেবল সমাজ সংস্কারক হিসেবেই নন, বাংলা মুদ্রণ ও প্রকাশনা জগতেও এক যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। শ্রীরামপুর মিশনারিদের প্রতিষ্ঠিত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে তিনি বাংলা মুদ্রণশিল্পকে এক নতুন মাত্রা প্রদান করেন।

১. সংস্কৃত প্রেস প্রতিষ্ঠা — ১৮৪৭ সালে তিনি নিজস্ব উদ্যোগে “সংস্কৃত প্রেস” প্রতিষ্ঠা করেন, যেখান থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কৃত ও বাংলা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়, যা বাংলার নিজস্ব মুদ্রণ ব্যবসার বিকাশে সহায়ক হয়।

২. শিশুশিক্ষার উপযোগী পাঠ্যপুস্তক রচনা — তাঁর রচিত “বর্ণপরিচয়” (১৮৫৫) প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ বাংলা বর্ণমালা শিক্ষার পদ্ধতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে এবং আজও এটি বাংলা প্রাথমিক শিক্ষার আদর্শ পাঠ্যপুস্তক হিসেবে বিবেচিত হয়।

৩. সরল বাংলা গদ্যরীতির প্রবর্তন — তিনি “বেতাল পঞ্চবিংশতি”, “শকুন্তলা”, “সীতার বনবাস”-এর মতো গ্রন্থে যে সাবলীল, যতিচিহ্নযুক্ত ও গঠনবদ্ধ গদ্যরীতি প্রবর্তন করেন, তা মুদ্রিত বাংলা গদ্যের মান নির্ধারণ করে দেয়।

৪. হরফ ও বানানরীতির সংস্কার — তিনি বাংলা মুদ্রণে ব্যবহৃত হরফের গঠন ও বানান পদ্ধতিতে সংস্কার আনেন, যার ফলে মুদ্রিত পাঠ অধিক স্পষ্ট ও পাঠযোগ্য হয়ে ওঠে।

৫. সুলভ মূল্যে গ্রন্থ প্রকাশ — সাধারণ ছাত্রছাত্রী ও নিম্নবিত্ত পাঠকদের কথা মাথায় রেখে তিনি অপেক্ষাকৃত কম দামে পাঠ্যপুস্তক প্রকাশের ব্যবস্থা করেন, যার ফলে শিক্ষা ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের নাগালে আসে।

৬. মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন ও শিক্ষা বিস্তার — মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন প্রতিষ্ঠা এবং অসংখ্য বিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে তিনি পাঠ্যপুস্তকের চাহিদা তৈরি করেন, যা পরোক্ষভাবে মুদ্রণ ব্যবসার প্রসারে ইন্ধন জোগায়।

৭. সামাজিক সংস্কারমূলক রচনার প্রকাশ ও প্রচার — বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ রোধ সংক্রান্ত তাঁর পুস্তিকাগুলি ছাপাখানার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়ে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বহুমুখী প্রচেষ্টা বাংলা মুদ্রণ শিল্পকে কেবল প্রযুক্তিগত দিক থেকেই নয়, বরং ভাষা, শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের দিক থেকেও এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়, যা পরবর্তীকালে বাংলা সাহিত্য ও মুদ্রণ সংস্কৃতির ভিত্তি রচনা করে।

উত্তর: পলাশীর যুদ্ধের (১৭৫৭) পর বাংলায় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অর্থনৈতিক শোষণ এবং ১৭৭০ সালের ভয়াবহ ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের ফলে সৃষ্ট চরম দুর্দশা থেকে সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহের সূত্রপাত ঘটে, যা প্রায় চার দশক ধরে অব্যাহত ছিল।

বিদ্রোহের পটভূমি ও কারণ–

১. অর্থনৈতিক শোষণ — কোম্পানি দেওয়ানি লাভের পর রাজস্ব আদায়ের চাপ এত বৃদ্ধি করে যে সাধারণ কৃষক থেকে শুরু করে তীর্থযাত্রী সন্ন্যাসী-ফকিরদের ওপরও অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়।

২. ভ্রমণ ও তীর্থযাত্রায় বাধা — সন্ন্যাসী ও ফকিররা ঐতিহ্যগতভাবে বিভিন্ন তীর্থস্থানে অবাধে ভ্রমণ করতেন, কিন্তু ব্রিটিশ প্রশাসন তাঁদের চলাচলে কর ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তাঁদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়।

৩. দুর্ভিক্ষজনিত দুর্দশা — ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ও দুর্দশা সত্ত্বেও কোম্পানি রাজস্ব আদায়ে কোনো শিথিলতা না দেখানোয় জনরোষ চরমে পৌঁছায়।

বিদ্রোহের বিস্তার ও নেতৃত্ব–

৪. মজনু শাহ, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানীর মতো নেতৃত্বে রংপুর, ময়মনসিংহ, বগুড়া, ঢাকা প্রভৃতি অঞ্চলে বিদ্রোহীরা সরকারি কোষাগার ও নীলকুঠি আক্রমণ করে গেরিলা পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন প্রতিরোধ চালিয়ে যান।

৫. হিন্দু সন্ন্যাসী ও মুসলিম ফকিরদের যৌথ অংশগ্রহণ এই বিদ্রোহকে এক অসাম্প্রদায়িক ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের রূপ দেয়।

ঐতিহাসিক তাৎপর্য–

১. প্রথম সংগঠিত ব্রিটিশ-বিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ — এটিই ছিল বাংলায় কোম্পানি শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম দীর্ঘস্থায়ী ও সংগঠিত সশস্ত্র আন্দোলন, যা পরবর্তী কৃষক ও উপজাতি বিদ্রোহের পথ প্রশস্ত করে।

২. সাহিত্যে চিরস্মরণীয় স্থান — বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের “আনন্দমঠ” উপন্যাসে এই বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট ব্যবহৃত হওয়ায় এটি জাতীয়তাবাদী কল্পনায় বিশেষ স্থান লাভ করে।

৩. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত — হিন্দু-মুসলিম যৌথ নেতৃত্ব প্রমাণ করে যে ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে ধর্মনির্বিশেষে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হতে পারে।

৪. নারী নেতৃত্বের প্রাথমিক দৃষ্টান্ত — দেবী চৌধুরানীর মতো নারী নেতৃত্বের উপস্থিতি এই বিদ্রোহকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

৫. ব্রিটিশ শাসনের প্রকৃত রূপ উন্মোচন — এই বিদ্রোহ দমনে ব্রিটিশদের নৃশংসতা তাদের ঔপনিবেশিক শাসনের শোষণমূলক চরিত্র বিশ্বের সামনে উন্মোচিত করে।

সামগ্রিকভাবে সন্ন্যাসী-ফকির বিদ্রোহ কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ ছিল না, বরং এটি ছিল ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের ভবিষ্যৎ ধারার এক গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূরি, যা পরবর্তীকালের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলিকে নৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে প্রভাবিত করেছিল।




Share This Awesome Post 😊

1 thought on “Madhyamik 2025 History Question Paper Solution PDF Download | মাধ্যমিক ২০২৫ ইতিহাস প্রশ্নপত্রের সমাধান”

Leave a Comment