মাধ্যমিক ২০২৩ পরীক্ষার জীবন বিজ্ঞান বিষয়ে যারা সঠিক ও নির্ভরযোগ্য উত্তর খুঁজছো, তাদের জন্য এই পোস্টে রইল Madhyamik 2023 Life Science Question Paper Solved সম্পূর্ণভাবে PDF আকারে। মাধ্যমিক ২০২৩ জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর এখানে তৈরি করা হয়েছে বোর্ডের মার্কিং স্কিম মাথায় রেখে, যাতে তোমরা বুঝতে পারো কোন প্রশ্নের উত্তর কীভাবে সাজিয়ে লিখলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়। প্রতিটি অধ্যায় থেকে আসা প্রশ্নের উত্তর ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তোমরা পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, কঠিন টপিক এবং গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টারগুলো সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাও। পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করা তোমাদের সবচেয়ে কার্যকরী অভ্যাসগুলোর একটি, আর এই পোস্ট সেই প্রস্তুতিকেই আরও মজবুত করবে।
তোমরা যদি Madhyamik 2023 Life Science Question Answer একসঙ্গে পেতে চাও, তাহলে এই পোস্ট তোমাদের জন্যই তৈরি। এখানে মাধ্যমিক 2023 জীবন বিজ্ঞান পরীক্ষার সম্পূর্ণ সমাধান সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে দেওয়া হয়েছে, যাতে তোমরা শুধু উত্তর মুখস্থ না করে কনসেপ্টও ভালোভাবে বুঝতে পারো। উত্তরসহ মাধ্যমিক ২০২৩ জীবন বিজ্ঞান প্রশ্নপত্র অনুশীলন করার পাশাপাশি তোমরা এই পেজ থেকে PDF Download করার সুবিধাও পাবে, যা অফলাইনে পড়াশোনার জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে। Madhyamik 2023 Life Science Solved Paper ভালোভাবে অনুশীলন করলে খাতায় নম্বর বাড়ানোর পাশাপাশি জীবন বিজ্ঞান বিষয়ে তোমাদের আত্মবিশ্বাসও অনেকটা বেড়ে যাবে।
উত্তরসহ মাধ্যমিক ২০২৩ জীবন বিজ্ঞান প্রশ্নপত্র | Madhyamik 2023 Life Science Solved Paper
বিভাগ –‘ক’
১। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ লেখো । (১ × ১৫ = ১৫)
১.১ নীচের কোনটি অ্যাক্সনের গঠনসংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য নয় ।
(ক) র্যানভিয়ারের পর্ব
(খ) মায়োলিন সিদ্
(গ) নিজল দানা (উত্তর)
(ঘ) সোয়ান কোশ
১.২ নীচের কোনটি ADH হরমোনের কাজ?
(ক) উপধমনীকে সংকুচিত করে রপ্তচাপ বাড়ায় (উত্তর)
(খ) পরিণত বয়সে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু উৎপাদনে সাহায্য করে
(গ) যকৃত ও পেশিকোশে গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত করে সঞ্চিত রাখে
(খ) স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ ঘটায় ও স্বাভাবিক ক্রিয়া বজায় রাখে
১.৩ কর্নিয়া, কোরয়েড , লেন্স, অ্যাকুয়াস হিউমর, আইরিস, ভিট্রিয়াস হিউমর-অক্ষিগোলকের এই অংশগুলোর মধ্যে কয়টি অক্ষিগোলকের প্রতিসারক মাধ্যম ?
(ক) 3
(খ) 4 (উত্তর)
(গ) 5
(ঘ) 6
১.৪ নিউক্লিওটাইডের রাসায়নিক উপাদান সংক্রান্ত নীচের কোনটি সঠিক?
(ক) S-C যুক্ত শর্করা + ফসফরিক অ্যাসিড = নিউক্লিওটাইড
(খ) N2 যুক্ত ক্ষারক + ফসফরিক অ্যাসিড = নিউক্লিওটাইড
(গ) 5-C যুক্ত শর্করা + N2 যুক্ত ক্ষারক = নিউক্লিওটাইড
(ঘ) 5-C যুক্ত শর্করা + N2 যুক্ত ক্ষারক + ফসফরিক অ্যাসিড = নিউক্লিওটাইড (উত্তর)
১.৫ ইতরপরাগযোগের পদ্ধতির ক্ষেত্রে নীচের কোন জোড়টি সঠিক?
| পরাগযোগের পদ্ধতি | উদ্ভিদের নাম |
| (ক) বায়ুপরাগী | আম |
| (খ) জলপরাগী | ধান |
| (গ) পতঙ্গ পরাগী | হাইড্রিলা |
| (ঘ) পক্ষিপরাগী | পলাশ |
উত্তরঃ পক্ষিপরাগী – পলাশ
১.৬ ফার্ণের জনুক্রমে নীচের কোন দশাটি রেণুধর জনুর অন্তর্গত নয় ?
(ক) প্রোথ্যালাস (উত্তর)
(খ) সোরাস
(গ) রেণুস্থলী
(ঘ) রেণুমাতৃকোশ
১.৭ গিনিপিগের ক্ষেত্রে দ্বিসংকর জননের F2 জনুতে উৎপন্ন BbRr ও BBRR জিনোটাইপ দুটির সংখ্যার অনুপাতটি কী ?
(ক) 2:1
(খ) 4:1 (উত্তর)
(গ) 1:2
(ঘ) 1:1
১.৮ নীচের কোন্ দুটি জিনোটাইপ হলুদ বর্ণ ও কুঞ্চিত আকৃতির বীজযুক্ত মটরগাছের জিনোটাইপ প্রদর্শন করে ?
(ক) YYrr, Yyrr (উত্তর)
(খ) YYRr, YyRR
(গ) yyRR, yyRr
(ঘ) YYRR. Yyrr
১.৯ অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে সঙ্কর জননের F2 জনুতে জিনোটাইপ ও ফিনোটাইপ অনুপাত কোনটি ?
(ক) 2:1:1
(খ) 1:1:1
(গ) 1:2:1 (উত্তর)
(ঘ) 1:2:2
১.১০ নীচের কোনটি ডারউইন মতবাদের বক্তব্য নয় ?
(ক) অর্জিত বৈশিষ্ট্যর বংশানুসরণ (উত্তর)
(খ) জীবনসংগ্রাম
(গ) প্রকরণ
(ঘ) প্রাকৃতিক নির্বাচন
১.১১ সমসংস্থ অঙ্গের বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করো –
(ক) গঠনগতভাবে ভিন্ন কিন্তু উৎপত্তি আর কার্যগতভাবে অভিন্ন
(খ) উৎপত্তি আর কার্যগতভাবে ভিন্ন হলেও গঠনগতভাবে অভিন্ন
(গ) গঠনগত ও কার্যগতভাবে অভিন্ন হলেও উৎপত্তিগতভাবে ভিন্ন
(ঘ) উৎপত্তি ও গঠনগতভাবে অভিন্ন হলেও কার্যগতভাবে ভিন্ন (উত্তর)
১.১২ জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি-সংক্রান্ত মিলার ও উরের পরীক্ষায় ব্যবহৃত বিকারকগুলো কী কী ?
(ক) অক্সিজেন, মিথেন, নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড
(খ) জল, মিথেন, অ্যামোনিয়া, হাইড্রোজেন (উত্তর)
(গ) মিথেন, হাইড্রোজেন সালফাইড, কার্বন মনোক্সাইড
(ঘ) নাইট্রাস অক্সাইড, মিথেন, কার্বন ডাইঅক্সাইড
১.১৩ নাইট্রোজেন চক্রের সঠিক ক্রমটি শনাক্ত করো –
(ক) নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ → ডিনাইট্রিফিকেশন → অ্যামোনিফিকেশন → নাইট্রিফিকেশন
(খ) অ্যামোনিফিকেশন → নাইট্রিফিকেশন → নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ → ডিনাইট্রিফিকেশন
(গ) নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ → অ্যামোনিফিকেশন → নাইট্রিফিকেশন → ডিনাইট্রিফিকেশন (উত্তর)
(ঘ) নাইট্রিফিকেশন → নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ → ডিনাইট্রিফিকেশন → অ্যামোনিফিকেশন
১.১৪ জীববৈচিত্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রে নীচের হ্রাসের কারণ ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রজাতির কোন জোড়টি সঠিক?
(ক) বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশ – একশৃঙ্গ গন্ডার
(খ) দূষণ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার
(গ) বিশ্ব উন্নায়ন এবং জলবায়ুর পরিবর্তন- মেরুভল্লুক (উত্তর)
(ঘ) শিকার এবং চোরাশিকার-শকুন
১.১৫ কোনো একটি খাদ্যশৃংখলে ক্লোরিনযুক্ত কীটনাশক প্রবেশ করলে নীচের কোন ঘটনাটি ঘটে ?
(ক) জীববিবর্ধন (উত্তর)
(খ) ইউট্রফিকেশন
(গ) বিশ্ব উষ্ণায়ন
(ঘ) বধিরত্ব
বিভাগ—’খ’
২। নীচের ২৬ টি প্রশ্ন থেকে ২১ টি প্রশ্নের উত্তর নির্দেশ অনুসারে লেখো : (১×২১ = ২১)
নীচের বাক্যগুলোর শূন্যস্থানগুলোতে উপযুক্ত শব্দ বসাও (যে কোনো পাঁচটি) (১×৫=৫)
২.১ ন্যাস্টিক চলন বহিঃস্থ উদ্দীপকের __ দ্বারা প্রভাবিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় ।
উত্তরঃ তীব্রতা ।
২.২ ___কোশবিভাজন প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখে ।
উত্তরঃ মিয়োসিস ।
২.৩ বীজের কুঞ্চিত আকার একটি __ বৈশিষ্ট্য ।
উত্তরঃ প্রচ্ছন্ন ।
২.৪ উটের রক্তের RBCর আকৃতি __ হওয়ায় এটি অধিক মাত্রায় জলক্ষয় সহন করতে পারে ।
উত্তরঃ ডিম্বাকার ।
২.৫ বায়ুদূষণের সংগে সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাধি হলো ____ ।
উত্তরঃ অ্যাজমা বা হাঁপানি ।
২.৬ নীলগিরি ও _ উভয়ই হলো বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ।
উত্তরঃ সুন্দরবন ।
নীচের বাক্যগুলি সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো। (যে কোনো পাঁচটি) (১×৫=৫)
২.৭ অক্সিন হরমোন অগ্রমুকুলের বৃদ্ধি রোধ করে এবং কাক্ষিক মুকুলের বৃদ্ধি ঘটায় ।
উত্তরঃ মিথ্যা
২.৮ চেক পয়েন্টগুলোর কাজ বিঘ্নিত হলে কোশবিভাজন অনিয়ন্ত্রিত হয় ।
উত্তরঃ সত্য
২.৯ YyRR জিনোটাইপযুক্ত মটরগাছ থেকে কেবলমাত্র এক ধরনের গ্যামেট উৎপন্ন হয় ।
উত্তরঃ মিথ্যা
২.১০ একটি বনে বিভিন্ন ধরণের বাঘেদের মধ্যে অন্তঃপ্রজাতি ও আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম উভয়ই পরিলক্ষিত হতে পারে ।
উত্তরঃ মিথ্যা
২.১১ নাইট্রাস অক্সাইড একটি গ্রিনহাউস গ্যাস ।
উত্তরঃ সত্য
২.১২ ট্রাইসেপ্স একটি ফ্রেন্সর পেশি ।
উত্তরঃ মিথ্যা
‘A’-স্তম্ভে দেওয়া শব্দের সংগে ‘B’ – স্তম্ভে দেওয়া সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত শব্দটির সমতা বিধান করে উভয় স্তম্ভের ক্রমিক নং উল্লেখসহ সঠিক জোড়টি পুনরায় লেখো (যে কোনো পাঁচটি) : (১×৫=৫)
| ‘A’-স্তম্ভ | ‘B’ – স্তম্ভ |
| ২.১৩ মেনিনজেস | (ক) পায়ের আঙুলের সংখ্যা হ্রাস |
| ২.১৪ যৌন জনন | (খ) দ্বীপভূমির নিমজ্জন |
| ২.১৫ রোলার জিভ | (গ) সেন্ট্রোমিয়ার |
| ২.১৬ ঘোড়ার বিবর্তন | (ঘ) টেলোমিয়ার |
| ২.১৭ সুন্দরবনের পরিবেশগত সমস্যা | (ঙ) মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডকে যান্ত্রিক আঘাত থেকে রক্ষা করে |
| ২.১৮ ক্রোমোজোমকে বেমতন্তুর সংগে যুক্ত করে | (5) অটোজোম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত |
| (ছ) গ্যামেট উৎপাদন ও গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে ঘটে |
উত্তর: ২.১৩ – ঙ , ২.১৪ – ছ , ২.১৫ – চ , ২.১৬ – ক , ২.১৭ – খ , ২.১৮ – গ
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে কোনো ছয়টি ) (১×৬=৬)
২.১৯ বিসদৃশ শব্দটি বেছে লেখো-
টেস্টোস্টেরন, ইনসুলিন, প্রোজেস্টেরন, ইস্ট্রোজেন
উত্তরঃ ইনসুলিন ।
২.২০ চোখের উপযোজনের সঙ্গে লেন্সের সম্পর্ক কী ?
উত্তরঃ কোনও রকম স্থান পরিবর্তন না করে বিভিন্ন দূরত্বের বস্তুকে স্পষ্ট ভাবে দেখার জন্য লেন্সের বক্রতার পরিবর্তন করাই হল চোখের উপযোজন ।
২.২১ নীচের প্রথম শব্দজোড়টির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় শব্দজোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও :
মাইটোসিস : সমবিভাজন :: —: হ্রাস বিভাজন
উত্তরঃ মিয়োসিস ।
২.২২ একটি জীব একটি চরিত্রের জন্য বিশুদ্ধ হলেও আর একটি চরিত্রের জন্য অন্য কী হতে পারে ?
উত্তরঃ সংকর ।
২.২৩ বর্ণান্ধতার জন্য দায়ী জিনটির একটি বৈশিষ্ট্য লেখো ।
উত্তরঃ X ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য ।
২.২৪ বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর ভ্রুণের তুলনামূলক আলোচনা থেকে কোন তত্ত্বে পৌঁছানো সম্ভব ?
উত্তরঃ তুলনামূলক ভ্রুণ তত্ত্বে বা বায়োজেনেটিক সূত্রে ।
২.২৫ নীচের চারটি বিষয়ের মধ্যে কোনো তিনটি অপর বিষয়টির অন্তর্গত । সেই বিষয়টি খুঁজে বার করো এবং লেখো-
কৃষিজমির হ্রাস, মিষ্টি জলের অভাব, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সমস্যা, অরণ্য ধ্বংস
উত্তরঃ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা সমস্যা ।
২.২৬ জীববৈচিত্র্যের হটস্পটের একটি বৈশিষ্ট্য লেখো ।
উত্তরঃ জীববৈচিত্রের হটস্পট হল এমন অঞ্চল যেখানে খুব বেশি সংখ্যায় বিপদ্গ্রস্থ জীব পাওয়া যায় যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না ।
বিভাগ—’গ’
৩। নিচের ১৭ টি প্রশ্ন থেকে যে কোনো ১২ টি প্রশ্নের উত্তর দুই-তিনটি বাক্যে লেখো । (২× ১২ = ২৪)
৩.১ হাঁচি ও কাশি প্রতিবর্ত দুইটি বিপদ এড়াতে সাহায্য করে—বক্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো ।
উত্তরঃ
হাঁচি ও কাশি উভয়ই প্রতিবর্ত ক্রিয়া (reflex action), যা দেহকে ক্ষতিকর পদার্থ থেকে রক্ষা করে। ধূলিকণা, জীবাণু বা অন্যান্য বিদেশি কণা নাসারন্ধ্রে প্রবেশ করলে হাঁচির মাধ্যমে তা বাইরে বেরিয়ে যায়। আবার শ্বাসনালিতে ধোঁয়া, ধূলিকণা বা জীবাণু প্রবেশ করলে কাশির মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসে। তাই হাঁচি ও কাশি শ্বাসযন্ত্রের বিপদ এড়াতে সাহায্য করে।
অতএব, বক্তব্যটি যথার্থ।
৩.২ জিব্বেরেলিন হরমোন কীভাবে বীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটায় ও উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করে ?
উত্তরঃ
জিব্বেরেলিন হরমোন বীজের অঙ্কুরোদ্গমের সময় অ্যামাইলেজ উৎসেচকের সক্রিয়তা বৃদ্ধি করে, ফলে সঞ্চিত শ্বেতসার ভেঙে সরল শর্করায় পরিণত হয় এবং ভ্রূণ খাদ্য পেয়ে বৃদ্ধি লাভ করে। এর ফলে বীজের অঙ্কুরোদ্গম ঘটে।
এছাড়া জিব্বেরেলিন কাণ্ডের কোশের বিভাজন ও দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায়, ফলে উদ্ভিদের কাণ্ডের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পায়।
৩.৩ হূৎপিন্ড ও লোহিত রক্তকণিকার ওপর থাইরক্সিন হরমোনের একটি করে প্রভাব লেখো ।
উত্তরঃ
১) হৃৎপিণ্ডের ওপর প্রভাব:
থাইরক্সিন হৃৎস্পন্দনের হার (heart rate) বৃদ্ধি করে এবং হৃৎপিণ্ডের সংকোচনের বল বাড়িয়ে দেয়, ফলে হৃৎপিণ্ডের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
২) লোহিত রক্তকণিকার ওপর প্রভাব:
থাইরক্সিন অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্তকণিকা (RBC) উৎপাদনে (erythropoiesis) উদ্দীপনা জোগায়, ফলে RBC-র সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
৩.৪ নীচের শব্দ দুটি ব্যাখ্যা করো –
– গ্যাংলিয়া – সাইন্যাপস
উত্তরঃ
গ্যাংলিয়া (Ganglia):
স্নায়ুতন্ত্রের বাইরে অবস্থিত একই ধরনের বহু স্নায়ুকোশের (নিউরোনের) কোশদেহের সমষ্টিকে গ্যাংলিয়া বলে।
সাইন্যাপস (Synapse):
দুটি পরপর অবস্থিত নিউরোনের অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইটের সংযোগস্থলে যে ক্ষুদ্র ফাঁক বা সংযোগ অঞ্চল থাকে, তাকে সাইন্যাপস বলে। এর মাধ্যমে একটি নিউরোন থেকে অন্য নিউরোনে স্নায়ু উদ্দীপনা পরিবাহিত হয়।
৩.৫ অ্যামাইটোসিস কোশবিভাজনের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো ।
উত্তরঃ
- এই কোশবিভাজনে কেন্দ্রকের সরাসরি বিভাজন ঘটে, কোনো সুস্পষ্ট বিভাজন পর্যায় (যেমন প্রোফেজ, মেটাফেজ ইত্যাদি) দেখা যায় না।
- এই বিভাজনে বেমতন্তু (spindle fibre) গঠিত হয় না এবং একটি মাতৃকোশ থেকে সাধারণত দুটি অপত্য কোশ তৈরি হয়।
(উদাহরণ: ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা প্রভৃতি এককোশী জীবের ক্ষেত্রে অ্যামাইটোসিস দেখা যায়।)
৩.৬ ইন্টারফেজের G1 দশার দুটি ঘটনা উল্লেখ করো ।
উত্তরঃ
- এই দশায় কোশের আকার বৃদ্ধি পায় এবং নতুন সাইটোপ্লাজম ও কোশ অঙ্গাণু তৈরি হয়।
- এই দশায় RNA ও প্রোটিন সংশ্লেষণ বৃদ্ধি পায়, ফলে কোশ বিভাজনের জন্য প্রস্তুত হয়।
৩.৭ উদ্ভিদের একটি উপযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে খন্ডীভবন প্রক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করো ।
উত্তরঃ
খণ্ডীভবন (Fragmentation):
যে অযৌন জনন প্রক্রিয়ায় কোনো উদ্ভিদের দেহ খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত হয়ে প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়, তাকে খণ্ডীভবন বলে।
উদাহরণ:
স্পাইরোগাইরা (Spirogyra) নামক শৈবালের দেহ ভেঙে ছোট ছোট খণ্ডে পরিণত হয়। প্রতিটি খণ্ড অনুকূল পরিবেশে বৃদ্ধি পেয়ে একটি নতুন স্পাইরোগাইরা উদ্ভিদে পরিণত হয়।
৩.৮ বিবাহ সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে জেনেটিক কাউন্সেলিং-এর গুরুত্ব কী ?
উত্তরঃ
১) বংশগত রোগ সম্পর্কে সচেতনতা: জেনেটিক কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে বিবাহেচ্ছুক দম্পতি তাদের পারিবারিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করে জানতে পারেন যে তাদের পরিবারে কোনো বংশগত/জিনগত রোগ (যেমন থ্যালাসেমিয়া, হিমোফিলিয়া, বর্ণান্ধতা) বহন করছেন কিনা।
২) আত্মীয়বিবাহ প্রতিরোধ: নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিবাহে (consanguineous marriage) প্রচ্ছন্ন ক্ষতিকর জিন দুই পার্টনারের মধ্যেই উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে, ফলে সন্তানদের মধ্যে জিনগত রোগ প্রকট হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। কাউন্সেলিং এই ঝুঁকি সম্পর্কে দম্পতিকে অবহিত করে সতর্ক করে।
৩) বাহক (carrier) শনাক্তকরণ: কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে জানা যায় কোনো ব্যক্তি কোনো প্রচ্ছন্ন রোগের বাহক (carrier) কিনা, যদিও তার নিজের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ নাও পেতে পারে। এই তথ্য ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নির্ণয়ে সহায়ক।
৪) সুস্থ সন্তান জন্মের সম্ভাবনা বৃদ্ধি: পূর্বাহ্নেই জিনগত ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত হয়ে দম্পতি সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মে জিনগত রোগের প্রকোপ হ্রাস করতে সাহায্য করে।
সংক্ষেপে: জেনেটিক কাউন্সেলিং বিবাহের পূর্বে দম্পতিদের বংশগত রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করে, যা সুস্থ সন্তান জন্মদানে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মে জিনগত ব্যাধির প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩.৯ বংশগতি সংক্রান্ত পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য মেন্ডেলের মটরগাছ নির্বাচনের দুটি কারণ লেখো ।
উত্তরঃ
১) সহজলভ্য বিপরীতধর্মী দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্য: মটরগাছে (Pisum sativum) সহজে শনাক্তযোগ্য এমন কতগুলি বিপরীতধর্মী (contrasting) বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল, যেমন—বীজের আকৃতি (গোল/কুঞ্চিত), ফুলের রং (বেগুনি/সাদা), গাছের উচ্চতা (লম্বা/বেঁটে) ইত্যাদি, যা সহজেই পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করা যেত।
২) স্বপরাগী ও স্বল্প জীবনচক্র: মটরগাছ স্বাভাবিকভাবে স্বপরাগী (self-pollinating) হওয়ায় বিশুদ্ধ (pure line) জিনোটাইপ সহজে পাওয়া যেত, আবার প্রয়োজনে কৃত্রিমভাবে ইতরপরাগযোগও (cross-pollination) সহজে ঘটানো যেত। এছাড়া মটরগাছের জীবনচক্র স্বল্প সময়ের এবং একটি ফলে প্রচুর বীজ উৎপন্ন হওয়ায় কম সময়ে অধিক সংখ্যক জনু নিয়ে পরীক্ষা করা সম্ভব হতো।
৩.১০ বাবা বর্ণান্ধ এবং মাতা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলে তাদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে কত শতাংশ বর্ণান্ধ হতে পারে তার সম্ভাবনা যুক্তিসহ বিচার করে লেখো ।
উত্তরঃ
বর্ণান্ধতা একটি X-ক্রোমোজোম বাহিত প্রচ্ছন্ন (X-linked recessive) বৈশিষ্ট্য।
ধরা যাক,
- বর্ণান্ধ বাবার জিনোটাইপ = XᶜY
- সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মায়ের জিনোটাইপ = XX
সংকরায়ন:
| X | X | |
|---|---|---|
| Xᶜ (বাবা) | XXᶜ (স্বাভাবিক বাহক কন্যা) | XXᶜ (স্বাভাবিক বাহক কন্যা) |
| Y (বাবা) | XY (স্বাভাবিক পুত্র) | XY (স্বাভাবিক পুত্র) |
ফলাফল:
- কন্যাদের ১০০% হবে স্বাভাবিক বাহক (carrier)।
- পুত্রদের ১০০% হবে স্বাভাবিক।
- কোনো সন্তানই বর্ণান্ধ হবে না।
অতএব, বাবা বর্ণান্ধ ও মাতা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হলে তাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে বর্ণান্ধ হওয়ার সম্ভাবনা = ০%।
৩.১১ জীবের একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য হলো অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি করা; এর ফলে জীবের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পায়—দুটি উদাহরণের সাহায্যে বক্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো ।
উত্তরঃ
ডারউইনের মতবাদ অনুযায়ী, প্রতিটি জীবের একটি সহজাত ধর্ম হলো তার প্রজনন ক্ষমতার মাধ্যমে অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি করা। যদি কোনো বাধা না থাকত, তাহলে যেকোনো জীবের সংখ্যা গাণিতিক (arithmetic) হারে না বেড়ে জ্যামিতিক (geometric) হারে বৃদ্ধি পেত। নিম্নলিখিত দুটি উদাহরণের মাধ্যমে এই বক্তব্যের যথার্থতা প্রমাণিত হয়:
উদাহরণ ১ – হাতি:
হাতি হলো পৃথিবীর সবচেয়ে ধীরগতিতে বংশবৃদ্ধিকারী স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম (প্রতি ৩০ বছরে গড়ে মাত্র ৬টি বাচ্চা প্রসব করে)। ডারউইনের হিসাব অনুযায়ী, একজোড়া হাতি থেকে যদি কোনো বাধা না থাকে, তাহলে প্রায় ৭৫০ বছরে প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ হাতির জন্ম হতো। এত ধীরগতির প্রজননশীল প্রাণীর ক্ষেত্রেও এই বিপুল সংখ্যাবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে প্রকৃতিতে জীবের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা রয়েছে।
উদাহরণ ২ – মাছ/ব্যাঙ:
একটি স্ত্রী মাছ বা ব্যাঙ একসঙ্গে বহু সংখ্যক (কয়েক হাজার থেকে লক্ষাধিক) ডিম পাড়ে। যদি এই সমস্ত ডিম থেকে উৎপন্ন প্রতিটি বাচ্চা বেঁচে থেকে পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় পৌঁছে পুনরায় প্রজনন করত, তাহলে অল্প কয়েক প্রজন্মের মধ্যেই সমুদ্র বা জলাশয় মাছ বা ব্যাঙে সম্পূর্ণ পূর্ণ হয়ে যেত।
৩.১২ কর্মী মৌমাছিরা খাদ্যের কোনো উৎসের সন্ধান পেলে কীভাবে মৌচাকের অন্যান্য কর্মী মৌমাছিদের কাছে সেই বার্তা আদান-প্রদান করে ?
উত্তরঃ
কর্মী মৌমাছি খাদ্যের উৎসের সন্ধান পেলে নৃত্যভাষার (dance language) মাধ্যমে মৌচাকের অন্যান্য কর্মী মৌমাছিদের কাছে সেই বার্তা পৌঁছে দেয়।
- খাদ্যের উৎস যদি মৌচাকের কাছাকাছি হয়, তবে কর্মী মৌমাছি বৃত্তাকার নৃত্য (round dance) করে। এর মাধ্যমে খাদ্যের উপস্থিতির খবর জানায়।
- খাদ্যের উৎস যদি দূরে হয়, তবে কর্মী মৌমাছি ওয়্যাগল নৃত্য (waggle dance) করে। এই নৃত্যের মাধ্যমে খাদ্যের উৎসের দূরত্ব ও দিকের নির্দেশ দেয়।
এইভাবে কর্মী মৌমাছিরা নৃত্যের সাহায্যে খাদ্যের উৎস সম্পর্কে অন্যান্য মৌমাছিকে জানায়।
৩.১৩ প্রাকৃতিক নির্বাচন বলতে কী বোঝ?
উত্তরঃ
পরিবেশের সঙ্গে অধিক উপযোগী বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবেরা বেঁচে থাকার ও বেশি সংখ্যায় বংশবিস্তার করার সুযোগ পায়, আর অনুপযোগী বৈশিষ্ট্যযুক্ত জীবেরা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়—এই প্রক্রিয়াকে প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে।
এটি চার্লস ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
৩.১৪ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার একটি সমস্যা হলো জলাভূমি ধ্বংস-এর ফলে যে যে ঘটনা ঘটতে পারে তার দুটি উল্লেখ করো ।
উত্তরঃ
১) জীববৈচিত্র্যের হ্রাস: জলাভূমি বহু জলজ ও উভচর প্রাণী, পাখি এবং উদ্ভিদের প্রাকৃতিক বাসস্থান ও প্রজননক্ষেত্র। জলাভূমি ধ্বংসের ফলে এইসব প্রজাতির বাসস্থান নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তাদের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পায় এবং কিছু প্রজাতি বিলুপ্তির সম্মুখীন হয়।
২) বন্যা ও জলবায়ুগত সমস্যা বৃদ্ধি: জলাভূমি স্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত বৃষ্টির জল শোষণ করে জলাধারের মতো কাজ করে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। জলাভূমি ধ্বংস হলে এই স্বাভাবিক জলধারণ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়, ফলে আশেপাশের অঞ্চলে বন্যার প্রকোপ বৃদ্ধি পায় এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তরও হ্রাস পেতে থাকে।
৩.১৫ বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশের ফলে জীববৈচিত্র্যের হ্রাস ঘটে ভারতের ক্ষেত্রে এই বক্তব্যের যথার্থতা দুটি উদাহরণসহ প্রমাণ করো ।
উত্তরঃ
বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশের ফলে স্থানীয় প্রজাতির সঙ্গে খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং অনেক সময় স্থানীয় প্রজাতি বিলুপ্তির পথে চলে যায়। ফলে জীববৈচিত্র্যের হ্রাস ঘটে।
উদাহরণ:
- জলজ আগাছা কচুরিপানা (Eichhornia crassipes): এটি বিদেশি প্রজাতি, যা জলাশয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। এর ফলে স্থানীয় জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ব্যাহত হয়।
- ল্যান্টানা (Lantana camara): এই বহিরাগত উদ্ভিদ অরণ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় উদ্ভিদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে, ফলে জীববৈচিত্র্য হ্রাস পায়।
অতএব, বহিরাগত প্রজাতির অনুপ্রবেশ ভারতের জীববৈচিত্র্য হ্রাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
৩.১৬ পূর্ব হিমালয় হটস্পটের একটি বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ও একটি বিলুপ্তপ্রায় স্তন্যপায়ী প্রাণীর নাম লেখো ।
উত্তরঃ
পূর্ব হিমালয় জীববৈচিত্র্যের হটস্পটের একটি বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ও একটি বিলুপ্তপ্রায় স্তন্যপায়ী প্রাণীর নাম হলো—
- বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ: রডোডেনড্রন (Rhododendron)
- বিলুপ্তপ্রায় স্তন্যপায়ী প্রাণী: লাল পান্ডা (Red Panda)
অতএব, পূর্ব হিমালয় হটস্পটে রডোডেনড্রন উদ্ভিদ এবং লাল পান্ডা স্তন্যপায়ী প্রাণী বিলুপ্তির আশঙ্কায় থাকা উল্লেখযোগ্য জীব।
৩.১৭ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট (JFM) এবং পিপলস্ বায়োডাইভারসিটি রেজিস্টার (PBR) এর একটি করে ভূমিকা লেখো ।
উত্তরঃ
১. জয়েন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট (JFM):
স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বন সংরক্ষণ ও বনজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা হয়। এর ফলে বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পায়।
২. পিপলস্ বায়োডাইভারসিটি রেজিস্টার (PBR):
কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, স্থানীয় জীবসম্পদ ও তার ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়, যা জীববৈচিত্র্য রক্ষার পরিকল্পনায় সাহায্য করে।
বিভাগ ‘ঘ’
৪। নীচের ছয়টি বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো। দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের ৪.১ নং প্রশ্নের পরিবর্তে ৪.১(A) নং প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫ (প্রশ্নের মান বিভাজন ৩+২ ২+৩ বা ৫ হতে পারে)। (৫×৬=৩০)
৪.১ মানুষের অক্ষিগোলকের লম্বচ্ছেদের একটি বিজ্ঞানসম্মত চিত্র অংকন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করো- (৩+২=৫)
(ক) কোরয়েড (খ) লেন্স (গ) কর্নিয়া (ঘ) ভিট্রিয়াস হিউমর
উত্তরঃ-

চিহ্নিত অংশসমূহ:
(ক) কোরয়েড (Choroid): অক্ষিগোলকের মধ্যবর্তী স্তর, যা রক্তনালির মাধ্যমে রেটিনাকে পুষ্টি সরবরাহ করে।
(খ) লেন্স (Lens): স্বচ্ছ দ্বি-উত্তল অংশ, যা আলোকরশ্মিকে রেটিনায় ফোকাস করতে সাহায্য করে।
(গ) কর্নিয়া (Cornea): অক্ষিগোলকের সামনের স্বচ্ছ অংশ, যা প্রধান প্রতিসারক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
(ঘ) ভিট্রিয়াস হিউমর (Vitreous humour): লেন্স ও রেটিনার মধ্যবর্তী জেলির মতো স্বচ্ছ পদার্থ, যা অক্ষিগোলকের আকৃতি বজায় রাখে।
অথবা
প্রাণীকোশের মাইটোসিস কোশবিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় একটি বিজ্ঞানসম্মত চিত্র অঙ্কন করে নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করো (৩+২=৫)
(ক) সেন্ট্রোমিয়ার (গ) মেরু অঞ্চল (খ) অপত্য ক্রোমোজোম (ঘ) বেমতত্ত্ব
উত্তরঃ-

চিহ্নিত অংশসমূহ:
(ক) সেন্ট্রোমিয়ার:
ক্রোমোজোমের যে অংশ দুটি ক্রোমাটিডকে যুক্ত রাখে তাকে সেন্ট্রোমিয়ার বলে। অ্যানাফেজে সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে অপত্য ক্রোমোজোম পৃথক হয়।
(খ) অপত্য ক্রোমোজোম:
সেন্ট্রোমিয়ার বিভাজনের পর পৃথক হয়ে যাওয়া ক্রোমোজোমকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে।
(গ) মেরু অঞ্চল:
কোশের দুই প্রান্ত বা মেরুকে মেরু অঞ্চল বলে, যেখানে সেন্ট্রিয়োল অবস্থান করে।
(ঘ) বেমতন্তু (Spindle fibre):
যে তন্তুর সাহায্যে অপত্য ক্রোমোজোম দুটি বিপরীত মেরুর দিকে সরে যায় তাকে বেমতন্তু বলে।
মনে রাখবে: অ্যানাফেজ দশার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো— সেন্ট্রোমিয়ার বিভাজন এবং অপত্য ক্রোমোজোমের বিপরীত মেরুর দিকে গমন।
(কেবলমাত্র দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের জন্য)
৪.১ (A) মানুষের অক্ষিগোলকের নিম্নলিখিত পাঁচটি অংশের প্রর্ত্যেকটির একটি করে কাজ লেখো:
(ক) কর্নিয়া (খ) লেন্স (গ) কোরয়েড (ঘ) ভিট্রিয়াস হিউমর (ঙ) রেটিনা (১×৫=৫)
উত্তরঃ-
(ক) কর্নিয়া (Cornea):
কর্নিয়া আলোকরশ্মির প্রধান প্রতিসারক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এবং আলোকে অক্ষিগোলকের ভিতরে প্রবেশ করায়।
(খ) লেন্স (Lens):
লেন্স আলোকরশ্মিকে রেটিনার উপর ফোকাস করতে সাহায্য করে এবং চোখের উপযোজনে অংশগ্রহণ করে।
(গ) কোরয়েড (Choroid):
কোরয়েডে থাকা রক্তনালির মাধ্যমে রেটিনাকে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং অতিরিক্ত আলো শোষণ করে।
(ঘ) ভিট্রিয়াস হিউমর (Vitreous humour):
ভিট্রিয়াস হিউমর অক্ষিগোলকের আকৃতি বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং রেটিনাকে যথাস্থানে ধরে রাখে।
(ঙ) রেটিনা (Retina):
রেটিনায় অবস্থিত আলোকসংবেদী কোশ (রড ও কোন) আলোক উদ্দীপনাকে স্নায়ু উদ্দীপনায় পরিণত করে।
অথবা
প্রাণীকোশের মাইটোসিসের অ্যানাফেজ দশায় ঘটা তিনটি পরিবর্তন উল্লেখ করো। ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের যে কোনো দুটি গঠনগত অংশের নাম লেখো। (৩+২=৫)
উত্তরঃ-
অ্যানাফেজ দশায় ঘটা তিনটি পরিবর্তন:
১) প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিভাজিত হয়ে দুটি ক্রোমাটিড পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং প্রতিটি ক্রোমাটিড এখন থেকে একটি স্বতন্ত্র অপত্য ক্রোমোজোম হিসেবে গণ্য হয়।
২) বেমতন্তুর (spindle fibre) সংকোচনের ফলে অপত্য ক্রোমোজোমগুলি সেন্ট্রোমিয়ারকে সামনে রেখে কোশের বিপরীত দুই মেরুর (pole) দিকে গমন করতে শুরু করে।
৩) ক্রোমোজোমগুলি মেরুর দিকে অগ্রসর হওয়ার ফলে কোশটি ক্রমশ লম্বাটে (elongated) আকার ধারণ করে, যা পরবর্তী টেলোফেজ দশায় কোশ বিভাজনের (cytokinesis) জন্য প্রস্তুতি নেয়।
ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের যেকোনো দুটি গঠনগত অংশ:
১) সেন্ট্রোমিয়ার (Centromere): ক্রোমোজোমের সংকীর্ণ অংশ, যা ক্রোমোজোমকে দুটি বাহুতে (arm) বিভক্ত করে এবং বেমতন্তুর সাথে সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে।
২) টেলোমিয়ার (Telomere): ক্রোমোজোমের দুই প্রান্তের বিশেষ গঠন, যা ক্রোমোজোমের DNA-কে ক্ষয় ও পরস্পরের সাথে জোড়া লাগা থেকে রক্ষা করে।
৪.২ কোশবিভাজনের নিম্নলিখিত তিনটি তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো-
বৃদ্ধি , ক্ষয়পূরণ , প্রজনন
জীবজগতে মিয়োসিস কোশবিভাজনের সংঘটনস্থানগুলো সারণির সাহায্যে লেখো। (৩+২=৫)
উত্তরঃ-
কোশবিভাজনের তাৎপর্য:
১) বৃদ্ধি (Growth): মাইটোসিস কোশবিভাজনের মাধ্যমে একটি কোশ থেকে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়, যাদের ক্রোমোজোম সংখ্যা ও গঠন মাতৃকোশের অনুরূপ থাকে। এইভাবে ক্রমাগত কোশবিভাজনের ফলে কোশের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, যা দেহের আকার ও ওজন বৃদ্ধি ঘটিয়ে জীবের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও পরিস্ফুটনে সাহায্য করে। যেমন—ভ্রূণের কোশ বিভাজিত হয়ে সম্পূর্ণ জীবদেহ গঠিত হয়।
২) ক্ষয়পূরণ (Repair): দেহের কোনো অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হলে বা কোশ মৃত্যুবরণ করলে, মাইটোসিস কোশবিভাজনের মাধ্যমে নতুন কোশ সৃষ্টি হয়ে সেই ক্ষতিগ্রস্ত বা মৃত কোশের স্থান পূরণ করে। যেমন—ত্বকের ক্ষত সেরে যাওয়া, ভাঙা অস্থি জোড়া লাগা প্রভৃতি ক্ষয়পূরণ প্রক্রিয়ায় কোশবিভাজনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
৩) প্রজনন (Reproduction): যৌন জননে মিয়োসিস কোশবিভাজনের মাধ্যমে গ্যামেট (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) উৎপন্ন হয়, যাদের মিলনের ফলে নতুন জীবের সৃষ্টি হয়। আবার অযৌন জননে (যেমন—ব্যাক্টেরিয়া, অ্যামিবা) সরাসরি কোশবিভাজনের (মাইটোসিস/অ্যামাইটোসিস) মাধ্যমেই নতুন জীবের উৎপত্তি ঘটে। এইভাবে কোশবিভাজন প্রজাতির ধারাবাহিকতা (continuity) বজায় রাখতে সাহায্য করে।
জীবজগতে মিয়োসিস কোশবিভাজনের সংঘটনস্থল:
| জীবের শ্রেণি | মিয়োসিসের সংঘটনস্থল |
|---|---|
| ছত্রাক (Fungi) | রেণুধর (spore mother cell) |
| শৈবাল (Algae) | জাইগোট বা রেণুমাতৃকোশ |
| উন্নত উদ্ভিদ (সপুষ্পক উদ্ভিদ) | পরাগধানী ও ডিম্বকের রেণুমাতৃকোশ (PMC/EMC) |
| প্রাণী (Animal) | জননগ্রন্থি অর্থাৎ শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়ের জননকোশ (গ্যামেটোসাইট) |
অথবা
মাইক্রোপ্রপাগেশন পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো। অযৌন ও যৌন জননের মধ্যে নিম্নলিখিত তিনটি বিষয়ে পার্থক্য নিরূপণ করো (২+৩=৫)
উত্তরঃ-
মাইক্রোপ্রপাগেশন হলো টিস্যু কালচার পদ্ধতির মাধ্যমে অতি অল্প সময়ে প্রচুর সংখ্যক অপত্য উদ্ভিদ সৃষ্টি করার কৃত্রিম অযৌন জনন পদ্ধতি।
এই পদ্ধতিতে উদ্ভিদের কোনো ক্ষুদ্র অংশ বা এক্সপ্ল্যান্ট (Explant)-কে পুষ্টিসমৃদ্ধ কৃত্রিম মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত পরিবেশে প্রতিপালন করা হয়। কোশ বিভাজনের মাধ্যমে ক্যালাস তৈরি হয় এবং পরে তা থেকে নতুন চারাগাছ সৃষ্টি হয়। এই চারাগাছ মাটিতে স্থানান্তর করে পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদে পরিণত করা হয়।
অযৌন ও যৌন জননের মধ্যে পার্থক্য:
| বিষয় | অযৌন জনন | যৌন জনন |
|---|---|---|
| ১. জনিত জীবের সংখ্যা | সাধারণত একটি জনিত জীবের প্রয়োজন হয়। | সাধারণত দুটি জনিত জীবের প্রয়োজন হয়। |
| ২. গ্যামেটের ভূমিকা | গ্যামেট উৎপন্ন বা মিলন হয় না। | গ্যামেট উৎপন্ন হয় এবং তাদের মিলন ঘটে। |
| ৩. অপত্যের বৈশিষ্ট্য | অপত্য জীব পিতৃজীবের অনুরূপ হয় (জিনগত বৈচিত্র্য কম)। | অপত্য জীবের মধ্যে জিনগত বৈচিত্র্য দেখা যায়। |
সুতরাং, অযৌন জনন দ্রুত সংঘটিত হয়, কিন্তু যৌন জনন জীবের অভিযোজন ও বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪.৩ বিশুদ্ধ কালো বর্ণ ও অমসৃণ লোমযুক্ত একটি গিনিপিগের সঙ্গে বিশুদ্ধ সাদা বর্ণ ও মসৃণ লোমযুক্ত একটি গিনিপিগের সংকরায়ণ ঘটালে দ্বিতীয় অপত্য বংশে সৃষ্ট অপত্যগুলোর ফিনোটাইপ অনুপাত চেকারবোর্ডের সাহায্যে দেখাও। ‘সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে বাবার ভূমিকাই মুখ্য’- একটি চেকারবোর্ডের সাহায্যে বক্তব্যটির সত্যতা যাচাই করো। (২+৩=৫)
উত্তরঃ-
(১) গিনিপিগের সংকরায়ণ ও F₂ জনুর ফিনোটাইপ অনুপাত
ধরি,
- কালো বর্ণ (B) = প্রকট বৈশিষ্ট্য
- সাদা বর্ণ (b) = প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য
- অমসৃণ লোম (R) = প্রকট বৈশিষ্ট্য
- মসৃণ লোম (r) = প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য
P জনু:
বিশুদ্ধ কালো, অমসৃণ লোমযুক্ত = BBRR
×
বিশুদ্ধ সাদা, মসৃণ লোমযুক্ত = bbrr
F₁ জনু:
সব অপত্য = BbRr (কালো ও অমসৃণ লোমযুক্ত)
F₁ × F₁ = BbRr × BbRr
গ্যামেট: BR, Br, bR, br
F₂ চেকারবোর্ড:
| BR | Br | bR | br | |
|---|---|---|---|---|
| BR | BBRR | BBRr | BbRR | BbRr |
| Br | BBRr | BBrr | BbRr | Bbrr |
| bR | BbRR | BbRr | bbRR | bbRr |
| br | BbRr | Bbrr | bbRr | bbrr |
F₂ ফিনোটাইপ অনুপাত:
- কালো অমসৃণ = 9
- কালো মসৃণ = 3
- সাদা অমসৃণ = 3
- সাদা মসৃণ = 1
অতএব, F₂ ফিনোটাইপ অনুপাত = 9 : 3 : 3 : 1
(২) সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে বাবার ভূমিকা মুখ্য — চেকারবোর্ড দ্বারা প্রমাণ
মানুষের ক্ষেত্রে—
- স্ত্রী = XX
- পুরুষ = XY
মাতার ডিম্বাণুতে শুধু X ক্রোমোজোম থাকে।
পিতার শুক্রাণু দুই ধরনের— X ও Y।
চেকারবোর্ড:
| X (মাতা) | X (মাতা) | |
|---|---|---|
| X (পিতা) | XX (কন্যা) | XX (কন্যা) |
| Y (পিতা) | XY (পুত্র) | XY (পুত্র) |
ফলাফল:
- XX = কন্যাসন্তান (৫০%)
- XY = পুত্রসন্তান (৫০%)
অতএব, পিতার X বা Y ক্রোমোজোমযুক্ত শুক্রাণু সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ করে। তাই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে বাবার ভূমিকাই মুখ্য।
অথবা
মেন্ডেলের সাফল্যের তিনটি কারণ লেখো। উপযুক্ত উদাহরণসহ ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করো। (৩+২=৫)
উত্তরঃ-
(১) মেন্ডেলের সাফল্যের তিনটি কারণ:
মেন্ডেল বংশগতির পরীক্ষায় সফল হয়েছিলেন কারণ—
১. উপযুক্ত জীব নির্বাচন:
তিনি পরীক্ষার জন্য মটরগাছ (Pisum sativum) নির্বাচন করেছিলেন, যাতে অনেকগুলি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য ছিল (যেমন— লম্বা/খাটো কাণ্ড, হলুদ/সবুজ বীজ)।
২. একবারে একটি বা কয়েকটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের উপর পরীক্ষা:
তিনি একসংকর ও দ্বিসংকর জননের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।
৩. গাণিতিক বিশ্লেষণ ও পরিসংখ্যানের ব্যবহার:
তিনি পরীক্ষার ফলাফলকে সংখ্যার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছিলেন এবং এর ভিত্তিতে বংশগতির সূত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
(২) ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপের সম্পর্ক:
ফিনোটাইপ: কোনো জীবের প্রকাশিত বা দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যকে ফিনোটাইপ বলে।
জিনোটাইপ: কোনো জীবের জিনগত গঠন বা জিনের বিন্যাসকে জিনোটাইপ বলে।
উদাহরণ: মটরগাছের ক্ষেত্রে—
- লম্বা কাণ্ডের জিনোটাইপ হতে পারে TT বা Tt
- খাটো কাণ্ডের জিনোটাইপ হলো tt
এখানে T (লম্বা) প্রকট জিন এবং t (খাটো) প্রচ্ছন্ন জিন।
সুতরাং,
TT ও Tt → লম্বা ফিনোটাইপ
tt → খাটো ফিনোটাইপ
অতএব, জিনোটাইপের উপর ভিত্তি করেই জীবের ফিনোটাইপ প্রকাশ পায়।
৪.৪ জিরাফের গলা লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে ডারউইন-এর মতবাদ ব্যাখ্যা করো। ‘হট ডাইলিউট স্যুপ’ কী? (৩+২=৫)
উত্তরঃ-
জিরাফের গলা লম্বা হওয়ার ক্ষেত্রে ডারউইনের মতবাদ:
ডারউইনের প্রাকৃতিক নির্বাচনবাদ অনুসারে জিরাফের লম্বা গলার বিবর্তন নিম্নলিখিত ধাপে ব্যাখ্যা করা যায়—
১) প্রকরণ (Variation): জিরাফের আদি পূর্বপুরুষদের মধ্যে ঘাড়ের দৈর্ঘ্যের ক্ষেত্রে সহজাত প্রকরণ ছিল — কারো ঘাড় তুলনামূলক লম্বা, কারো ছোট।
২) অতিরিক্ত জন্মহার ও জীবনসংগ্রাম (Struggle for existence): জিরাফের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেলেও পরিবেশে খাদ্য (নিচু গাছের পাতা) সীমিত ছিল। ফলে খাদ্যের জন্য জিরাফদের মধ্যে তীব্র জীবনসংগ্রাম শুরু হয়েছিল।
৩) যোগ্যতমের উদবর্তন (Survival of the fittest): এই সংগ্রামে যেসব জিরাফের ঘাড় তুলনামূলক লম্বা ছিল, তারা উঁচু গাছের পাতা সহজে খেতে পেরে বেঁচে থাকতে ও বংশবৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছিল। অন্যদিকে ছোট ঘাড়বিশিষ্ট জিরাফরা পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল।
৪) প্রাকৃতিক নির্বাচন ও বংশানুসরণ: এইভাবে দীর্ঘ ঘাড়ের বৈশিষ্ট্যযুক্ত জিরাফরা প্রকৃতি দ্বারা নির্বাচিত হয়ে তাদের এই উপযোগী বৈশিষ্ট্য পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত করেছিল। বহু প্রজন্ম ধরে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকায় ক্রমান্বয়ে জিরাফের ঘাড় লম্বা থেকে লম্বাতর হয়ে বর্তমান আকার ধারণ করেছে।
‘হট ডাইলিউট স্যুপ’ (Hot Dilute Soup):
রুশ বিজ্ঞানী ওপারিন জীবনের রাসায়নিক উৎপত্তি সম্পর্কিত তত্ত্বে বলেন যে, আদিম পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত মিথেন, অ্যামোনিয়া, জলীয় বাষ্প, হাইড্রোজেন প্রভৃতি গ্যাসগুলি সৌরালোকের অতিবেগুনি রশ্মি ও বজ্রপাতের শক্তি দ্বারা বিক্রিয়া করে সরল জৈব যৌগ (যেমন অ্যামাইনো অ্যাসিড, শর্করা) গঠন করেছিল।
এই জৈব যৌগগুলি বৃষ্টির জলের সাথে ধুয়ে আদিম সমুদ্রে জমা হয়ে একটি ঘন, তরল, উষ্ণ ও লবণাক্ত দ্রবণ তৈরি করেছিল, যাকে ওপারিন ‘হট ডাইলিউট স্যুপ’ বা ‘তপ্ত লঘু স্যুপ’ নামে অভিহিত করেন। এই স্যুপেই ক্রমান্বয়ে জটিল জৈব অণু (যেমন প্রোটিন, নিউক্লিক অ্যাসিড) সৃষ্টি হয়ে জীবনের উৎপত্তির সূচনা ঘটেছিল বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
অথবা
একটি রেখাচিত্রের সাহায্যে জৈব অভিব্যক্তির মুখ্য ঘটনাবলির ক্রমটি নির্মাণ করো। শিম্পাঞ্জির সমস্যা সমাধান দক্ষতার দুটি উদাহরণ দাও। (৩+২=৫)
উত্তরঃ-

শিম্পাঞ্জির সমস্যা সমাধান দক্ষতার দুটি উদাহরণ:
১) হাতিয়ার ব্যবহার করে খাদ্য সংগ্রহ: শিম্পাঞ্জি উঁইপোকা বা পিঁপড়ের ঢিবি থেকে পোকা সংগ্রহের জন্য লম্বা কাঠি বা ঘাসের ডাঁটা ব্যবহার করে। তারা কাঠিটি ঢিবির গর্তে প্রবেশ করিয়ে বের করে আনে, যাতে পোকাগুলি কাঠির গায়ে লেগে ওঠে আসে এবং সেগুলি খেয়ে ফেলে। এটি প্রমাণ করে যে শিম্পাঞ্জি একটি নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধানে সচেতনভাবে হাতিয়ার তৈরি ও ব্যবহার করতে সক্ষম।
২) বাক্স স্তূপ করে উঁচু খাদ্য সংগ্রহ (Insight Learning): ভোলফগ্যাং কোহলারের বিখ্যাত পরীক্ষায় দেখা যায়, উঁচুতে ঝোলানো কলা নাগালের বাইরে থাকলে শিম্পাঞ্জি ঘরে রাখা একাধিক বাক্স একটির ওপর আরেকটি স্তূপাকারে সাজিয়ে তার ওপর উঠে কলাটি সংগ্রহ করে। এই আচরণ কোনো পূর্ব প্রশিক্ষণ ছাড়াই আকস্মিক অন্তর্দৃষ্টির (insight) মাধ্যমে ঘটে, যা শিম্পাঞ্জির উচ্চস্তরের বুদ্ধিমত্তা ও যুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধান ক্ষমতার প্রমাণ দেয়।
৪.৫ ভাসমান ক্ষুদ্র কণা প্রশ্বাসের মাধ্যমে শ্বাসনালীতে প্রবেশ করলে সৃষ্টি হতে পারে এমন দুটি ব্যাধির একটি করে উপসর্গ লেখো। কৃষিক্ষেত্রের বর্জ্য জলাশয়ে মিশলে যে যে ঘটনাগুলো ঘটে তার ক্রম নির্মাণ করো। (৩+২= ৫)
উত্তরঃ-
(১) ভাসমান ক্ষুদ্র কণা প্রশ্বাসের মাধ্যমে শ্বাসনালীতে প্রবেশ করলে সৃষ্ট দুটি ব্যাধি ও তাদের একটি করে উপসর্গ:
| ব্যাধি | উপসর্গ |
|---|---|
| অ্যাজমা (হাঁপানি) | শ্বাসকষ্ট ও শ্বাস নেওয়ার সময় সাঁই সাঁই শব্দ হওয়া। |
| ব্রঙ্কাইটিস | দীর্ঘস্থায়ী কাশি ও শ্বাসনালিতে প্রদাহ। |
(২) কৃষিক্ষেত্রের বর্জ্য জলাশয়ে মিশলে ঘটনাগুলোর ক্রম:
কৃষিক্ষেত্রের সার ও কীটনাশকযুক্ত বর্জ্য জলাশয়ে মিশলে—
নাইট্রেট ও ফসফেটের পরিমাণ বৃদ্ধি
↓
শৈবালের অতিরিক্ত বৃদ্ধি (অ্যালগাল ব্লুম)
↓
জলে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস
↓
জলজ প্রাণীর মৃত্যু
↓
ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication)
এই ঘটনাক্রমের ফলে জলাশয়ের বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অথবা
জীববৈচিত্র্য হ্রাসের একটি অন্যতম কারণ হলো চোরাশিকার- এর ফলে যে সকল বন্যপ্রাণী আজ বিলুপ্তির পথে তাদের যে কোনো তিনটির একটি তালিকা তৈরি করো। জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ পদ্ধতিগুলো একটি সারণির সাহায্যে দেখাও। (৩+২=৫)
উত্তরঃ-
চোরাশিকারের ফলে বিলুপ্তির পথে তিনটি বন্যপ্রাণীর তালিকা:
১) রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার (Royal Bengal Tiger): এদের চামড়া, হাড় ও অন্যান্য দেহাংশের জন্য (যা ঐতিহ্যগত ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয় বলে দাবি করা হয়) ব্যাপক চোরাশিকার হয়, ফলে সুন্দরবন-সহ বিভিন্ন অঞ্চলে এদের সংখ্যা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
২) একশৃঙ্গ গন্ডার (One-horned Rhinoceros): এদের শিংয়ের (horn) জন্য, যা আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়, ব্যাপক হারে চোরাশিকার চলছে, ফলে আসাম-সহ ভারতের কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে এদের অস্তিত্ব বিপন্ন।
৩) হাতি (Elephant): এদের দাঁত বা গজদন্তের (ivory) জন্য চোরাশিকারিরা হাতি হত্যা করে, যার ফলে এশীয় হাতির সংখ্যা ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পদ্ধতি:
| সংরক্ষণ পদ্ধতি | বিবরণ |
|---|---|
| সংরক্ষিত অরণ্য (Protected Forest) | সরকার কর্তৃক ঘোষিত বনাঞ্চল, যেখানে সীমিত শর্তসাপেক্ষে গাছ কাটা ও চারণের অনুমতি থাকে |
| জাতীয় উদ্যান (National Park) | সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত অঞ্চল, যেখানে বন্যপ্রাণী, উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষিত থাকে এবং মানুষের কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা সীমিত |
| বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য (Wildlife Sanctuary) | নির্দিষ্ট বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও প্রজননের জন্য সংরক্ষিত অঞ্চল, যেখানে সীমিত মানবিক কার্যকলাপের অনুমতি থাকে |
| বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (Biosphere Reserve) | বৃহৎ সংরক্ষিত অঞ্চল, যেখানে জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্যগত জীবনধারাও সংরক্ষিত রাখা হয় (যেমন—সুন্দরবন, নীলগিরি) |
| জিন ব্যাংক (Gene Bank) | বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর জিন, বীজ, শুক্রাণু, ডিম্বাণু ইত্যাদি হিমায়িত অবস্থায় দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য মজুত রাখা হয় |
| অন্তঃস্থ বা ইন-সিটু সংরক্ষণ (In-situ conservation) | বৃহৎ সংরক্ষিত অঞ্চল, যেখানে জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের ঐতিহ্যগত জীবনধারাও সংরক্ষিত রাখা হয় (যেমন—সুন্দরবন, নীলগিরি) |
| বহিঃস্থ বা এক্স-সিটু সংরক্ষণ (Ex-situ conservation) | বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর জিন, বীজ, শুক্রাণু, ডিম্বাণু ইত্যাদি হিমায়িত অবস্থায় দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করে ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য মজুত রাখা হয় |
৪.৬ সুন্দরবনের তিনটি পরিবেশগত সমস্যা হলো-
- খাদ্য-খাদকের সংখ্যার ভারসাম্যে ব্যাঘাত
- সমুদ্র জলের উচ্চতা বৃদ্ধি সমস্যা তিনটির
- নগরায়নের জন্য লবণাম্বু উদ্ভিদ ধ্বংস
সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ করো। ভারত ও ভারতের বাইরে ভৌগোলিক অঞ্চলে ব্যাপ্ত এমন একটি জীববৈচিত্র্য হটস্পটের অবস্থান ও ওই হটস্পটের একটি বিপন্ন জীবের নাম লেখো। (৩+২=৫)
উত্তরঃ-
সুন্দরবনের তিনটি পরিবেশগত সমস্যার সম্ভাব্য ফলাফল বিশ্লেষণ:
১) খাদ্য-খাদকের সংখ্যার ভারসাম্যে ব্যাঘাত:
সুন্দরবনে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ প্রভৃতি প্রাণীর মধ্যে খাদ্যশৃঙ্খলের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হলে— শিকারি প্রাণী (যেমন বাঘ) খাদ্যাভাবে লোকালয়ে প্রবেশ করে মানুষ-বাঘ সংঘাত বৃদ্ধি পেতে পারে, অথবা তৃণভোজী প্রাণীর (হরিণ) সংখ্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়ে উদ্ভিদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়ে সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গঠন ভেঙে পড়তে পারে।
২) সমুদ্রজলের উচ্চতা বৃদ্ধি:
বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে সুন্দরবনের নিচু দ্বীপগুলি ক্রমশ জলমগ্ন হয়ে যেতে পারে (যেমন—লোহাচড়া দ্বীপের বিলুপ্তি), ফলে স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের বাসস্থান সংকুচিত হয়ে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং উপকূলীয় জনবসতিও বিপন্ন হতে পারে।
৩) নগরায়নের জন্য লবণাম্বু উদ্ভিদ ধ্বংস:
ম্যানগ্রোভ (লবণাম্বু) উদ্ভিদ ধ্বংস হলে উপকূল রক্ষাকারী প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে, মাটির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হতে পারে এবং ম্যানগ্রোভ-নির্ভর বহু জলজ ও স্থলজ প্রজাতির (যেমন মাছ, কাঁকড়া) প্রজনন ও বাসস্থান নষ্ট হয়ে তাদের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেতে পারে।
(২) ভারত ও ভারতের বাইরে বিস্তৃত একটি জীববৈচিত্র্য হটস্পটের অবস্থান ও একটি বিপন্ন জীব:
হটস্পটের নাম: পূর্ব হিমালয় জীববৈচিত্র্য হটস্পট (Eastern Himalaya Biodiversity Hotspot)
অবস্থান:
এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি (যেমন— সিকিম, অরুণাচল প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং অঞ্চল) এবং ভারতের বাইরে ভুটান, নেপাল ও মায়ানমারের কিছু অংশে বিস্তৃত।
বিপন্ন জীব:
লাল পান্ডা (Red Panda)
(অন্য উদাহরণ: রডোডেনড্রন উদ্ভিদ।)
অথবা
শব্দচিত্রের মাধ্যমে নাইট্রোজেন চক্রটি বর্ণনা করো। নাইট্রোজেন চক্রটি ব্যাহত হলে যে যে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে তার দুটি বিশ্লেষণ করো। (৩+২-৫)
উত্তরঃ-

