Madhyamik 2026 Life Science Question Paper with Answer PDF | মাধ্যমিক 2026 জীবন বিজ্ঞান প্রশ্নপত্রের সম্পূর্ণ সমাধান

Share This Awesome Post 😊

মাধ্যমিক ২০২৬ পরীক্ষার জীবন বিজ্ঞান বিষয়ে যারা সঠিক ও নির্ভরযোগ্য উত্তর খুঁজছো, তাদের জন্য এই পোস্টে রইল Madhyamik 2026 Life Science Question Paper Solved [PDF] সম্পূর্ণভাবে। মাধ্যমিক 2026 জীবন বিজ্ঞান প্রশ্নের সম্পূর্ণ সমাধান এখানে তৈরি করা হয়েছে বোর্ডের মার্কিং স্কিম মাথায় রেখে, যাতে তোমরা বুঝতে পারো কোন প্রশ্নের উত্তর কীভাবে সাজিয়ে লিখলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়। প্রতিটি অধ্যায় থেকে আসা প্রশ্নের উত্তর ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তোমরা পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, কঠিন টপিক এবং গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টারগুলো সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাও। পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করা তোমাদের সবচেয়ে কার্যকরী অভ্যাসগুলোর একটি, আর এই পোস্ট সেই প্রস্তুতিকেই আরও মজবুত করবে।

তোমরা যদি Madhyamik Life Science Question Paper 2026 with Answers একসঙ্গে পেতে চাও, তাহলে এই পোস্ট তোমাদের জন্যই তৈরি। এখানে প্রতিটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে দেওয়া হয়েছে, যাতে তোমরা শুধু উত্তর মুখস্থ না করে কনসেপ্টও ভালোভাবে বুঝতে পারো। এই পেজ থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্রের সমাধান PDF আকারেও পেয়ে যাবে, যা অফলাইনে পড়াশোনার জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে। জীবন বিজ্ঞান প্রশ্নপত্র ভালোভাবে অনুশীলন করলে খাতায় নম্বর বাড়ানোর পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে তোমাদের আত্মবিশ্বাসও অনেকটা বেড়ে যাবে।

WhatsApp Channel
WhatsApp Channel (মাধ্যমিক) Join Now
Telegram Channel
Telegram Channel (মাধ্যমিক) Join Now
YouTube Channel
YouTube Channel (মাধ্যমিক) Subscribe

Madhyamik 2026 Life Science Question Paper Solution PDF | মাধ্যমিক 2026 জীবন বিজ্ঞান প্রশ্নপত্রের সম্পূর্ণ সমাধান

(ক) গুরুমস্তিস্ক –স্মৃতি
(খ) হাইপোথ্যালামাস –দেহের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ
(গ) সুষুম্না শীর্ষক –দেহের ভারসাম্য রক্ষা
(ঘ) পনস্‌- মূত্রত্যাগ নিয়ন্ত্রণ

(ক) মিশ্র , আজ্ঞাবহ , সংজ্ঞাবহ
(খ) সংজ্ঞাবহ , মিশ্র , আজ্ঞাবহ
(গ) আজ্ঞাবহ , সংজ্ঞাবহ , মিশ্র
(ঘ) মিশ্র , সংজ্ঞাবহ , মিশ্র

 A স্তম্ভ B স্তম্ভ
I. ফটোন্যাস্টিক চলন A. লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শ করলে মুদে যায় ।
II. থার্মোন্যাস্টিক চলন B. সূর্যমুখীর ফুল তীব্র আলোকে ফোটে ।
III. সিসমোন্যাস্টিক চলনC.  সূর্যশিশির পাতার রোম পোকার দেহের রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে বেঁকে গিয়ে পোকাটিকে আঁকড়ে ধরে ।
IV. কেমোন্যাস্টিক চলন D. টিউলিপ ফুল বেশি উষ্ণতায় ফোটে
 E. গাছের মূল জলের দিকে এগিয়ে যায় ।

(ক) I-d , II-a , III-c , IV-b
(খ) I-c, II-b , III-a , IV-e
(গ) I-b , II-d , III-a , IV-c
(ঘ) I-e , II-c , III-d , IV-b

(ক) নিউক্লীয় পর্দা ও নিউক্লীয়লাস অবলুপ্ত হয় ।
(খ) অপত্য ক্রোমোজোম মেরুর দিকে গমন করে ।
(গ) নিউক্লীয় পর্দা ও নিউক্লীয়লাস পুনরায় তৈরি হয় ।
(ঘ) ক্রমোজোম গুলি কোশের বিষুবতলে সজ্জিত হয় ।

(ক) কোনো বাহকের প্রয়োজন হয় না
(খ) অধিক সংখ্যায় পরাগরেণুর অপচয় ঘটে
(গ) অপত্য জীবে নতুন গুণ দেখা যায়
(ঘ) বেশি হারে বীজ অঙ্কুরিত হয়

  • ক্রমোজোমের প্রতিটি বাহুর প্রান্তকে টেলোমিয়ার বলা হয় ।
  • এই অংশে অপর কোনো ক্রমোজোম যুক্ত হতে পারে না ।
  • এই অংশে বেমতন্তু যুক্ত হয় ।
  • এই অংশটি নিউক্লীয়লাস গঠনে অংশ নেয়

(ক) 4
(খ) 2
(গ) 3
(ঘ) 1

(ক) কান্ডের দৈর্ঘ্য – খর্ব
(খ) ফুলের অবস্থান – শীর্ষ
(গ) পরিণত বীজের আকার –গোল
(ঘ) পরিণত বীজপত্রের বর্ণ- সবুজ

(ক) BbRr
(খ) Bbrr
(গ) bbrr
(ঘ) bbRR

(ক) বর্ণান্ধতা হল একটি X –সংযোজিত প্রকট জিনঘটিত রোগ ।
(খ) থ্যালাসেমিয়া হল একটি X সংযোজিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ ।
(গ) হিমোফিলিয়া হল একটি X সংযোজিত প্রচ্ছন্ন জিনঘটিত রোগ ।
(ঘ) থ্যালাসেমিয়া হল একটি অটোজোমবাহিত প্রকট জিনঘটিত রোগ ।

  • ব্যবহার ও অব্যবহারের সূত্র
  • যোগ্যতমের উদ্‌বর্তন
  • অর্জিত গুণাবলীর বংশানুসরণ
  • প্রাকৃতিক নির্বাচন
  • অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম
  • অত্যাধিক হারে বংশবৃদ্ধি

-এদের মধ্যে ডারউইন তত্ত্বের প্রতিপাদ্য বিষয় কটি ?

(ক) 4
(খ) 2
(গ) 6
(ঘ) 3

(ক) ফরম্যালডিহাইড
(খ) হাইড্রোজেন সায়ানাইড
(গ) রাইবোজ শর্করা
(ঘ) অ্যামাইনো অ্যাসিড

(ক) খুর নেই , দুটি করে আঙুল
(খ) খুর নেই , তিনটি করে আঙুল
(গ) খুর আছে তিনটি করে আঙুল
(ঘ) খুর আছে , একটি করে আঙুল

(ক) অভয়ারণ্য , বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ , অভয়ারণ্য
(খ) বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ , জাতীয় উদ্যান , অভয়ারণ্য
(গ) জাতীয় উদ্যান , অভয়ারণ্য , বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ
(ঘ) অভয়ারণ্য , জাতীয় উদ্যান , অভয়ারণ্য

(ক) বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন , দূষণ
(খ) চোরাশিকার , অতিব্যবহার
(গ) বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশ , বাসস্থান ধ্বংস
(ঘ) বাসস্থান ধ্বংস , চোরাশিকার

(ক) বধিরতা
(খ) বিশ্ব- উষ্ণায়ন
(গ) ব্রঙ্কাইটিস
(ঘ) জীব –বিবর্ধন

 A স্তম্ভ B স্তম্ভ
 ২.১৩ অ্যাডাকটার পেশি(ক) বংশগত রোগ প্রতিরোধ
২.১৪. মিয়োসিস (খ) গ্রিনহাউস গ্যাস
২.১৫. জেনেটিক কাউন্সিলিং(গ) ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা
২.১৬. লাল গ্রন্থি(ঘ) মাছের পটকায় গ্যাস মুক্ত করা
২.১৭. নাইট্রাস অক্সাইড(ঙ ) ল্যাটিসিমাস ডরসাই
২.১৮. বৃদ্ধির কোশীয় বিভেদন দশা(চ) কলা ও অঙ্গ গঠন  
 (ছ)  পাইরিফরমিস
A স্তম্ভ B স্তম্ভ
 ২.১৩ অ্যাডাকটার পেশি (ঙ ) ল্যাটিসিমাস ডরসাই
২.১৪. মিয়োসিস(গ) ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা
২.১৫. জেনেটিক কাউন্সিলিং(ক) বংশগত রোগ প্রতিরোধ  
২.১৬. লাল গ্রন্থি(ঘ) মাছের পটকায় গ্যাস মুক্ত করা
২.১৭. নাইট্রাস অক্সাইড(খ) গ্রিনহাউস গ্যাস
২.১৮. বৃদ্ধির কোশীয় বিভেদন দশা(চ) কলা ও অঙ্গ গঠন  

প্রোল্যাকটিন , ভেসোপ্রোসিন ,অ্যাসেটাইলকোলিন , ইনসুলিন

পিউরিন : অ্যাডেনিন : : পিরিমিডিন : _____

অবস্থান: মস্তিষ্কের ভেন্ট্রিকল (প্রকোষ্ঠ) এবং মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে আবৃতকারী সাবঅ্যারাকনয়েড গহ্বরে মস্তিষ্ক–সুষুম্নারস (CSF) থাকে।

কাজ: এটি মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে যান্ত্রিক আঘাত থেকে রক্ষা করে (শক শোষকের মতো কাজ করে)।

  • করনিয়া
  • আইরিস

(ক) কর্নিয়া (Cornea):
কর্নিয়া আলোকরশ্মিকে প্রতিসরিত করে চোখের ভিতরে প্রবেশ করায় এবং প্রতিবিম্ব গঠনে সাহায্য করে।

(খ) আইরিস (Iris):
আইরিস পিউপিলের আকার পরিবর্তন করে চোখে প্রবেশকারী আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।

১) প্রোজেস্টেরন জরায়ুর প্রাচীরকে (এন্ডোমেট্রিয়াম) নিষিক্ত ডিম্বাণু বা ভ্রূণ প্রতিস্থাপনের (implantation) উপযোগী করে তোলে এবং গর্ভাবস্থা চলাকালীন জরায়ুর প্রাচীরকে বজায় রাখতে সাহায্য করে।

২) এটি গর্ভাবস্থায় জরায়ুর অস্বাভাবিক সংকোচন রোধ করে ভ্রূণকে সুরক্ষিত রাখে এবং গর্ভপাত প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হাঁচির উদ্দেশ্য: নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করা ধুলো, জীবাণু বা অন্যান্য উত্তেজক পদার্থকে বাইরে বের করে শ্বাসনালীকে পরিষ্কার রাখা। কাশির উদ্দেশ্য: শ্বাসনালী বা শ্বাসনালিতে জমে থাকা ধুলো, কফ, জীবাণু বা বিদেশি কণাকে বাইরে বের করে শ্বাসনালীকে পরিষ্কার রাখা।

ক্রমরেণুধর জনু (Sporophytic Generation)লিঙ্গধর জনু (Gametophytic Generation)
রেণুধর উদ্ভিদ (পূর্ণাঙ্গ ফার্ন গাছ)রেণু (spore) অঙ্কুরিত হওয়া
পাতার নীচে সোরাস (sorus) গঠনপ্রোথ্যালাস (prothallus) গঠন
রেণুস্থলী (sporangium) গঠনপ্রোথ্যালাসে অ্যান্থেরিডিয়াম ও আর্কিগোনিয়াম গঠন
রেণুমাতৃকোশ (spore mother cell) গঠনঅ্যান্থেরিডিয়ামে শুক্রাণু ও আর্কিগোনিয়ামে ডিম্বাণু উৎপন্ন হওয়া
মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে রেণু (spore) উৎপন্ন হওয়াশুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিষেকের ফলে জাইগোট গঠন

উল্লেখ্য: জাইগোট থেকে পুনরায় রেণুধর উদ্ভিদ (ফার্ন গাছ) সৃষ্টি হয়ে এই জনুক্রম (alternation of generation) ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে।

পুষ্প

পরাগযোগ

পরাগনালীর সৃষ্টি

দ্বিনিষেক

জাইগোট ও এন্ডোস্পার্ম গঠন

ভ্রূণের সৃষ্টি

বীজ ও ফল গঠন

বীজের অঙ্কুরোদ্গম

নতুন সপুষ্পক উদ্ভিদ

লোকাস (Locus):

ক্রোমোজোমের ওপর কোনো নির্দিষ্ট জিনের অবস্থানকে লোকাস বলে। প্রতিটি জিনের ক্রোমোজোমের ওপর একটি নির্দিষ্ট ও স্থায়ী অবস্থান থাকে, এবং একই বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিনের বিভিন্ন রূপ (অ্যালিল) সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়ার একই লোকাসে অবস্থান করে।

অ্যালিল (Allele):

একই জিনের বিকল্প বা ভিন্ন রূপকে অ্যালিল বলে, যা সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়ার একই লোকাসে অবস্থান করে এবং একই বৈশিষ্ট্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ (যেমন—প্রকট বা প্রচ্ছন্ন) নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন—মটরগাছের বীজের আকৃতির জন্য দায়ী জিনের দুটি অ্যালিল হলো গোলাকার (R) ও কুঞ্চিত (r)।

মাতা (XX) × পিতা (XY)

পিতার গ্যামেটX (মাতা)X (মাতা)
XXX (কন্যা)XX (কন্যা)
YXY (পুত্র)XY (পুত্র)

সিদ্ধান্ত:
মাতার সব ডিম্বাণুতে X ক্রোমোজোম থাকে, কিন্তু পিতার শুক্রাণু X বা Y—দুই ধরনের হয়। তাই পিতার X বা Y ক্রোমোজোমযুক্ত শুক্রাণুর উপরই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ নির্ভর করে। পুত্র ও কন্যা সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা ৫০% : ৫০%

ধরি,

  • স্বাভাবিক দৃষ্টি (Xᴺ) = প্রকট
  • বর্ণান্ধতা (Xⁿ) = প্রচ্ছন্ন

মাতা (বাহক) = XᴺXⁿ
পিতা (স্বাভাবিক) = XᴺY

চেকারবোর্ড (Punnett Square):

পিতার গ্যামেটXᴺ (মাতা)Xⁿ (মাতা)
XᴺXᴺXᴺ (স্বাভাবিক কন্যা)XᴺXⁿ (বাহক কন্যা)
YXᴺY (স্বাভাবিক পুত্র)XⁿY (বর্ণান্ধ পুত্র)

ফলাফল:

  • পুত্রের ক্ষেত্রে: ৫০% বর্ণান্ধ, ৫০% স্বাভাবিক।
  • কন্যার ক্ষেত্রে: ০% বর্ণান্ধ, ৫০% স্বাভাবিক, ৫০% বাহক।

উত্তর:
পুত্রের বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা = ৫০%
কন্যার বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা = ০%

সুন্দরী গাছ ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ হওয়ায় লবণাক্ত পরিবেশে জন্মায়। এর পাতায় অবস্থিত লবণগ্রন্থি (Salt gland) অতিরিক্ত লবণ শোষণ করে পাতার পৃষ্ঠ দিয়ে বাইরে বের করে দেয়।

ফলে উদ্ভিদের দেহে অতিরিক্ত লবণ জমে ক্ষতি করতে পারে না এবং সুন্দরী গাছ সহজে লবণাক্ত পরিবেশে বেঁচে থাকতে পারে।

(ক) অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি (Overproduction):
প্রতিটি জীব তার বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যায় অপত্য উৎপন্ন করে। কিন্তু খাদ্য, বাসস্থান ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে সব অপত্য বেঁচে থাকতে পারে না।

(খ) প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection):
প্রকৃতিতে পরিবেশের সঙ্গে অধিক উপযোগী জীবগুলি বেঁচে থাকে ও বংশবিস্তার করে, আর কম উপযোগী জীবগুলি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াকেই প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে।

খাদ্যের উৎস দূরে হলে কর্মী মৌমাছি ওয়াগ্ল নৃত্য (Waggle dance) করে। এই নৃত্যে ওয়াগ্ল অংশটি মৌচাকে উল্লম্ব রেখার সঙ্গে যে কোণ সৃষ্টি করে, সেই কোণটি সূর্যের দিকের সঙ্গে খাদ্যের উৎসের কোণের সমান হয়

ফলে অন্যান্য কর্মী মৌমাছি মৌচাক ও সূর্যের সাপেক্ষে খাদ্যের উৎসের দিক ও অবস্থান সহজেই বুঝতে পারে।

মানব স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব: দীর্ঘদিন অতিরিক্ত শব্দের সংস্পর্শে থাকলে শ্রবণশক্তি হ্রাস (বধিরতা) হতে পারে। জীবজগতের ওপর প্রভাব: শব্দদূষণের ফলে পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর স্বাভাবিক যোগাযোগ, প্রজনন ও আচরণ ব্যাহত হয়

১) নৌযান থেকে তেল ও জ্বালানি নিঃসরণ: সুন্দরবনের নদী ও খাঁড়িতে চলাচলকারী মোটরচালিত নৌকা ও জাহাজ থেকে নির্গত তেল, ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি জলে মিশে জলদূষণ ঘটায় এবং জলজ প্রাণীর ক্ষতি করে।

২) কৃষিজ রাসায়নিক পদার্থ: পার্শ্ববর্তী কৃষিজমি থেকে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলে ধুয়ে সুন্দরবনের নদী ও খাঁড়িতে গিয়ে মেশে, যা জলদূষণ ও ইউট্রফিকেশনের কারণ হয়।

৩) গৃহস্থালি ও পর্যটন সংক্রান্ত বর্জ্য: স্থানীয় জনবসতি এবং পর্যটকদের দ্বারা ফেলা প্লাস্টিক, খাদ্য বর্জ্য ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য পদার্থ সুন্দরবনের জলাশয় ও মাটিতে জমা হয়ে দূষণ সৃষ্টি করে।

৪) মাছ ধরা ও চিংড়ি চাষ সংক্রান্ত রাসায়নিক পদার্থ: চিংড়ি চাষের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক ও ওষুধ এবং মাছ ধরার সময় ব্যবহৃত ক্ষতিকর পদার্থ জলে মিশে সুন্দরবনের জলজ পরিবেশ দূষিত করে।

  1. মাটির উর্বরতা হ্রাস পায়, ফলে উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফসল উৎপাদন কমে যায়।
  2. জলাশয়ে ইউট্রোফিকেশন (শৈবালের অতিবৃদ্ধি) ঘটে, ফলে জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গিয়ে জলজ প্রাণীর মৃত্যু হতে পারে।

(ক) কুমির:
বহিঃস্থ (Ex-situ) সংরক্ষণ পদ্ধতিতে কুমির সংরক্ষণ করা হয়। কৃত্রিমভাবে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা বড় করে পরে তাদের প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয় (Crocodile Breeding Project)।

(খ) রেড পাণ্ডা:
অন্তঃস্থ (In-situ) সংরক্ষণ পদ্ধতিতে জাতীয় উদ্যান ও অভয়ারণ্যে তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থানে সংরক্ষণ করা হয়।

উপরের চিত্রে মানুষের একটি স্নায়ুকোশ (নিউরোন) দেখানো হয়েছে, যেখানে চিহ্নিত অংশগুলি হলো—

(ক) সোয়ান কোশ — অ্যাক্সনের চারপাশে মায়েলিন সিদ গঠনকারী বিশেষ কোশ, যা পরিধীয় স্নায়ুতন্ত্রে অ্যাক্সনকে জড়িয়ে থাকে।

(খ) ডেনড্রাইট — সাইটন থেকে উৎপন্ন শাখাপ্রশাখাযুক্ত ক্ষুদ্র প্রবর্ধক, যা অন্য নিউরোন থেকে স্নায়ু সংবেদ গ্রহণ করে সাইটনের দিকে পরিবহণ করে।

(গ) মায়েলিন শিথ — সোয়ান কোশ দ্বারা গঠিত চর্বিযুক্ত আবরণ, যা অ্যাক্সনকে ঘিরে থাকে এবং স্নায়ু উদ্দীপনার দ্রুত সঞ্চালনে সাহায্য করে।

(ঘ) র‍্যানভিয়ারের পর্ব — দুটি সংলগ্ন মায়েলিন সিদের মধ্যবর্তী ফাঁকা অংশ, যেখানে অ্যাক্সন অনাবৃত থাকে এবং যার মাধ্যমে ক্রিয়া বিভব লাফিয়ে লাফিয়ে (স্যল্টেটরি কন্ডাকশন) দ্রুত সঞ্চালিত হয়।

উপরের চিত্রে একটি ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোম (দ্বিক্রোমাটিড অবস্থা) দেখানো হলো, যেখানে চিহ্নিত অংশগুলি হলো—

(ক) ক্রোমাটিড — প্রতিলিপিকরণের পর সৃষ্ট একটি ক্রোমোজোমের দুটি অভিন্ন অর্ধাংশের প্রতিটিকে ক্রোমাটিড বলে, যা সেন্ট্রোমিয়ারের স্থানে পরস্পর যুক্ত থাকে।

(খ) মুখ্য খাঁজ (সেন্ট্রোমিয়ার) — ক্রোমোজোমের সংকীর্ণ অংশ, যা ক্রোমোজোমকে দুটি বাহুতে ভাগ করে এবং দুটি সিস্টার ক্রোমাটিডকে যুক্ত রাখে ও বেমতন্তুর সাথে সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে।

(গ) নিউক্লিওলার অর্গানাইজার — কোনো কোনো ক্রোমোজোমের বাহুতে অবস্থিত গৌণ খাঁজ (secondary constriction), যা নিউক্লিওলাস গঠনে অংশগ্রহণ করে এবং প্রায়শই এর সংলগ্ন একটি ক্ষুদ্র “স্যাটেলাইট” অংশ থাকে।

(ঘ) টেলোমিয়ার — ক্রোমোজোমের বাহুর প্রান্তবর্তী গোলাকার অংশ, যা ক্রোমোজোমের DNA-কে ক্ষয় ও অন্য ক্রোমোজোমের সাথে জোড়া লাগা থেকে রক্ষা করে।

নিউরনের বিভিন্ন অংশের কাজ:

(ক) ডেনড্রন: ডেনড্রনের প্রধান কাজ হলো অন্য নিউরোন বা সংবেদী অঙ্গ থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা (impulse) গ্রহণ করে তা সাইটনের দিকে পরিবহণ করা।

(খ) অ্যাক্সন: অ্যাক্সনের প্রধান কাজ হলো সাইটন থেকে উৎপন্ন স্নায়ু উদ্দীপনাকে দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে অন্য নিউরোন, পেশি বা গ্রন্থি কোশে (কারক অঙ্গে) পরিবহণ করা।

(গ) মায়েলিন শিথ: মায়েলিন শিথের প্রধান কাজ হলো অ্যাক্সনকে তড়িৎ নিরোধক আবরণ দিয়ে ঢেকে রাখা, যার ফলে স্নায়ু উদ্দীপনার দ্রুত ও সঠিক সঞ্চালন সম্ভব হয় এবং অ্যাক্সনও যান্ত্রিক আঘাত থেকে সুরক্ষিত থাকে।

(ঘ) র‍্যানভিয়ারের পর্ব: র‍্যানভিয়ারের পর্বের প্রধান কাজ হলো এই অনাবৃত অংশের মাধ্যমে স্নায়ু উদ্দীপনাকে এক পর্ব থেকে অন্য পর্বে লাফিয়ে লাফিয়ে (স্যল্টেটরি কন্ডাকশন) দ্রুততর গতিতে সঞ্চালিত করা।

(ঙ) সোয়ান কোশ: সোয়ান কোশের প্রধান কাজ হলো অ্যাক্সনের চারদিকে আবর্তিত হয়ে মায়েলিন সিদ গঠন করা, যা স্নায়ু উদ্দীপনার দ্রুত পরিবহণে সাহায্য করে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাক্সনের পুনর্গঠনেও সহায়তা করে।

(ক) ক্রোমাটিড: প্রতিলিপিকরণের পর প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি সমান ও অভিন্ন ক্রোমাটিড দ্বারা গঠিত হয়, যারা সেন্ট্রোমিয়ারের স্থানে পরস্পর যুক্ত থাকে এবং প্রতিটি ক্রোমাটিডে একটি করে DNA অণু থাকে।

(খ) মুখ্য খাঁজ (সেন্ট্রোমিয়ার): এটি ক্রোমোজোমের সংকীর্ণতম অংশ, যা ক্রোমোজোমকে দুটি বাহুতে (arm) বিভক্ত করে এবং এই স্থানেই বেমতন্তু যুক্ত হয়ে কোশবিভাজনকালে ক্রোমোজোমকে মেরুর দিকে টেনে নিয়ে যায়।

(গ) নিউক্লিওলার অর্গানাইজার: এটি ক্রোমোজোমের বাহুতে অবস্থিত একটি গৌণ খাঁজ (secondary constriction), যা নির্দিষ্ট ক্রোমোজোমে দেখা যায় এবং কোশবিভাজনের পর নিউক্লিওলাস পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

(ঘ) স্যাটেলাইট: এটি নিউক্লিওলার অর্গানাইজার অঞ্চলের ঠিক পরেই অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র, গোলাকার অতিরিক্ত অংশ, যা একটি সূক্ষ্ম সুতোর মতো অংশের (secondary constriction) মাধ্যমে মূল ক্রোমোজোম বাহুর সাথে যুক্ত থাকে।

(ঙ) টেলোমিয়ার: এটি ক্রোমোজোমের প্রতিটি বাহুর প্রান্তদেশের বিশেষ গঠন, যা ক্রোমোজোমের DNA-কে অবক্ষয় থেকে রক্ষা করে এবং অন্য কোনো ক্রোমোজোমের সাথে অস্বাভাবিকভাবে জোড়া লাগা প্রতিরোধ করে।

(ক) দ্বিখণ্ডন (Binary fission):
একটি জনিতৃ জীব দুটি সমান অপত্য জীবে বিভক্ত হয়।
উদাহরণ: অ্যামিবা।

(খ) মুকুলোদ্গম (Budding):
জনিতৃ জীবের দেহে একটি মুকুল সৃষ্টি হয়ে পরে পৃথক হয়ে নতুন জীব গঠন করে।
উদাহরণ: ইস্ট বা হাইড্রা।

(গ) খণ্ডীভবন (Fragmentation):
জনিতৃ জীবের দেহ খণ্ডে বিভক্ত হয়ে প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন জীব সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ: স্পাইরোজাইরা।

(ঘ) রেণু সৃষ্টি (Spore formation):
রেণু (স্পোর) উৎপন্ন হয়ে অনুকূল পরিবেশে নতুন জীব সৃষ্টি করে।
উদাহরণ: রাইজোপাস (ব্রেড মোল্ড) বা ফার্ণ।

(ঙ) অঙ্গজ জনন (Vegetative propagation):
উদ্ভিদের অঙ্গ (মূল, কাণ্ড বা পাতা) থেকে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ: আলু (কাণ্ড), আদা (রাইজোম), ব্রায়োফাইলাম (পাতা)।

মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য:

বিষয়মাইটোসিসমিয়োসিস
সংগঠনের স্থানদেহের দৈহিক কোশে (সোমাটিক কোশে) সংঘটিত হয়জননগ্রন্থির (শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়) জননকোশে সংঘটিত হয়
ক্রোমোজোম বিভাজনের প্রকৃতিক্রোমোজোম একবার বিভাজিত হয় এবং অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের সমান (2n → 2n) থাকেক্রোমোজোম দুইবার বিভাজিত হয় (মিয়োসিস I ও II) এবং অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের অর্ধেক (2n → n) হয়ে যায়
উৎপন্ন কোশের সংখ্যাএকটি মাতৃকোশ থেকে দুটি অপত্য কোশ উৎপন্ন হয়একটি মাতৃকোশ থেকে চারটি অপত্য কোশ (গ্যামেট) উৎপন্ন হয়

পাথরকুচির অঙ্গজ বংশবিস্তার:

পাথরকুচি (Bryophyllum) গাছের পাতার প্রান্তদেশের খাঁজে (notches) সুপ্ত মুকুল (bud) অবস্থান করে। উপযুক্ত আর্দ্র পরিবেশে এই খাঁজগুলি থেকে অস্থানিক মূল ও কাণ্ড (adventitious root and shoot) সৃষ্টি হয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নতুন উদ্ভিদ (plantlet) উৎপন্ন হয়। পরিণত হলে এই ক্ষুদ্র উদ্ভিদগুলি মাতৃপাতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মাটিতে পতিত হয় এবং সরাসরি মাটিতে শিকড় বিস্তার করে স্বাধীন ও সম্পূর্ণ নতুন উদ্ভিদে পরিণত হয়। এইভাবে পাথরকুচি গাছে পাতার মাধ্যমে অঙ্গজ জনন সম্পন্ন হয়।

(ক) সন্ধ্যামালতী ফুলে অসম্পূর্ণ প্রকটতা ব্যাখ্যা করো।

ধরি,

  • RR = লাল ফুল
  • rr = সাদা ফুল

P জনু:
RR (লাল) × rr (সাদা)

F₁ জনু:
সব অপত্য Rr = গোলাপি ফুল

এখানে কোনো জিন সম্পূর্ণভাবে অপরটির উপর প্রকট হয় না। ফলে প্রকট ও প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্যের মাঝামাঝি গোলাপি বর্ণ প্রকাশ পায়। একেই অসম্পূর্ণ প্রকটতা (Incomplete Dominance) বলে।

F₂ জনু (Rr × Rr):

Rr
RRR (লাল)Rr (গোলাপি)
rRr (গোলাপি)rr (সাদা)

ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ অনুপাত = ১ : ২ : ১ (লাল : গোলাপি : সাদা)

(খ) হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত মহিলা × স্বাভাবিক পুরুষ (২ নম্বর)

ধরি,

  • আক্রান্ত মহিলা = XʰXʰ
  • স্বাভাবিক পুরুষ = XᴴY

চেকারবোর্ড:

XᴴY
XᴴXʰ (বাহক কন্যা)XʰY (হিমোফিলিয়াগ্রস্ত পুত্র)
XᴴXʰ (বাহক কন্যা)XʰY (হিমোফিলিয়াগ্রস্ত পুত্র)

ফলাফল:

  • সব পুত্রসন্তান = XʰY = হিমোফিলিয়াগ্রস্ত
  • দুটি পুত্রসন্তান হলে উভয়েরই হিমোফিলিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা = ১০০%

(ক) মেন্ডেলের দ্বিসংকর জনন থেকে প্রাপ্ত সূত্র

স্বাধীন সঞ্চরণ সূত্র (Law of Independent Assortment):

বিবৃতি:
দুই বা ততোধিক জোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্যের জিন গ্যামেট গঠনের সময় একে অপরের থেকে স্বাধীনভাবে পৃথক ও সঞ্চারিত হয় এবং একটি জোড়ার সঞ্চারণ অন্য জোড়ার সঞ্চারণকে প্রভাবিত করে না।

(খ) F₂ জনুতে উৎপন্ন ফিনোটাইপ, অনুপাত ও জিনোটাইপ

P জনু:

  • TTRR (বিশুদ্ধ দীর্ঘ, গোলাকার)
  • ttrr (বিশুদ্ধ খর্ব, কুঞ্চিত)

F₁ জনু:

  • TtRr (সবই দীর্ঘ ও গোলাকার)

F₂ জনু (TtRr × TtRr):

ফিনোটাইপফিনোটাইপিক অনুপাতসংশ্লিষ্ট জিনোটাইপ
দীর্ঘ ও গোলাকার9TTRR, TTRr, TtRR, TtRr
দীর্ঘ ও কুঞ্চিত3TTrr, Ttrr
খর্ব ও গোলাকার3ttRR, ttRr
খর্ব ও কুঞ্চিত1ttrr

অতএব, F₂ জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত = ৯ : ৩ : ৩ : ১।

(ক) জীবনের জৈব-রাসায়নিক উৎপত্তি সংক্রান্ত মিলার ও উরের পরীক্ষা ও এর তাৎপর্য (৩ নম্বর)

মিলার ও উরের পরীক্ষা:

১৯৫৩ সালে স্ট্যানলি মিলারহ্যারল্ড উরে একটি কাচের যন্ত্রে আদিম পৃথিবীর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। এতে মিথেন (CH₄), অ্যামোনিয়া (NH₃), হাইড্রোজেন (H₂)জলীয় বাষ্প (H₂O) ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুৎ স্ফুলিঙ্গের মাধ্যমে বজ্রপাতের পরিবেশ সৃষ্টি করে কয়েকদিন পরীক্ষা চালানো হয়।

পরীক্ষার শেষে দেখা যায় যে অ্যামাইনো অ্যাসিডসহ বিভিন্ন সরল জৈব যৌগ তৈরি হয়েছে।

তাৎপর্য:

এই পরীক্ষা প্রমাণ করে যে আদিম পৃথিবীর পরিবেশে অজৈব পদার্থ থেকে জৈব পদার্থ স্বাভাবিকভাবেই সৃষ্টি হতে পারে, যা জীবনের জৈব-রাসায়নিক উৎপত্তি (ওপারিন–হ্যালডেন মতবাদ)-কে সমর্থন করে।

(খ) নিম্নলিখিত শব্দ দুটি ব্যাখ্যা করো (২ নম্বর)

১. গরম তরল স্যুপ (Hot Dilute Soup):

আদিম পৃথিবীর সমুদ্রে বিভিন্ন সরল জৈব যৌগের উষ্ণ ও পাতলা জলীয় মিশ্রণকে গরম তরল স্যুপ (Hot Dilute Soup) বলা হয়। এখান থেকেই পরবর্তীতে জটিল জৈব পদার্থের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হয়।

২. কোয়াসারভেট (Coacervate):

প্রোটিন ও অন্যান্য জৈব অণুর সমন্বয়ে গঠিত ঝিল্লিবিহীন ক্ষুদ্র গোলাকার কণাকে কোয়াসারভেট বলে। এগুলিকে জীবনের আদিম পূর্বসূরি (Protobiont) হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

(ক) শিম্পাঞ্জির খাদ্যসংগ্রহ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের দুটি কৌশল

  1. লাঠি বা ডাল ব্যবহার: শিম্পাঞ্জি সরু কাঠি বা ডাল ব্যবহার করে উইপোকার ঢিবি বা গাছের গর্ত থেকে উইপোকা/পোকামাকড় বের করে খায়।
  2. বাক্স স্তূপ করে খাদ্য সংগ্রহ: উঁচুতে ঝোলানো খাবার পেতে শিম্পাঞ্জি একটির ওপর আরেকটি বাক্স সাজিয়ে তার উপর উঠে খাবার সংগ্রহ করে।

(খ) জিরাফের গ্রীবা লম্বা হওয়ার ঘটনা ডারউইনের তত্ত্বের সাহায্যে ব্যাখ্যা

ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব অনুযায়ী—

  1. প্রকরণ (Variation): প্রাচীন জিরাফদের মধ্যে গলার দৈর্ঘ্যে স্বাভাবিক পার্থক্য ছিল; কারও গলা কিছুটা লম্বা, কারও ছোট।
  2. জীবনসংগ্রাম (Struggle for existence): খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতায় লম্বা গলার জিরাফরা উঁচু গাছের পাতা সহজে খেতে পারত, তাই তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বেশি ছিল।
  3. প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural selection): লম্বা গলার জিরাফরা বেশি বংশবিস্তার করায় এই বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। বহু প্রজন্ম পরে বর্তমানের লম্বা গলার জিরাফের উদ্ভব হয়েছে।

বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন (N₂)

নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ

অ্যামোনিয়া / অ্যামোনিয়াম (NH₃ / NH₄⁺)

নাইট্রিফিকেশন

নাইট্রাইট (NO₂⁻)

নাইট্রেট (NO₃⁻)

উদ্ভিদ গ্রহণ → প্রাণীদেহে প্রবেশ

মৃতদেহ ও বর্জ্য

অ্যামোনিফিকেশন

অ্যামোনিয়া (NH₃)

ডিনাইট্রিফিকেশন

বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন (N₂)

(খ) বায়ুদূষণকারী ভাসমান কণা ও গ্রিনহাউস গ্যাসের দুটি করে উৎস

দূষকউৎস (যে কোনো দুটি)
ভাসমান কণা (Particulate Matter)১. যানবাহনের ধোঁয়া ২. ইটভাটা/কারখানার ধোঁয়া
গ্রিনহাউস গ্যাস১. জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, পেট্রোল, ডিজেল) পোড়ানো ২. বন উজাড় ও শিল্পকারখানা থেকে নির্গমন

১. খাদ্য সংকট:
জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্যের চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কিন্তু কৃষিজমি সীমিত হওয়ায় খাদ্য উৎপাদন সেই হারে বাড়ে না। ফলে খাদ্যাভাব, অপুষ্টি এবং খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি দেখা দেয়।

২. বাসস্থান ও নগরায়ণের সমস্যা:
অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে বাসস্থানের চাহিদা বেড়ে যায়। এর ফলে কৃষিজমি ও বনভূমি দখল করে বসতি গড়ে ওঠে, বস্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ ঘটে।

৩. বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বৃদ্ধি:
জনসংখ্যা বৃদ্ধির তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ কম থাকায় বেকারত্ব বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দারিদ্র্য, অপরাধপ্রবণতা ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে।

৪. প্রাকৃতিক সম্পদের সংকট ও পরিবেশের অবনতি:
বনভূমি, জল, খনিজ, জ্বালানি ইত্যাদি প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে বন উজাড়, মাটির অবক্ষয়, জলসংকট এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

৫. দূষণ ও জীববৈচিত্র্যের হ্রাস:
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে শিল্পায়ন, যানবাহন এবং বর্জ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বায়ু, জল ও মাটি দূষিত হয়। পাশাপাশি বনভূমি ধ্বংস ও আবাসস্থল নষ্ট হওয়ায় বহু উদ্ভিদ ও প্রাণী বিলুপ্তির মুখে পড়ে এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস পায়।

(ক) জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ (৩ নম্বর)

১. বাসস্থান ধ্বংস (Habitat Destruction):
বন উজাড়, নগরায়ণ, শিল্পায়ন, কৃষিজমির সম্প্রসারণ ইত্যাদির ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংস হয়। ফলে বহু জীব খাদ্য ও আশ্রয় হারিয়ে বিলুপ্তির মুখে পড়ে।

২. চোরাশিকার (Poaching):
হাতির দাঁত, গন্ডারের শিং, বাঘের চামড়া, হরিণের মাংস ইত্যাদির জন্য অবৈধভাবে প্রাণী শিকার করা হয়। এর ফলে বহু বিরল ও বিপন্ন প্রাণীর সংখ্যা দ্রুত কমে যায় এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাস পায়।

৩. দূষণ (Pollution):
বায়ু, জল ও মাটি দূষণের ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বিষাক্ত রাসায়নিক, কীটনাশক ও শিল্পবর্জ্যের কারণে অনেক জীব মারা যায় এবং খাদ্যশৃঙ্খলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

(খ) জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট (JFM)-এর ভূমিকা (২ নম্বর)

জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট (JFM) হলো বনদপ্তর ও স্থানীয় জনগণের যৌথ উদ্যোগে বন সংরক্ষণ ও বনসম্পদ ব্যবস্থাপনার একটি পদ্ধতি।

ভূমিকা:

  • স্থানীয় জনগণকে বন সংরক্ষণে অংশগ্রহণ করিয়ে অবৈধ বৃক্ষচ্ছেদন ও চোরাশিকার কমানো হয়।
  • বন পুনরুদ্ধার, বনসৃজন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

(ক) সুন্দরবনে খাদ্য–খাদকের সংখ্যাগত ভারসাম্যের ব্যাঘাত

সুন্দরবনে খাদ্য ও খাদকের সংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হলে বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। উদাহরণ—

  1. রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কমে গেলে হরিণ ও বন্য শূকরের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, ফলে বনজ উদ্ভিদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।
  2. হরিণের সংখ্যা কমে গেলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের খাদ্যের অভাব হয়। ফলে বাঘ লোকালয়ে প্রবেশ করে গবাদি পশু বা মানুষের ওপর আক্রমণ করতে পারে।
  3. মাছভুক পাখি বা কুমিরের সংখ্যা কমে গেলে মাছের কিছু প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে যায়, যার ফলে জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য নষ্ট হয়।

(খ) বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের গঠনগত অংশ ও একটি উদাহরণ

বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভের গঠনগত অংশ:

  1. কোর অঞ্চল (Core Zone)
  2. বাফার অঞ্চল (Buffer Zone)
  3. ট্রানজিশন বা ম্যানিপুলেশন অঞ্চল (Transition Zone)

উদাহরণ: সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (পশ্চিমবঙ্গ)।


Share This Awesome Post 😊

Leave a Comment