Madhyamik 2024 Geography Question Paper Solved PDF Download
তোমরা যারা মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এবং ভূগোল বিষয়ে ভালো নম্বর পেতে চাও, তাদের জন্য আজকের এই পোস্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পোস্টে আমরা তোমাদের সঙ্গে শেয়ার করছি Madhyamik 2024 Geography Question Paper Solved PDF Download, যেখানে প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক ও সম্পূর্ণ উত্তর ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করে দেওয়া হয়েছে। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করার মাধ্যমে তোমরা সহজেই বুঝতে পারবে বোর্ড পরীক্ষায় কীভাবে প্রশ্ন আসে এবং কোন ধরনের উত্তর লিখলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া সম্ভব।
মাধ্যমিক ২০২৪ ভূগোল প্রশ্নপত্রের সমাধান পিডিএফ ডাউনলোড করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তোমরা অফলাইনেও যেকোনো সময় এই সমাধানগুলো পড়ে প্রস্তুতি নিতে পারবে। বিশেষ করে যারা পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে দ্রুত রিভিশন দিতে চাও, তাদের জন্য এই Question With Answer PDF একটি আদর্শ রিসোর্স হতে পারে।
নিচে আমরা সম্পূর্ণ মাধ্যমিক ২০২৪ ভূগোল প্রশ্ন উত্তর ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরেছি, যাতে তোমরা প্রতিটি বিভাগ (MCQ, অতিসংক্ষিপ্ত, সংক্ষিপ্ত, রচনাধর্মী প্রশ্ন) আলাদা আলাদাভাবে বুঝে নিতে পারো। Madhyamik 2024 Geography প্রশ্নপত্রের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভূগোলের প্রতিটি অধ্যায় থেকেই প্রশ্ন এসেছিল, তাই সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্রটি ভালোভাবে সমাধান করলে পরীক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।
মাধ্যমিক ২০২৪ ভূগোল প্রশ্নের সমাধান | Madhyamik 2024 Geography Question Paper Solved PDF Download
বিভাগ ‘ক’
১। বিকল্পগুলির থেকে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে লেখো : (১ × ১৪ = ১৪)
১.১ একটি বহির্জাত প্রক্রিয়ার উদাহরণ হলো–
(ক) ভূমিকম্প
(খ) অগ্নুৎপাত
(গ) পাত সঞ্চালন
(ঘ) আবহবিকার
উত্তর: (ঘ) আবহবিকার
১.২ পার্বত্য হিমবাহের শীর্ষদেশে হিমবাহ ও পর্বত গাত্রের মধ্যে সঙ্কীর্ণ ও গভীর ফাটলগুলিকে বলে –
(ক) বার্গস্রুন্ড
(খ) ক্রেভাস
(গ) অ্যারেট
(ঘ) সার্ক
উত্তর: (ক) বার্গস্রুন্ড
১.৩ বায়ুমন্ডলের যে স্তরে আবহাওয়ার গোলযোগ দেখা যায় সেই স্তরটি হলো –
(ক) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
(খ) মেসোস্ফিয়ার
(গ) ট্রপোস্ফিয়ার
(ঘ) আয়নোস্ফিয়ার
উত্তর: (গ) ট্রপোস্ফিয়ার
১.৪ বৈপরীত্য উত্তাপ সংঘটিত হয়, যখন –
(ক) উচ্চতা বৃদ্ধিতে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়
(খ) উচ্চতা বৃদ্ধিতে উষ্ণতা হ্রাস পায়
(গ) উচ্চতা বৃদ্ধি বা হ্রাসে উয়তা অপরিবর্তিত থাকে
(ঘ) অক্ষাংশের মান বৃদ্ধিতে উয়তা বৃদ্ধি পায়
উত্তর: (ক) উচ্চতা বৃদ্ধিতে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়
১.৫ ভূপৃষ্ঠের কোনো একটি স্থানের জোয়ারের সঙ্গে ভাটার সময়ের পার্থক্য হলো – –
(ক) ৬ ঘন্টা
(খ) ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট
(গ) ৬ ঘন্টা ৩০ মিনিট
(ঘ) ৬ ঘন্টা ৪৫ মিনিট
উত্তর: (খ) ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট
১.৬. সমুদ্রের যে স্থানে উষ্ণ ও শীতল স্রোত উভয়ে মিলিত হয় তাকে বলে –
(ক) হিমানী সম্প্রপাত
(খ) হিমশৈল
(গ) হিমপ্রাচীর
(ঘ) হিমগুল্ম
উত্তর: (গ) হিমপ্রাচীর
১.৭ বিষাক্ত নয় এমন একটি বর্জ্য পদার্থের উদাহরণ হলো –
(ক) ধানের খোসা
(খ) ফ্লাই অ্যাশ
(গ) পলিথিন
(ঘ) ক্যাডমিয়াম
উত্তর: (ক) ধানের খোসা
১.৮ ভারতের উত্তরের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত একটি লবণাক্ত হ্রদের নাম হলো–
(ক) ডাল হ্রদ
(খ) নৈনিতাল
(গ) উলার হ্রদ
(ঘ) প্যাংগং হ্রদ
উত্তর: (ঘ) প্যাংগং হ্রদ
১.৯ ভারতের একটি মুখ্য বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল হলো—
(ক) শিলং মালভূমি
(খ) হিমালয়ের পাদদেশ অঞ্চল
(গ) পূর্বঘাট পর্বতের পূর্ব ঢাল
(ঘ) ছোটোনাগপুর মালভূমি
উত্তর: (ক) শিলং মালভূমি
১.১০ ব্যাসল্ট শিলার আবহবিকারের ফলে সৃষ্ট মৃত্তিকা হলো–
(ক) লোহিত মৃত্তিকা
(খ) পলি মৃত্তিকা
(গ) কৃষ্ণ মৃত্তিকা
(ঘ) ল্যাটেরাইট মৃত্তিকা
উত্তর: (গ) কৃষ্ণ মৃত্তিকা
১.১১ ভারতের কেন্দ্রীয় কার্পাস গবেষণা কেন্দ্রটি অবস্থিত –
(ক) লক্ষ্ণৌ
(খ) নাগপুর
(গ) কটক
(ঘ) মুম্বই
উত্তর: (খ) নাগপুর
১.১২ বনজভিত্তিক শিল্পের একটি উদাহরণ হলো –
(ক) কাগজ শিল্প
(খ) লৌহ-ইস্পাত শিল্প
(গ) দোহন শিল্প
(ঘ) পেট্রোরসায়ন শিল্প
উত্তর: (ক) কাগজ শিল্প
১.১৩ ‘ভারতের ডেট্রয়েট’ বলে পরিচিত –
(ক) জামশেদপুর
(খ) আহমেদাবাদ
(গ) পুনে
(ঘ) চেন্নাই
উত্তর: (ঘ) চেন্নাই
১.১৪ উপগ্রহ চিত্রে নদী ও জলাশয় যে রং–এর সাহায্যে নির্দেশ করা হয় তা হলো –
(ক) সবুজ
(খ) লাল
(গ) গাঢ় নীল
(ঘ) হলুদ
উত্তর: (গ) গাঢ় নীল
বিভাগ ‘খ’
২। ২.১ নিম্নলিখিত বাক্যগুলি শুদ্ধ হলে পাশে শু’ এবং অশুদ্ধ হলে পাশে ‘অ’ লেখো : (যে কোনো ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দাও) (১ × ৬ = ৬)
২.১.১ নদীর উৎস অঞ্চলে ধারণ অববাহিকা সৃষ্টি হয়।
উত্তর: শু
২.১.২ ঝুলন্ত উপত্যকা নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত হয়।
উত্তর: অ
২.১.৩ সমুদ্র বায়ু সন্ধ্যাবেলায় প্রবাহিত হয় ।
উত্তর: অ
২.১.৪ হিমালয়ের দুটি উল্লেখযোগ্য উদ্ভিদ হলো গরান ও গোলপাতা ।
উত্তর: অ
২.১.৫ গোদাবরী নদী গ্রস্ত উপত্যকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
উত্তর: অ
২.১.৬ আর্সেনিক একটি বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থ ।
উত্তর: শু
২.১.৭ মহাকাশে প্রেরিত ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহের নাম অ্যাপেলো।
উত্তর: অ
২. ২. উপযুক্ত শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করে। (যে কোনো ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দাও) : (১ × ৬ = ৬)
২.২.১ প্রপাতকূপ (প্রাগুপুল) সৃষ্টি হয় _______এর পাদদেশে।
উত্তর: জলপ্রপাত
২.২.২ বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত বিক্ষিপ্ত হয় _______ শক্তির প্রভাবে।
উত্তর: কোরিওলিস
২.২.৩ নিরক্ষীয় অঞ্চলে_______ধরনের বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
উত্তর: পরিচলন
২.২.৪ শীতল_______ স্রোতের প্রভাবে নিউফাউন্ডল্যান্ড অঞ্চলে শীতকালে তুষারপাত হয় ৷
উত্তর: ল্যাব্রাডর
২.২.৫ ব্যবহৃত ইম্প্লেকশন সিরিঞ্জ একটি _______বর্জ্য ।
উত্তর: সংক্রামক
২.২.৬ ন্যাপথা _______শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ।
উত্তর: পেট্রোকেমিক্যাল
২.২.৭ ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের আদমসুমারি অনুসারে ভারতে সর্বনিম্ন জনঘনত্ব সম্পন্ন রাজ্যটি হল_______।
উত্তর: অরুণাচল প্রদেশ
২.৩ একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও (যে কোনো ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দাও) (১ × ৬ = ৬)
২.৩.১ চুনাপাথরযুক্ত অঞ্চলে নদীর ক্ষয়কার্যে কোন প্রক্রিয়ার প্রাধা দেখা যায় ?
উত্তর: দ্রবণ
২.৩.২ বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে মেরুপ্রভা দেখা যায় ?
উত্তর: থার্মোস্ফিয়ার / আয়নোস্ফিয়ার
২.৩.৩ কোন মহাসাগরে ঋতু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রস্রোতের দিক পরিবর্তিত হয় ?
উত্তর: ভারত মহাসাগর
২.৩.৪ কর্ণাটকের ব্যবচ্ছিন্ন মালভূমির নাম
উত্তর: মালনাদ
২.৩.৫ কোন শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২০২০ খ্রিস্টাব্দে দক্ষিণবঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ?
উত্তর: আমফান
২.৩.৬ শ্বাসমূল কোন জাতীয় উদ্ভিে একটি বৈশিষ্ট্য ?
উত্তর: লবণাম্বু / ম্যানগ্রোভ
২.৩.৭ খনিজ তেল ও স্বাভাবিক গ্যাস বহনে কোন পরিবহন মাধ্যম খুবই উপযোগী ? জানা
উত্তর: নলপথ / পাইপ লাইন
২.৩.৮ ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে যে কাল্পনিক রেখার সাহায্যে ভূমির উচ্চতা দেখানো হয় তার নাম লেখো ।
উত্তর: সমোন্নতি রেখা
২.৪. বামদিকের সঙ্গে ডানদিকের গুলি মিলিয়ে লেখো : ১ × ৪ = ৪
| বামদিক | ডানদিক |
| ২.৪.১ কাশ্মীর উপত্যকা | ১। আল্পীয় উদ্ভিদ |
| ২.৪.২ লুনি নদী | ২। সংকর ইস্পাত কেন্দ্র |
| ২.৪.৩ রডোডেনড্রন | ৩। জাফরান |
| ২.৪.৪ সালেম | ৪। রাজস্থান |
উত্তরঃ
| বামদিক | ডানদিক |
| ২.৪.১ কাশ্মীর উপত্যকা | ৩। জাফরান |
| ২.৪.২ লুনি নদী | ৪। রাজস্থান |
| ২.৪.৩ রডোডেনড্রন | ১। আল্পীয় উদ্ভিদ |
| ২.৪.৪ সালেম | ২। সংকর ইস্পাত কেন্দ্র |
বিভাগ ‘গ’
৩. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়) : ২ x ৬ = ১২
৩.১ নগ্নীভবনের সংজ্ঞা দাও ।
উত্তর:
আবহবিকার, পুঞ্জিত ক্ষয় এবং নদী, বায়ু, হিমবাহ প্রভৃতি বহির্জাত শক্তির ক্ষয়কার্যের ফলে ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তর ক্রমশ উন্মুক্ত ও অনাবৃত হয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে নগ্নীভবন (Denudation) বলে।
সংক্ষেপে: আবহবিকার + পুঞ্জিত ক্ষয় + ক্ষয়কার্য (নদী/বায়ু/হিমবাহ দ্বারা) = নগ্নীভবন, যার ফলে ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগ ক্রমশ অনাবৃত হয়ে পড়ে।
অথবা,
কার্যকারী সৌর বিকিরণ বলতে কী বোঝো ?
উত্তর:
সূর্য থেকে বিকিরিত মোট সৌর শক্তির মধ্যে যে অংশটুকু বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সরাসরি পৃথিবীপৃষ্ঠে এসে পৌঁছায় এবং উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষ (photosynthesis), বায়ুমণ্ডল ও ভূপৃষ্ঠের উত্তাপ বৃদ্ধি প্রভৃতি কার্যে ব্যবহৃত হয়, তাকে কার্যকরী সৌর বিকিরণ (Effective/Active Solar Radiation) বলে।
ব্যাখ্যা: সূর্য থেকে নির্গত সৌর বিকিরণের একটি বড় অংশ বায়ুমণ্ডলে প্রতিফলিত, বিক্ষিপ্ত বা শোষিত হয়ে যায় (মেঘ, ধূলিকণা, ওজোন স্তর দ্বারা), আর বাকি যে অংশ ভূপৃষ্ঠে পৌঁছে বাস্তবে কাজে লাগে (যেমন উষ্ণতা বৃদ্ধি, উদ্ভিদের বৃদ্ধি), সেটিই কার্যকরী সৌর বিকিরণ।
৩.২ আপেক্ষিক আর্দ্রতার সংজ্ঞা দাও ।
উত্তর:
নির্দিষ্ট উষ্ণতায় নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প প্রকৃতপক্ষে উপস্থিত থাকে এবং ওই একই উষ্ণতায় ওই আয়তনের বায়ু সর্বোচ্চ যে পরিমাণ জলীয় বাষ্প ধারণ করতে সক্ষম, তাদের অনুপাতকে শতকরা হারে প্রকাশ করা হলে তাকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity) বলে।
সূত্র:
একক: শতকরা (%)
উদাহরণ: সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা ১০০% হয়।
অথবা,
অ্যাপোজি জোয়ার বলতে কী বোঝো ?
উত্তর:
চাঁদ যখন পৃথিবী থেকে তার সর্বাধিক দূরত্বে (প্রায় ৪,০৬,০০০ কিমি) অবস্থান করে, তখন চাঁদের আকর্ষণ শক্তি কমে যায় এবং সেই সময় যে অস্বাভাবিক ক্ষীণ জোয়ার সৃষ্টি হয়, তাকে অ্যাপোজি জোয়ার (Apogean Tide) বলে।
ব্যাখ্যা: চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে উপবৃত্তাকার (elliptical) কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করে, যার ফলে কখনো চন্দ্র পৃথিবীর নিকটতম বিন্দুতে (পেরিজি) এবং কখনো দূরতম বিন্দুতে (অ্যাপোজি) অবস্থান করে। অ্যাপোজি অবস্থানে চন্দ্র পৃথিবী থেকে দূরে থাকায় মহাকর্ষীয় আকর্ষণ কম হয়, ফলে জোয়ারের প্রাবল্য বা উচ্চতা তুলনামূলকভাবে কম হয়।
বিপরীত ধারণা: চন্দ্র যখন পৃথিবীর নিকটতম অবস্থানে (পেরিজি) থাকে, তখন সংঘটিত জোয়ারকে পেরিজি জোয়ার (Perigean Tide) বলে, যা তুলনামূলকভাবে বেশি উচ্চতাবিশিষ্ট হয়।
৩.৩ কঠিন বর্জ্য পদার্থের সংজ্ঞা দাও ।
উত্তর:
গৃহস্থালি, কল-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা কৃষিকাজ থেকে উৎপন্ন যে সমস্ত অপ্রয়োজনীয়, ব্যবহারের অযোগ্য বা পরিত্যক্ত কঠিন পদার্থ (তরল বা গ্যাসীয় নয়) মানুষ ফেলে দেয়, তাকে কঠিন বর্জ্য পদার্থ (Solid Waste) বলে।
উদাহরণ: পুরাতন কাগজ, প্লাস্টিক, কাচ, ধাতব দ্রব্য, শাকসবজির খোসা, নির্মাণ সামগ্রীর অবশিষ্টাংশ ইত্যাদি।
শ্রেণিবিভাগ: কঠিন বর্জ্যকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা হয়—
- জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য (Biodegradable Waste): যেমন সবজির খোসা, কাগজ
- জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য (Non-biodegradable Waste): যেমন প্লাস্টিক, কাচ, ধাতু
অথবা,
বর্জ্যের পৃথকীকরণ কী ?
উত্তর:
বিভিন্ন উৎস থেকে সংগৃহীত মিশ্র বর্জ্য পদার্থকে তার প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পৃথক পৃথক শ্রেণিতে (যেমন—জৈব ভঙ্গুর, জৈব অভঙ্গুর, বিষাক্ত, পুনর্ব্যবহারযোগ্য ইত্যাদি) ভাগ করার প্রক্রিয়াকে বর্জ্যের পৃথকীকরণ (Waste Segregation) বলে।
উদাহরণ:
- সবুজ ডাস্টবিন: জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য (সবজির খোসা, রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট)
- নীল ডাস্টবিন: জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য (প্লাস্টিক, কাচ, ধাতু)
গুরুত্ব: বর্জ্য পৃথকীকরণের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহারযোগ্য দ্রব্য সহজে চিহ্নিত করা যায়, বিষাক্ত বর্জ্য পৃথকভাবে সঠিক পদ্ধতিতে নিষ্কাশন করা যায়, এবং সামগ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া অধিক কার্যকর ও পরিবেশবান্ধব হয়।
৩.৪ কয়াল বলতে কী বোঝো ?
উত্তর:
কেরালার মালাবার উপকূল অঞ্চলে সমুদ্র থেকে বালুকাবাঁধ (sand bar/spit) দ্বারা বিচ্ছিন্ন হয়ে সৃষ্ট লম্বাটে ও অগভীর লবণাক্ত জলাশয় বা উপহ্রদকে স্থানীয় ভাষায় কয়াল (Kayal) বলে।
বৈশিষ্ট্য:
- এগুলি মূলত সমুদ্র উপকূল বরাবর বালুকাবাঁধ দ্বারা সৃষ্ট লেগুন বা ব্যাকওয়াটার
- জলে সামুদ্রিক ও নদীর মিষ্টি জল উভয়ই মিশ্রিত থাকে
- নৌপরিবহন, মৎস্যচাষ ও পর্যটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
উদাহরণ: কেরালার বিখ্যাত ভেম্বানাদ কয়াল (Vembanad Kayal) ভারতের দীর্ঘতম হ্রদ/উপহ্রদ, যা “কেরালার ব্যাকওয়াটার” নামে পরিচিত পর্যটন কেন্দ্র।
অথবা,
কোন দুইটি নদী মিলিত হয়ে গঙ্গানদীর সৃষ্টি করেছে?
উত্তর:
উত্তরাখণ্ডের দেবপ্রয়াগে (Devprayag) দুটি নদী মিলিত হয়ে গঙ্গা নদীর সৃষ্টি করেছে:
১) ভাগীরথী (Bhagirathi): গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়।
২) অলকানন্দা (Alaknanda): সাতোপন্থ হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়।
এই দুটি নদী দেবপ্রয়াগে মিলিত হয়ে গঙ্গা নামে প্রবাহিত হয় এবং পরবর্তীতে সমভূমি অঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।
৩.৫ বহুমুখী নদী পরিকল্পনার সংজ্ঞা দাও ।
উত্তর:
কোনো একটি নদীর জলকে একই সঙ্গে একাধিক উদ্দেশ্যে (যেমন—জলসেচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নৌ চলাচল, মৎস্যচাষ, পানীয় জল সরবরাহ প্রভৃতি) ব্যবহারের লক্ষ্যে নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে যে পরিকল্পিত প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, তাকে বহুমুখী নদী পরিকল্পনা (Multipurpose River Valley Project) বলে।
উদাহরণ: দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা (DVC), ভাকরা-নাঙ্গাল পরিকল্পনা, হিরাকুঁদ পরিকল্পনা, নাগার্জুন সাগর পরিকল্পনা প্রভৃতি ভারতের উল্লেখযোগ্য বহুমুখী নদী পরিকল্পনার উদাহরণ।
অথবা,
শিকড় আলগা শিল্প বলতে কি বোঝো ?
উত্তর:
যে শিল্প স্থাপনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট কাঁচামাল, শক্তির উৎস বা বাজারের উপর সরাসরি নির্ভরশীলতা থাকে না এবং যা যেকোনো স্থানে অপেক্ষাকৃত সহজেই স্থাপন করা যায়, তাকে শিকড় আলগা শিল্প (Footloose Industry) বলে।
বৈশিষ্ট্য:
- এই শিল্পে ভারী কাঁচামালের প্রয়োজন হয় না, বরং হালকা ও স্বল্প পরিমাণ কাঁচামাল ব্যবহৃত হয়
- পরিবহন খরচ তুলনামূলকভাবে কম হয় বলে কাঁচামাল বা বাজারের নিকটবর্তী হওয়ার প্রয়োজন হয় না
- দক্ষ শ্রমিক, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত সুবিধার উপর বেশি নির্ভরশীল
- সহজে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত করা যায়
উদাহরণ: ইলেকট্রনিক্স শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি (IT) শিল্প, সফটওয়্যার শিল্প, গহনা তৈরির শিল্প প্রভৃতি শিকড় আলগা শিল্পের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
৩.৬ দূর সংবেদনের সংজ্ঞা দাও ।
উত্তর:
কোনো বস্তুর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন না করে দূর থেকে বস্তুর দ্বারা প্রতিফলিত বা বিকিরিত তড়িৎচুম্বকীয় শক্তি বিশ্লেষণ করে সেই বস্তু সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে দূর সংবেদন (Remote Sensing) বলে।
উদাহরণ: উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে ভূমি, জলাশয়, বনভূমি ইত্যাদির তথ্য সংগ্রহ।
অথবা,
জিও স্টেশনারি উপগ্রহ বলতে কী বোঝো ?
উত্তর:
যে কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর বিষুবরেখা বরাবর প্রায় ৩৬,০০০ কিমি উচ্চতায় স্থাপিত হয়ে পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তনের গতিবেগ ও দিকের সাথে সমান গতিতে ও একই দিকে প্রদক্ষিণ করে, ফলে পৃথিবী থেকে দেখলে উপগ্রহটিকে সবসময় আকাশের একই স্থানে স্থির অবস্থায় থাকতে দেখা যায়, তাকে জিও স্টেশনারি উপগ্রহ (Geostationary Satellite) বলে।
বৈশিষ্ট্য:
- এই উপগ্রহের প্রদক্ষিণকাল পৃথিবীর আবর্তনকালের (২৪ ঘণ্টা) সমান
- সর্বদা বিষুবরেখার সমতলে অবস্থান করে
- পৃথিবী থেকে আপাতদৃষ্টিতে স্থির মনে হয় বলে যোগাযোগ ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী
উদাহরণ: ভারতের INSAT (Indian National Satellite) সিরিজের উপগ্রহগুলি জিও স্টেশনারি উপগ্রহের উদাহরণ, যা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হয়।
বিভাগ ‘ঘ’
৪. সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যামূলক উত্তর দাও (বিকল্প প্রশ্নগুলি লক্ষণীয়) : (৩ × ৪ = ১২)
৪.১ হিমরেখার উচ্চতা সর্বত্র এবং সব ঋতুতে সমান হয় না কেন ?
উত্তর:
যে উচ্চতায় সারাবছর বরফ গলে না এবং স্থায়ী তুষার দেখা যায়, সেই সীমারেখাকে হিমরেখা (Snow Line) বলে। হিমরেখার উচ্চতা সর্বত্র ও সব ঋতুতে সমান হয় না, কারণ—
১. অক্ষাংশের প্রভাব:
মেরু অঞ্চলে সূর্যরশ্মির তির্যক পতনের কারণে তাপমাত্রা কম থাকে, তাই হিমরেখা সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। নিরক্ষরেখার দিকে তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় হিমরেখা অনেক উঁচুতে অবস্থান করে।
২. তাপমাত্রার পার্থক্য:
গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় বরফ গলার পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং হিমরেখা উপরে উঠে যায়। শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকায় হিমরেখা নিচে নেমে আসে।
৩. বৃষ্টিপাত ও স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থার প্রভাব:
যেসব অঞ্চলে তুষারপাত বেশি হয় সেখানে হিমরেখা নিচু হয়, আবার কম তুষারপাতযুক্ত অঞ্চলে হিমরেখা উঁচুতে থাকে।
সুতরাং, অক্ষাংশ, ঋতু পরিবর্তন, তাপমাত্রা ও তুষারপাতের তারতম্যের কারণে হিমরেখার উচ্চতা সর্বত্র ও সব ঋতুতে সমান হয় না।
অথবা
ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য লেখো ।
উত্তর:
ঘূর্ণবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের মধ্যে পার্থক্য:
| বিষয় | ঘূর্ণবাত (Cyclone) | প্রতীপ ঘূর্ণবাত (Anticyclone) |
|---|---|---|
| ১) বায়ুচাপ | কেন্দ্রে নিম্নচাপ ও চারিদিকে ক্রমশ উচ্চচাপ বিরাজ করে | কেন্দ্রে উচ্চচাপ ও চারিদিকে ক্রমশ নিম্নচাপ বিরাজ করে |
| ২) বায়ুপ্রবাহের দিক (উত্তর গোলার্ধ) | বায়ু কেন্দ্রের দিকে প্রবাহিত হয়ে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে আবর্তিত হয় | বায়ু কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে প্রবাহিত হয়ে ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তিত হয় |
| ৩) বায়ুপ্রবাহের দিক (দক্ষিণ গোলার্ধ) | বায়ু ঘড়ির কাঁটার দিকে আবর্তিত হয় | বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে আবর্তিত হয় |
| ৪) আবহাওয়া | মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, প্রবল বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো আবহাওয়া সৃষ্টি হয় | পরিষ্কার আকাশ, শুষ্ক ও স্থিতিশীল আবহাওয়া বিরাজ করে |
| ৫) বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ | বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ অত্যন্ত তীব্র হয় | বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ তুলনামূলকভাবে মৃদু হয় |
| ৬) বিস্তৃতি ও স্থায়িত্ব | তুলনামূলক ছোট এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় এবং স্বল্পস্থায়ী | তুলনামূলক বৃহৎ এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘস্থায়ী |
| ৭) সমচাপ রেখার আকৃতি | সমচাপ রেখাগুলি ঘনসন্নিবিষ্ট ও প্রায় বৃত্তাকার | সমচাপ রেখাগুলি বিক্ষিপ্ত ও প্রশস্ত ব্যবধানযুক্ত |
| ৮) উদাহরণ | গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় (যেমন—আমফান), নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত | শীতকালীন শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টিকারী প্রতীপ ঘূর্ণবাত |
সংক্ষেপে: ঘূর্ণবাতে কেন্দ্রে নিম্নচাপ ও ঝড়-বৃষ্টি হয়, আর প্রতীপ ঘূর্ণবাতে কেন্দ্রে উচ্চচাপ ও শুষ্ক, পরিষ্কার আবহাওয়া বিরাজ করে — উভয়ের বৈশিষ্ট্য প্রায় বিপরীতধর্মী।
৪.২ জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর বর্জ্যোর পার্থক্য লেখো।
উত্তর:
জৈব ভঙ্গুর ও জৈব অভঙ্গুর বর্জ্যের পার্থক্য:
| বিষয় | জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য (Biodegradable Waste) | জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য (Non-biodegradable Waste) |
|---|---|---|
| ১) সংজ্ঞা | যে বর্জ্য পদার্থ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক প্রভৃতি অণুজীবের দ্বারা) সহজে পচনশীল বা বিয়োজিত হয় | যে বর্জ্য পদার্থ প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সহজে পচে না বা বিয়োজিত হয় না, দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে |
| ২) পচনের সময়কাল | দ্রুত পচনশীল (কয়েক দিন থেকে কয়েক মাসের মধ্যে বিয়োজিত হয়) | পচনে দীর্ঘ সময় লাগে বা কখনো কখনো পচেই না (কয়েক বছর থেকে শত বছরও লাগতে পারে) |
| ৩) পরিবেশের উপর প্রভাব | পরিবেশ দূষণ কম করে, সহজে মাটিতে মিশে যায় | দীর্ঘদিন পরিবেশে থেকে যায় বলে মাটি, জল ও বায়ু দূষণ ঘটায় |
| ৪) পুনর্ব্যবহারযোগ্যতা | সাধারণত কম্পোস্টিং-এর মাধ্যমে জৈব সারে রূপান্তরিত করা যায় | পুনর্ব্যবহারযোগ্য (recyclable) হলে পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ করা যায়, নাহলে দীর্ঘস্থায়ী বর্জ্য হিসেবে থেকে যায় |
| ৫) উদাহরণ | সবজি ও ফলের খোসা, কাগজ, খাদ্য উচ্ছিষ্ট, কাঠের গুঁড়ো, গোবর ইত্যাদি | প্লাস্টিক, কাচ, ধাতু, পলিথিন, রাবার, থার্মোকল ইত্যাদি |
সংক্ষেপে: জৈব ভঙ্গুর বর্জ্য প্রাকৃতিকভাবে সহজে পচে ও পরিবেশবান্ধব, অপরদিকে জৈব অভঙ্গুর বর্জ্য দীর্ঘস্থায়ী ও পরিবেশ দূষণকারী।
অথবা
পরিবেশের উপর বর্জ্যোর তিনটি প্রভাব সংক্ষেপে আলোচনা করো ।
উত্তর:
১) মাটি দূষণ: অবাধে ফেলে রাখা কঠিন বর্জ্য পদার্থ (প্লাস্টিক, রাসায়নিক পদার্থ, বিষাক্ত ধাতু) মাটিতে মিশে গিয়ে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে এবং মাটির স্বাভাবিক গঠন ও গুণাগুণ ক্ষতিগ্রস্ত করে, যার ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়।
২) জল দূষণ: শিল্পবর্জ্য, গৃহস্থালি বর্জ্য ও বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ নদী, হ্রদ বা জলাশয়ে মিশে জলকে দূষিত করে, যার ফলে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের ক্ষতি হয় এবং সেই জল ব্যবহারে মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটে (যেমন—জলবাহিত রোগ)।
৩) বায়ু দূষণ: বর্জ্য পদার্থ পোড়ানোর ফলে উৎপন্ন বিষাক্ত ধোঁয়া ও গ্যাস (কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই অক্সাইড প্রভৃতি) বায়ুমণ্ডলে মিশে বায়ু দূষণ ঘটায়, যা শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অতিরিক্ত উল্লেখযোগ্য প্রভাব (প্রয়োজনে): বর্জ্য পচনের ফলে সৃষ্ট দুর্গন্ধ ও পোকামাকড়ের (মশা, মাছি) বংশবৃদ্ধি রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, এবং জীববৈচিত্র্যের উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে।
৪.৩ মৃত্তিকা সংরক্ষণের যে কোন তিনটি পদ্ধতি উল্লেখ করো ।
উত্তর:
১) বনসৃজন (Afforestation): পতিত ও অনাবাদি জমিতে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ করলে গাছের শিকড় মাটিকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে, ফলে বৃষ্টির জলে বা বায়ুপ্রবাহে মাটির ক্ষয় রোধ হয়।
২) সোপান কর্ষণ (Terracing/Contour Ploughing): পার্বত্য বা ঢালু অঞ্চলে ধাপে ধাপে সমতল জমি (সোপান) তৈরি করে অথবা সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষাবাদ করলে জলের প্রবাহ ধীর হয় এবং মাটির ক্ষয় রোধ হয়।
৩) শস্যাবর্তন (Crop Rotation): একই জমিতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করলে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে এবং একই পুষ্টি উপাদান বারবার শোষণের ফলে মাটির ক্ষয় ও অবক্ষয় রোধ হয়।
অতিরিক্ত পদ্ধতি (প্রয়োজনে উল্লেখযোগ্য):
- বায়ুরোধী বৃক্ষবেষ্টনী (Shelter Belt/Wind Break): মরু বা উপকূলীয় অঞ্চলে সারিবদ্ধভাবে গাছ লাগিয়ে বায়ুর দ্বারা মৃত্তিকা ক্ষয় রোধ করা।
- সমোন্নতি রেখা বরাবর চাষ (Contour Farming): ঢালু জমিতে সমোন্নতি রেখা অনুসরণ করে চাষ করলে জলপ্রবাহের বেগ কমে এবং মাটির ক্ষয় হ্রাস পায়।
অথবা
ভারতীয় কৃষির মুখ্য তিনটি সমস্যা আলোচনা করো ।
উত্তর:
১) মৌসুমি বৃষ্টিপাতের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা: ভারতের অধিকাংশ কৃষিজমি এখনও সেচব্যবস্থার পরিবর্তে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভরশীল। মৌসুমি বৃষ্টিপাত অনিয়মিত ও অনিশ্চিত হওয়ায় কখনো অতিবৃষ্টিতে বন্যা, আবার কখনো অনাবৃষ্টিতে খরার সৃষ্টি হয়, যা ফসল উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতি ঘটায় এবং কৃষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে।
২) জমির খণ্ডীকরণ ও ক্ষুদ্র আয়তনের জোত: উত্তরাধিকার সূত্রে জমি বিভাজনের ফলে ভারতে অধিকাংশ কৃষকের জমির পরিমাণ অত্যন্ত ছোট ও বিক্ষিপ্ত (fragmented) হয়ে পড়েছে। এর ফলে আধুনিক কৃষিযন্ত্রপাতির ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়ে এবং উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পায়।
৩) পুরাতন ও ঐতিহ্যগত কৃষিপদ্ধতির ব্যবহার: ভারতের বহু অঞ্চলে এখনও পুরাতন লাঙল, সেচের অপ্রতুল ব্যবস্থা এবং সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ চলে, যার ফলে উৎপাদনশীলতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বৃদ্ধি পায় না। উন্নত বীজ, সার ও আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে কৃষি উৎপাদন সীমিত থেকে যায়।
অতিরিক্ত সমস্যা (প্রয়োজনে উল্লেখযোগ্য):
- কৃষি ঋণ ও মূলধনের অভাব
- সংরক্ষণাগার (cold storage) ও বিপণন ব্যবস্থার অপ্রতুলতা
- মাটির ক্ষয় ও উর্বরতা হ্রাস
৪.৪ ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের তিনটি প্রধান পার্থক্য উল্লেখ করো ।
উত্তর:
ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র ও উপগ্রহ চিত্রের প্রধান পার্থক্য:
| বিষয় | ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র (Topographical Map) | উপগ্রহ চিত্র (Satellite Image) |
|---|---|---|
| ১) প্রস্তুতির পদ্ধতি | ভূমি জরিপ (survey) ও পরিমাপের মাধ্যমে সরাসরি মাটিতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে প্রস্তুত করা হয় | মহাকাশে স্থাপিত কৃত্রিম উপগ্রহে সংযুক্ত সংবেদক যন্ত্রের সাহায্যে দূর থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রস্তুত করা হয় |
| ২) হালনাগাদকরণ | পরিবর্তিত তথ্য অনুযায়ী মানচিত্র হালনাগাদ করতে দীর্ঘ সময় লাগে | নিয়মিত বিরতিতে (কয়েক দিন অন্তর) নতুন চিত্র পাওয়া যায় বলে দ্রুত হালনাগাদ করা সম্ভব |
| ৩) প্রতীক ও উপস্থাপনা | বিভিন্ন প্রতীক (symbol), রং ও সমোন্নতি রেখার মাধ্যমে ভূমিরূপ, উচ্চতা ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখানো হয় | প্রকৃত ভূ-প্রতিচ্ছবি (photographic image) হিসেবে সরাসরি ভূপৃষ্ঠের অবস্থা প্রদর্শিত হয়, যেখানে বিশেষ ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয় |
| ৪) বিস্তৃতি ও সময় | নির্দিষ্ট এলাকা জুড়ে একবারই প্রস্তুত করা হয়, বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জন্য বহু শীট প্রয়োজন | একই সাথে বিস্তীর্ণ অঞ্চলের তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব |
| ৫) ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা | সরাসরি পাঠযোগ্য, বিশেষ প্রযুক্তির প্রয়োজন হয় না | ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের জন্য কম্পিউটার প্রযুক্তির ব্যবহার আবশ্যক |
সংক্ষেপে: ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্র প্রত্যক্ষ জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুত প্রতীকী উপস্থাপনা, আর উপগ্রহ চিত্র দূর সংবেদন প্রযুক্তির সাহায্যে সংগৃহীত প্রকৃত ভূ-প্রতিচ্ছবি।
অথবা
ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের স্কেলের উল্লেখ করো ।
উত্তর:
ভূবৈচিত্র্যসূচক মানচিত্রে (Topographical Map) সাধারণত তিন ধরনের স্কেল ব্যবহার করা হয়—
১. বিবৃতি স্কেল (Statement Scale)
যে স্কেলে মানচিত্রের দূরত্বকে কথার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাকে বিবৃতি স্কেল বলে।
উদাহরণ: ১ সেমি = ১ কিমি।
২. ভগ্নাংশীয় স্কেল (Representative Fraction / RF)
মানচিত্রের দূরত্ব ও প্রকৃত দূরত্বের অনুপাতকে ভগ্নাংশের মাধ্যমে প্রকাশ করলে তাকে ভগ্নাংশীয় স্কেল বলে।
উদাহরণ: ১ : ৫০,০০০।
৩. সরল বা রেখা স্কেল (Linear Scale)
মানচিত্রে একটি রেখাকে নির্দিষ্ট অংশে ভাগ করে তার সাহায্যে দূরত্ব প্রকাশ করলে তাকে সরল বা রেখা স্কেল বলে।
বিভাগ ‘ঙ’
৫। ৫.১ যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও : (৫ x ২ = ১০)
৫.১.১ বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে গঠিত তিনটি প্রধান ভূমিরূপ চিত্রসহ বর্ণনা করো ।
উত্তর:
১) জিউগেন (Zeugen):
মরুভূমি অঞ্চলে যদি কঠিন শিলাস্তরের নিচে কোমল শিলাস্তর অনুভূমিকভাবে (horizontally) স্তরীভূত থাকে, তাহলে বায়ুর অবঘর্ষ ক্রিয়ায় নিচের কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, কিন্তু উপরের কঠিন শিলাস্তর ক্ষয় প্রতিরোধ করে টিকে থাকে। ফলে টেবিলের মতো চ্যাপ্টা মাথাযুক্ত ও নিচের দিকে সরু ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, একে জিউগেন বলে।

২) ইয়ারদাং (Yardang):
মরুভূমি অঞ্চলে যদি কঠিন ও কোমল শিলাস্তর পর্যায়ক্রমে উলম্বভাবে (vertically) বা বায়ুপ্রবাহের সমান্তরালে অবস্থান করে, তাহলে বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে খাদের সৃষ্টি করে এবং কঠিন শিলা সরু, দীর্ঘ ও খাড়া শৈলশিরার আকারে টিকে থাকে, একে ইয়ারদাং বলে।

৩) মাশরুম রক বা গৌর (Mushroom Rock/Gour):
মরুভূমি অঞ্চলে বায়ুবাহিত বালুকণা সাধারণত ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি (নিচের দিকে) বেশি ঘনত্বে প্রবাহিত হয়। ফলে শিলাখণ্ডের নিচের অংশে অবঘর্ষ ক্রিয়া বেশি ও উপরের অংশে কম হওয়ায় শিলাখণ্ডের নিচের দিক সরু ও উপরের দিক প্রশস্ত হয়ে ছাতা বা মাশরুমের মতো আকৃতি ধারণ করে, একে মাশরুম রক বা গৌর বলে।

উদাহরণ: এই ভূমিরূপগুলি সাহারা মরুভূমি ও রাজস্থানের থর মরুভূমিতে দেখা যায়।
৫.১.২ পৃথিবী পৃষ্ঠে বিশ্ব উষ্ণায়নের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবগুলি আলোচনা করো ।
উত্তর:
১) মেরু বরফ ও হিমবাহ গলন: বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় মেরু অঞ্চলের বরফ ও পার্বত্য হিমবাহসমূহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। এর ফলে হিমালয়, আল্পস প্রভৃতি পর্বতের হিমবাহের আয়তন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে এবং অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের বরফের চাদর ভেঙে পড়ছে।
২) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: হিমবাহ ও মেরু বরফ গলনের ফলে সমুদ্রে জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে উপকূলীয় নিম্নভূমি ও দ্বীপরাষ্ট্রসমূহ (যেমন—মালদ্বীপ, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল, সুন্দরবন) জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
৩) জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি: বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, খরা, দাবানল প্রভৃতি চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৪) বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন: উষ্ণায়নের ফলে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে কোনো কোনো অঞ্চলে অতিবৃষ্টি ও বন্যা এবং কোনো কোনো অঞ্চলে অনাবৃষ্টি ও খরার প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
৫) জীববৈচিত্র্যের উপর প্রভাব: তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বহু উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক বাসস্থান ও বাস্তুতন্ত্র বিপর্যস্ত হচ্ছে। মেরু ভালুক, পেঙ্গুইনের মতো প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়ছে এবং প্রবাল প্রাচীর (coral reef) ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে (coral bleaching)।
৬) স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব: উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু প্রভৃতি রোগ বাহক পতঙ্গের বংশবৃদ্ধি ক্ষেত্র বিস্তৃত হচ্ছে এবং তাপপ্রবাহজনিত (heat wave) স্বাস্থ্য সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
৭) কৃষি উৎপাদনে প্রভাব: তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের অনিয়মিততার ফলে ফসলের উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপসংহার: বিশ্ব উষ্ণায়নের এই বহুমুখী প্রভাব সমগ্র পৃথিবীর পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি ও মানবজীবনের উপর গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে, যা নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।
৫.১.৩ ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো ।
উত্তর:
১) উষ্ণতা: গ্রীষ্মকালে উষ্ণতা মোটামুটি বেশি থাকে (গড়ে ২০°-৩০° সেলসিয়াস) এবং শীতকালে উষ্ণতা মৃদু ও মনোরম থাকে (গড়ে ৫°-১০° সেলসিয়াস), অর্থাৎ গ্রীষ্ম ও শীতের মধ্যে তেমন চরম পার্থক্য দেখা যায় না।
২) বৃষ্টিপাতের ঋতুগত বণ্টন: এই জলবায়ু অঞ্চলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—শীতকালে বৃষ্টিপাত ও গ্রীষ্মকালে শুষ্ক আবহাওয়া। শীতকালে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে মাঝারি পরিমাণ বৃষ্টিপাত (৩৫-৭৫ সেমি) ঘটে, কিন্তু গ্রীষ্মকালে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাবে আকাশ পরিষ্কার ও শুষ্ক থাকে।
৩) গ্রীষ্মকালীন শুষ্কতা: গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চল উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের (Subtropical High) প্রভাবাধীন থাকে, ফলে আকাশ মেঘমুক্ত ও শুষ্ক থাকে এবং প্রখর সূর্যালোক পাওয়া যায়।
৪) প্রাকৃতিক উদ্ভিদ: এই জলবায়ুতে চিরহরিৎ ঝোপঝাড় ও ছোট আকৃতির গাছপালা (যেমন—অলিভ, আঙুর, কমলালেবু, কর্ক ওক) জন্মায়, যেগুলি গ্রীষ্মের শুষ্কতা সহ্য করার উপযোগী (মোটা ছাল, ছোট পাতা)।
৫) স্থানিক বিস্তৃতি: এই জলবায়ু সাধারণত ৩০°-৪৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে মহাদেশের পশ্চিম উপকূলে দেখা যায়।
উদাহরণ: ভূমধ্যসাগর উপকূলবর্তী দেশসমূহ (স্পেন, ইতালি, গ্রিস, দক্ষিণ ফ্রান্স), ক্যালিফোর্নিয়া (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), দক্ষিণ-পশ্চিম দক্ষিণ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলে এই জলবায়ু লক্ষ্য করা যায়।
৫.১.৪ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সমুদ্রস্রোতের প্রধান পাঁচটি প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তর:
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সমুদ্রস্রোতের প্রধান পাঁচটি প্রভাব:
১) জলবায়ুর উপর প্রভাব: উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত অঞ্চলের জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র হয়, আর শীতল স্রোত প্রবাহিত অঞ্চলের জলবায়ু শীতল ও শুষ্ক হয়। যেমন—উপসাগরীয় স্রোতের (Gulf Stream) প্রভাবে পশ্চিম ইউরোপের জলবায়ু শীতকালেও মৃদু ও উষ্ণ থাকে, যদিও এটি উচ্চ অক্ষাংশে অবস্থিত।
২) বৃষ্টিপাতের উপর প্রভাব: উষ্ণ স্রোতের উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু জলীয়বাষ্প সংগ্রহ করে নিকটবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে অধিক বৃষ্টিপাত ঘটায়। বিপরীতে শীতল স্রোতের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল শুষ্ক থাকে এবং কখনো কখনো মরুভূমির সৃষ্টি হয় (যেমন—পেরু উপকূলে অতাকামা মরুভূমি, শীতল হামবোল্ট স্রোতের প্রভাবে)।
৩) কুয়াশা সৃষ্টি: উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে ঘন কুয়াশার সৃষ্টি হয়, যা নৌ চলাচলে বাধার সৃষ্টি করে। উদাহরণস্বরূপ, নিউফাউন্ডল্যান্ডের গ্র্যান্ডব্যাংক অঞ্চলে উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোত ও শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের মিলনে ঘন কুয়াশা সৃষ্টি হয়।
৪) মৎস্য সম্পদের উপর প্রভাব: উষ্ণ ও শীতল স্রোতের মিলনস্থলে প্লাংকটন (মাছের খাদ্য) প্রচুর পরিমাণে জন্মায়, যার ফলে সেসব অঞ্চল সমৃদ্ধ মৎস্য আহরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়। যেমন—গ্র্যান্ডব্যাংক ও জাপান উপকূলের কুরোশিও-ওয়াশিও স্রোত মিলনস্থল বিশ্ববিখ্যাত মৎস্য আহরণ ক্ষেত্র।
৫) নৌ চলাচলের উপর প্রভাব: সমুদ্রস্রোতের অনুকূল দিক অনুসরণ করে জাহাজ চালনা করলে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয় হয়, কিন্তু প্রতিকূল স্রোতের বিপরীতে চলাচল করলে সময় ও খরচ বৃদ্ধি পায়। এছাড়া শীতল স্রোতের প্রভাবে হিমশৈল (Iceberg) ভেসে আসার ফলে নৌ চলাচলে বিপদের সৃষ্টি হতে পারে (যেমন—টাইটানিক দুর্ঘটনা)।
উপসংহার: সমুদ্রস্রোত পৃথিবীর জলবায়ু, বৃষ্টিপাত, মৎস্য সম্পদ ও নৌ চলাচল ব্যবস্থার উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করে, যা মানবজীবন ও অর্থনীতির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
৫.২ যে কোনো দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও। (৫ x ২ = ১০)
৫.২.১ ভারতের ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য এবং ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের উপর জলবায়ুর প্রভাব আলোচনা করো ।
উত্তর:
১) ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্য (Tropical Evergreen Forest):
জলবায়ুগত অবস্থা: এই অরণ্য এমন অঞ্চলে জন্মায় যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত ২০০ সেমি-র বেশি এবং সারাবছর উষ্ণতা প্রায় ২৫°-৩৫° সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, অর্থাৎ উচ্চ উষ্ণতা ও উচ্চ আর্দ্রতাযুক্ত জলবায়ু বিরাজ করে।
জলবায়ুর প্রভাবে উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
- সারাবছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও উষ্ণতার কারণে গাছের পাতা কখনো সম্পূর্ণ ঝরে যায় না, তাই এই অরণ্যকে চিরহরিৎ (Evergreen) বলা হয়
- অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে গাছের উচ্চতা অত্যন্ত বেশি (৩০-৬০ মিটার পর্যন্ত) এবং ঘন শাখাপ্রশাখাযুক্ত ছত্রছায়া (canopy) তৈরি হয়
- সূর্যালোকের জন্য প্রতিযোগিতার কারণে গাছের কাণ্ড সোজা ও লম্বা হয়
- প্রচুর লতাগুল্ম ও এপিফাইট (আশ্রয়ী উদ্ভিদ) জন্মায়, কারণ উচ্চ আর্দ্রতা তাদের বৃদ্ধিতে সহায়ক
উদাহরণ: মহোগনি, রোজউড, এবোনি, বাঁশ (পশ্চিমঘাট, উত্তর-পূর্ব ভারত ও আন্দামান-নিকোবরে দেখা যায়)।
২) ক্রান্তীয় মরু উদ্ভিদ (Tropical Desert Vegetation):
জলবায়ুগত অবস্থা: এই উদ্ভিদ এমন অঞ্চলে জন্মায় যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাত অত্যন্ত কম (২৫ সেমি-র কম), উষ্ণতা দিনে অত্যন্ত বেশি ও রাতে অত্যন্ত কম, এবং বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ নগণ্য।
জলবায়ুর প্রভাবে উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য:
- জলাভাব মোকাবিলায় উদ্ভিদের পাতা ছোট, কাঁটাযুক্ত বা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে, যাতে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে জলক্ষয় কম হয়
- কাণ্ড ও মূল অত্যন্ত পুরু ও মাংসল (succulent) হয়, যা জল সঞ্চয়ে সহায়ক (যেমন—ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ)
- শিকড় মাটির অনেক গভীরে বিস্তৃত থাকে, যাতে ভূগর্ভস্থ জল সংগ্রহ করা যায়
- উদ্ভিদের ঘনত্ব অত্যন্ত কম ও বিক্ষিপ্তভাবে বিস্তৃত থাকে
উদাহরণ: ক্যাকটাস, বাবলা, খেজুর, শণ জাতীয় উদ্ভিদ (রাজস্থানের থর মরুভূমি অঞ্চলে দেখা যায়)।
উপসংহার: জলবায়ুর আর্দ্রতা ও উষ্ণতার তারতম্যের কারণেই ক্রান্তীয় চিরহরিৎ অরণ্যে ঘন, উঁচু ও সদা-সবুজ উদ্ভিদ জন্মায়, আর ক্রান্তীয় মরু অঞ্চলে জলসংরক্ষণে সক্ষম, কাঁটাযুক্ত ও বিক্ষিপ্ত উদ্ভিদ জন্মায় — উভয় ক্ষেত্রেই উদ্ভিদের গঠন ও বৈশিষ্ট্য সরাসরি স্থানীয় জলবায়ুর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
৫.২.২ ভারতে ইক্ষু চাষের অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের বর্ণনা করো।
উত্তর:
১) উষ্ণতা:
ইক্ষু একটি ক্রান্তীয় ফসল হওয়ায় এর চাষের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর প্রয়োজন। বীজ অঙ্কুরোদগম ও বৃদ্ধির সময় গড় উষ্ণতা প্রায় ২০°-২৭° সেলসিয়াস এবং ফসল পাকার সময় (শর্করা সঞ্চয়ের জন্য) তুলনামূলক কম উষ্ণতা ও শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন।
২) বৃষ্টিপাত:
ইক্ষু চাষের জন্য বার্ষিক ৭৫-১৫০ সেমি বৃষ্টিপাত উপযোগী। ফসল বৃদ্ধির সময় পর্যাপ্ত জলের প্রয়োজন হলেও ফসল পাকার সময় শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন, কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতা শর্করার পরিমাণ হ্রাস করে।
৩) মৃত্তিকা:
ইক্ষু চাষের জন্য গভীর, উর্বর ও দোআঁশ মাটি সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত, বিশেষত পলিমাটি (Alluvial Soil) ও কৃষ্ণ মৃত্তিকা (Black Soil) এই ফসলের জন্য আদর্শ, কারণ এই মৃত্তিকায় জলধারণ ক্ষমতা ও পুষ্টি উপাদান উভয়ই পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।
৪) ভূপ্রকৃতি:
ইক্ষু চাষের জন্য সমতল বা মৃদু ঢালযুক্ত ভূমি প্রয়োজন, যেখানে জলসেচের সুব্যবস্থা থাকে এবং জল নিষ্কাশনও সহজ হয়।
৫) জলসেচের সুবিধা:
ইক্ষু একটি জলনির্ভর ফসল হওয়ায় পর্যাপ্ত জলসেচ ব্যবস্থা (খাল, নলকূপ) অপরিহার্য, বিশেষত বৃষ্টিপাত কম হলে কৃত্রিম সেচের মাধ্যমে জলের চাহিদা পূরণ করতে হয়।
৬) দীর্ঘ অনুর্বাত ঋতু (Frost-free period):
ইক্ষু তুষারস্পর্শকাতর ফসল হওয়ায় দীর্ঘ তুষারমুক্ত সময়কাল (প্রায় ৮-১০ মাস বা তার বেশি) প্রয়োজন, কারণ তুষারপাত হলে ইক্ষু গাছের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
৭) প্রচুর সস্তা শ্রমিকের সহজলভ্যতা:
ইক্ষু চাষ একটি শ্রমঘন কৃষিকাজ (জমি তৈরি, রোপণ, নিড়ানি, ফসল কাটা প্রভৃতি) হওয়ায় প্রচুর সস্তা শ্রমিকের প্রয়োজন হয়, যা জনবহুল অঞ্চলে সহজলভ্য।
উদাহরণ: এই অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যে ইক্ষু চাষ ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে। উত্তরপ্রদেশ ভারতে ইক্ষু উৎপাদনে প্রথম স্থান অধিকার করে।
৫.২.৩ ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে কার্পাস বয়ন শিল্পের উন্নতির কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর:
১) কাঁচামালের সান্নিধ্য: মহারাষ্ট্র ও গুজরাটের দাক্ষিণাত্য মালভূমি অঞ্চলে বিস্তৃত কৃষ্ণ মৃত্তিকা বা রেগুর মৃত্তিকা (Regur Soil) কার্পাস চাষের জন্য আদর্শ হওয়ায় এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে কার্পাস উৎপন্ন হয়। কাঁচামালের নিকটবর্তী স্থানে শিল্প স্থাপন পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।
২) অনুকূল আর্দ্র জলবায়ু: মুম্বাই ও পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের আর্দ্র সামুদ্রিক জলবায়ু কার্পাস বয়ন শিল্পের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী, কারণ অতিরিক্ত আর্দ্রতায় সুতোর গুণমান বজায় থাকে ও সুতো ছিঁড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
৩) সমুদ্রবন্দরের সান্নিধ্য: মুম্বাই বন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় বিদেশ থেকে উন্নত মানের কার্পাস আমদানি এবং উৎপাদিত বস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়।
৪) সস্তা ও দক্ষ শ্রমিকের সহজলভ্যতা: এই অঞ্চল জনবহুল হওয়ায় প্রচুর সস্তা ও দক্ষ শ্রমিক সহজলভ্য, যা উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করে।
৫) মূলধন ও শিল্পোদ্যোগের সহজলভ্যতা: মুম্বাই ভারতের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক ও আর্থিক কেন্দ্র হওয়ায় এখানে প্রচুর মূলধন বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক উদ্যোগের সুযোগ পাওয়া যায়।
৬) উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা: রেলপথ, সড়কপথ ও সমুদ্রপথের মাধ্যমে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় কাঁচামাল সংগ্রহ ও উৎপাদিত পণ্য বিপণনে সুবিধা হয়।
৭) বৃহৎ বাজারের সান্নিধ্য: মুম্বাই, আহমেদাবাদ, পুনে প্রভৃতি জনবহুল শহরে বস্ত্রের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার থাকায় শিল্প স্থাপনে সুবিধা হয়।
৮) বিদ্যুৎ সরবরাহের সুবিধা: এই অঞ্চলে জলবিদ্যুৎ ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সহজলভ্যতা শিল্পের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উদাহরণ: এই কারণগুলির সম্মিলিত প্রভাবে মুম্বাই (“ভারতের ম্যানচেস্টার”), আহমেদাবাদ, সুরাট প্রভৃতি শহর কার্পাস বয়ন শিল্পের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।
৫.২.৪ ভারতের পরিবহন ব্যবস্থার প্রধান পাঁচটি গুরুত্ব আলোচনা করো ।
উত্তর:
১) অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক: পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে কাঁচামাল উৎপাদন স্থল থেকে শিল্পকেন্দ্রে এবং উৎপাদিত দ্রব্য বাজারে পৌঁছানো সহজ হয়, যা শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে।
২) কৃষি পণ্যের বিপণনে সহায়তা: উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারে পৌঁছে দিতে পারে, বিশেষত পচনশীল ফসল (শাকসবজি, ফলমূল, দুগ্ধজাত দ্রব্য) সংরক্ষণ ও বিপণনের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩) জাতীয় সংহতি ও সংযোগ স্থাপন: পরিবহন ব্যবস্থা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিকে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত করে, যা জাতীয় সংহতি ও একতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪) দুর্গম অঞ্চলের উন্নয়ন: পার্বত্য, উপজাতি অধ্যুষিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিবহন ব্যবস্থার বিস্তারের ফলে সেসব অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে, যা পূর্বে দুর্গমতার কারণে অনগ্রসর ছিল।
৫) দুর্যোগ মোকাবিলা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্ব: প্রাকৃতিক দুর্যোগের (বন্যা, ঘূর্ণিঝড়) সময় ত্রাণ সামগ্রী দ্রুত পৌঁছে দেওয়া এবং সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনী ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পরিবহনের ক্ষেত্রে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অতিরিক্ত গুরুত্ব (প্রয়োজনে উল্লেখযোগ্য):
- কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক (রেল, সড়ক নির্মাণ ও পরিচালনায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়)
- পর্যটন শিল্পের বিকাশে সহায়ক
বিভাগ ‘চ’
৬. প্রশ্নপত্রের সাথে প্রদত্ত ভারতের রেখা মানচিত্রে নিম্নলিখিতগুলি উপযুক্ত প্রতীক ও নামসহ চিহ্নিত করে মানচিত্রটি উত্তরপত্রের সঙ্গে জুড়ে দাও : ১ x ১০ = ১০
৬.১ মেঘালয় মালভূমি
৬.২ মালাবার উপকূল
৬.৩ নর্মদা নদী
৬.৪ শীতকালীন মৌসুমি বৃষ্টিপাত যুক্ত অঞ্চল
৬.৫ একটি লবণাক্ত মৃত্তিকা অঞ্চল
৬.৬ ভারতের কেন্দ্রীয় বনভূমি গবেষণা কেন্দ্র
৬.৭ পূর্ব ভারতের একটি চা উৎপাদক অঞ্চল
৬.৮ উত্তর ভারতের বৃহত্তম মোটরগাড়ী নির্মাণ শিল্প
৬.৯ পূর্ব উপকূলের একটি স্বাভাবিক বন্দ
৬.১০ বেঙ্গালুরু
উত্তর:

