মাধ্যমিক ২০২৪ পরীক্ষার জীবন বিজ্ঞান বিষয়ে যারা সঠিক ও নির্ভরযোগ্য উত্তর খুঁজছো, তাদের জন্য এই পোস্টে রইল Madhyamik Life Science Question Paper 2024 With Answer সম্পূর্ণভাবে। WBBSE বোর্ডের এই পরীক্ষায় যে প্রশ্নপত্র এসেছিল, মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রশ্নপত্র ২০২৪ সমধান এখানে তৈরি করা হয়েছে বোর্ডের মার্কিং স্কিম মাথায় রেখে, যাতে তোমরা বুঝতে পারো কোন প্রশ্নের উত্তর কীভাবে সাজিয়ে লিখলে পূর্ণ নম্বর পাওয়া যায়। প্রতিটি অধ্যায় থেকে আসা প্রশ্নের উত্তর ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করে দেওয়া হয়েছে, যাতে তোমরা পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, কঠিন টপিক এবং গুরুত্বপূর্ণ চ্যাপ্টারগুলো সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা পাও। পরবর্তী মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গত বছরের প্রশ্নপত্র সমাধান করা তোমাদের সবচেয়ে কার্যকরী অভ্যাসগুলোর একটি, আর এই পোস্ট সেই প্রস্তুতিকেই আরও মজবুত করবে।
তোমরা যদি উত্তরসহ মাধ্যমিক ২০২৪ জীবন বিজ্ঞান প্রশ্নপত্র একসঙ্গে পেতে চাও, তাহলে এই পোস্ট তোমাদের জন্যই তৈরি। এখানে Madhyamik 2024 Life Science Solved Paper অনুযায়ী প্রতিটি প্রশ্নের ব্যাখ্যা সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে দেওয়া হয়েছে, যাতে তোমরা শুধু উত্তর মুখস্থ না করে কনসেপ্টও ভালোভাবে বুঝতে পারো। এই পেজ থেকে সম্পূর্ণ প্রশ্নপত্রের সমাধান PDF আকারেও পেয়ে যাবে, যা অফলাইনে পড়াশোনার জন্য বিশেষভাবে সহায়ক হবে। মাধ্যমিক জীবন বিজ্ঞান প্রশ্নপত্র ভালোভাবে অনুশীলন করলে খাতায় নম্বর বাড়ানোর পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে তোমাদের আত্মবিশ্বাসও অনেকটা বেড়ে যাবে।
উত্তরসহ মাধ্যমিক ২০২৪ জীবন বিজ্ঞান প্রশ্নপত্র | Madhyamik 2024 Life Science Solved Paper
বিভাগ ক
১। প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ লেখো। ১×১৫=১৫
১.১ নীচের সঠিক জোড়াটি নির্বাচন করো–
(ক) লেন্স- নিজ তলের বক্রতা পরিবর্তন ঘটিয়ে উপযোজন সম্পন্ন করে
(খ) রেটিনা – লেন্সকে সাসপেনসরি লিগামেন্টের সাহায্যে ধরে রাখে
(গ) করনিয়া- অ্যাকুয়াস হিউমর ক্ষরণ করে
(ঘ) কোরয়েড-অক্ষিগোলকের আকার বজায় রাখতে সাহায্য করে
উত্তরঃ (ক) লেন্স- নিজ তলের বক্রতা পরিবর্তন ঘটিয়ে উপযোজন সম্পন্ন করে
১.২. হরমোন ও স্নায়ুতন্ত্রের মধ্যে নীচের পার্থক্যগুলো বিবেচনা করো এবং কোনগুলো সঠিক তা বেছে নাও।
| হরমোন | স্নায়ুতন্ত্র |
| I. হরমোন ভৌত সমন্বায়ক | স্নায়ুতন্ত্র রাসায়নিক সমন্বায়ক |
| II. হরমোনের কাজ ধীরগতিতে হয় | স্নায়ুতন্ত্রের কাজ দ্রুত এবং তাৎক্ষণিক |
| III. হরমোনের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী | স্নায়ুতন্ত্রের প্রভাব স্বল্পস্থায়ী |
| IV. হরমোন কাজের শেষে অপরিবর্তিত থাকে | স্নায়ুতন্ত্র কাজের শেষে নষ্ট হয় |
(ক) I, IV
(খ) I, III
(গ) II, III
(খ) II. IV
উত্তরঃ (গ) II, III
১.৩ বাইসেপস, পাইরিফরমিস্ ও ল্যাটিসিমাস ডর্সাই পেশির প্রকৃতি যথাক্রমে হলো–
(ক) অ্যাডাক্টর, এক্সটেনসর, অ্যাবডাক্টর
(খ) এক্সটেনসর, ফ্লেক্সর, রোটেটর
(গ) ফ্লেক্সর, রোটেটর, অ্যাডাক্টর
(ঘ) রোটেটর, অ্যাবডাক্টর, অ্যাডাক্টর
উত্তরঃ (গ) ফ্লেক্সর, রোটেটর, অ্যাডাক্টর
১.৪ মাইটোসিসের কোনো একটি দশায় নিউক্লিয় জালিকা পুনর্গঠিত হয়, নিউক্লিয় পর্দার পুনরাবির্ভাব ঘে নিউক্লিওলাসের পুনরুৎপত্তি ঘটে ও বেমতত্ত্ব অবলুপ্ত। হয়। দশাটি কি ?
(ক) প্রোফেজ
(খ) অ্যানাফেজ
(গ) মেটাফেজ
(ঘ) টেলোফেজ
উত্তরঃ টেলোফেজ
১.৫ সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন পদ্ধতিতে নীচের কোন ঘটনাটি ঘটে?
(ক) জাইগোট ফলে রূপান্তরিত হয়
(খ) জাইগোট বীজে রূপান্তরিত হয়
(গ) এককোশী ও গোট বহুকোশী তৃণে রূপান্তরিত হয়
(ঘ) ডিম্বাশয় ধূপান্তরিত হয়
উত্তরঃ (গ) এককোশী ও গোট বহুকোশী তৃণে রূপান্তরিত হয়
১.৬ ক্রোমোজোমের কোন গঠন সংক্রান্ত অংশটি ক্রোমোজোমের ঠিক মাঝখানে কিংবা যে কোনো একপ্রান্তে অবস্থান করতে পারে?
(ক) টেলোমিয়ার
(গ) স্যাটেলাইট
(খ) নিউক্লিওলার অরগ্যানাইজার
(ঘ) সেন্ট্রোমিয়ার
উত্তরঃ (ঘ) সেন্ট্রোমিয়ার
১.৭ মটরগাছের ফুলের বর্ণ সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে প্রকট ও প্রচ্ছন্ন গুণগুলো কী কী?
(ক) বেগুনি ও সবুজ
(খ) বেগুনি ও সাদা
(গ) সাদা ও বেগুনি
(ঘ) বেগুনি ও হলুদ
উত্তরঃ (খ) বেগুনি ও সাদা
১.৮ গিনিপিগের ক্ষেত্রে দ্বিসংকর জননের F2 জনুতে উৎপন্ন BBRR, BBrr, bbRR ও bbrr জিনোটাইপ চারটির সংখ্যার অনুপাতটি কী?
(ক) 1:1:1:1
(গ) 4:2:2:1
(খ) 2:4:2:4
(ঘ) 2:4:1:2
উত্তরঃ (ক) 1:1:1:1
১.৯ একজন আপাত স্বাভাবিক কিন্তু হিমোফিলিয়া রোগের বাহক মহিলা যদি কোনো স্বাভাবিক পুরুষকে বিবাহ করেন এবং তাদের যদি দুটি পুত্রসন্তান ও দুটি কন্যাসন্তান জন্মায়, তবে ঐ সন্তানদের মধ্যে হিমোফিলিয়া ঘটার সম্ভাবনা কত?
(ক) 100% পুত্র হিমোফিলিক ও ০% কন্যা হিমোফিলিক
(খ) 50% পুত্র হিমোফিলিক ও 50% কন্যা হিমোফিলিক
(গ) ০% পুত্র হিমোফিলিক ও 50% কন্যা হিমোফিলিক
(ঘ) 50% পুত্র হিমোফিলিক ও 50% আপাত স্বাভাবিক বাহক কন্যা
উত্তরঃ (ঘ) 50% পুত্র হিমোফিলিক ও 50% আপাত স্বাভাবিক বাহক কন্যা
১.১০ নীচের কোনটি ইক্যুয়াসের বৈশিষ্ট্য?
(ক) অগ্রপদ ও পশ্চাৎপদের প্রত্যেকটিতে খুরযুক্ত তিনটি আঙুল
(খ) অগ্রপদের প্রত্যেকটিতে চারটি ও পশ্চাৎপদের প্রত্যেকটিতে দুটি খুরযুক্ত আঙুল
(গ) অগ্রপদ ও পশ্চাৎপদের প্রত্যেকটিতে খুরযুক্ত দুটি আঙুল
(ঘ) অগ্রপদ ও পশ্চাৎপদের প্রত্যেকটিতে খুরযুক্ত একটিমাত্র আঙুল
উত্তরঃ (ঘ) অগ্রপদ ও পশ্চাৎপদের প্রত্যেকটিতে খুরযুক্ত একটিমাত্র আঙুল
১.১১ নীচের কোনটি ডারউইনের অভিব্যক্তি সংক্রান্ত মতবাদের একটি সিদ্ধান্ত ?
(ক) প্রাকৃতিক নির্বাচন
(খ) প্রকরণ
(গ) অত্যধিক হারে বংশবৃদ্ধি
(ঘ) সীমিত খাদ্য ও বাসস্থান
উত্তরঃ (ক) প্রাকৃতিক নির্বাচন
১.১২ উটের অতিরিক্ত জল ক্ষয় সহনের ক্ষমতার সংগে সম্পর্কিত অভিযোজিত বৈশিষ্ট্যটি কী ?
(ক) বেলনাকার লোহিত রক্তকণিকা
(খ) গোলাকার লোহিত রক্তকণিকা
(গ) ডিম্বাকার লোহিত রক্তকণিকা
(ঘ) ঘনকাকার লোহিত রক্তকণিকা
উত্তরঃ (গ) ডিম্বাকার লোহিত রক্তকণিকা
১.১৩ নাইট্রোজেন চক্রের কোন ধাপের সঙ্গে অণুজীব নাইট্রোসোমোনাস ও নাইট্রোব্যাক্তর সহ্যশ্লিষ্ট ?
(ক) নাইট্রিফিকেশন
(খ) ডিনাইট্রিফিকেশন
(গ) নাইট্রোজেন স্থিতিকরণ
(ঘ) অ্যামোনিফিকেশন
উত্তরঃ (ক) নাইট্রিফিকেশন
১.১৪ মিজোরাম ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ কোন কোন্ জীববৈচিত্র্যের হটস্পটের অন্তর্ভুক্ত?
(ক) পূর্বহিমালয়, পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও শ্রীলঙ্কা
(খ) সুন্দাল্যান্ড, ইন্দো-বার্মা
(গ) ইন্দো-বার্মা, সুন্দাল্যান্ড
(ঘ) সুন্দাল্যান্ড, পূর্ব হিমালয়
উত্তরঃ (গ) ইন্দো-বার্মা, সুন্দাল্যান্ড
১.১৫ গরুমারা, নীলগিরি ও কুলিক কোন কোন ধরনের ইন–সিটু সংরক্ষণ?
(ক) জাতীয় উদ্যান, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, অভয়ারণ্য
(খ) বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান
(গ) অভয়ারণ্য, জাতীয় উদ্যান, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ
(ঘ) বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, জাতীয় উদ্যান, জাতীয় উদ্যান
উত্তরঃ (ক) জাতীয় উদ্যান, বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ, অভয়ারণ্য
বিভাগ-খ
২. নীচের ২৬ টি প্রশ্ন থেকে ২১টি প্রশ্নের উত্তর নির্দেশ অনুসারে লেখো । ১ ×২১ = ২১
নীচের বাক্যগুলোর শূন্যস্থানগুলোতে উপযুক্ত শব্দ বসাও (যে কোনো পাঁচটি): ১ × ৫ = ৫
২.১ স্নায়ুকোশের অ্যাক্সনের মেডুলারি সিদ্ এবং নিউরিলেম্মার মাঝে নিউক্লিয়াসযুক্ত ডিম্বাকার __________ দেখা যায়।
উত্তরঃ সোয়ান কোশ
২.২ ________ বিভাজনে বেমতত্ত্ব ও ক্রোমোজোম গঠিত হয় না।
উত্তরঃ অ্যামাইটোসিস
২.৩ জেনেটিক কাউন্সেলিং থ্যালাসেমিয়া রোগের ___ জিনের উপস্থিতি নিশ্চিত কর সাহায্য করে।
উত্তরঃ প্রচ্ছন্ন
2.8 পৃথিবীতে জীববৈচিত্রোর কারণ হলো ____
উত্তরঃ প্রকরণ
২.৫ হাঁপানির সময় শ্বাসনালীর ক্রোমশাখা ও উপক্লোমশাখার প্রাচীর থেকে অধিক পরিমাণে _ ক্ষরণ ঘটে।
উত্তরঃ মিউকাস
2.6 মানুষের কাপড় কাচার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ______ সমৃদ্ধ ডিটারজেন্ট জলাশয়ের জলে মিশলে ইউট্রফিকেশন ঘটে।
উত্তরঃ ফসফেট
নীচের বাক্যগুলো সত্য অথবা মিথ্যা নিরূপণ করো (যে কোনো পাঁচটি): ১ × ৫ = ৫
2.7, ফোকাস দৈর্ঘ্যের প্রয়োজন মতো পরিমার্জন করার জন্য চোখের রেটিনার ক্ষমতা হলো উপযোজন।
উত্তরঃ মিথ্যা
2.8. হ্যাপ্লয়েড রেণু উৎপন্ন করার জন্য মাইটোসিস কোশবিভাজন ঘটে।
উত্তরঃ মিথ্যা
2.9. BbRr জিনোটাইপযুক্ত গিনিপিগ উভয় লোকাসের জন্য হেটেরোজাইগাস।
উত্তরঃ সত্য
2.10. নিষ্ক্রিয় অংগসমূহ অভিসারী বিবর্তনকে নির্দেশ করে।
উত্তরঃ মিথ্যা
2.11 ক্রায়োসংরক্ষণে তরল নাইট্রোজেন ও -196℃ উয়তা ব্যবহার করা হয়।
উত্তরঃ সত্য
2.12 চোখের অপটিক স্নায়ু ও রেটিনার সংযোগস্থলে যে অংশে আলোকসুবেদী কোশ থাকে না, সেটি হলো অন্ধবিন্দু।
উত্তরঃ সত্য
A স্তম্ভে দেওয়া শব্দের সগে B স্তন্তে দেওয়া সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত শব্দটির সমতা বিধান করে উভয় অন্তের ক্রমিক নং উল্লেখসহ সঠিক জোড়টি পুনরায় লেখো (যে কোনো পাঁচটি): ১ ×৫ = ৫
| স্তম্ভ A | স্তম্ভ B |
|---|---|
| ২.১৩ অ্যাড্রেনালিন | (ক) বায়ুদূষক |
| ২.১৪ স্বপরাগযোগ | (খ) বিজ্ঞানী হ্যালডেনের মতে বিভিন্ন জৈব যৌগ সমন্বিত উত্তপ্ত সমুদ্রের জল |
| ২.১৫ ফুলের অবস্থান কাক্ষিক | (গ) মানব বিকাশের বয়ঃসন্ধি দশা |
| ২.১৬ গরম তরল স্যুপ | (ঘ) বাহকের প্রয়োজন নেই |
| ২.১৭ SPM | (ঙ) মানব বিকাশের বার্ধক্য দশা |
| ২.১৮ অস্থির ভঙ্গুরতা ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা | (চ) হৃদস্পন্দন, হার্দ উৎপাদ ও রক্তচাপ বাড়ায় |
| (ছ) প্রকট বৈশিষ্ট্য |
উত্তরঃ
২.১৩ – (চ)
২.১৪ – (ঘ)
২.১৫ – (ছ)
২.১৬ – (খ)
২.১৭- (ক)
২.১৮ – (ঙ)
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে কোনো ছয়টি): ১ × ৬ = ৬
২.১৯ বিসদৃশ শব্দটি বেছে লেখো – ADH, FSH, LH, TSH
উত্তরঃ ADH
২.২০ উদ্ভিদের মুকুল ও বীজের সুপ্তাবস্থা ভঙ্গকারী হরমোনটির নাম কী?
উত্তরঃ জিব্বারেলিন
২.২১ নীচের প্রথম শব্দজোড়াটির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় শব্দজোড়াটির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাও— পিউরিন : অ্যাডেনিন :: পিরিমিডিন :
উত্তরঃ থাইমিন
২.২২ বর্ণান্ধতা ও হিমোফিলিয়ার জন্য দায়ী জিন দুটির মধ্যে সাদৃশ্য কী?
উত্তরঃ উভয়ই লিঙ্গ সংযোজিত প্রচ্ছন্ন জিন।
২.২৩ সংযুক্ত কানের লতির বৈশিষ্ট্য ও জিভ মোড়ার ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণকারী জিনদুটির মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তরঃ সংযুক্ত কানের লতি হল অটোজোমাল প্রচ্ছন্ন বৈশিষ্ট্য এবং রোলার জিভ হল প্রকট বৈশিষ্ট্য যা অটোজোমাল জিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। বিশুদ্ধ প্রকট জিনোটাইপযুক্ত ও সংকর জিনোটাইপযুক্ত ব্যক্তিরা জিভ রোল করতে পারে। অপরপক্ষে প্রচ্ছন্ন জিনোটাইপযুক্ত ব্যক্তিদের যুক্ত কানের লতি দেখা যায়।
২.২৪ সুন্দরীর পাতার ত্বকে অবস্থিত লবণগ্রন্থির ভূমিকা কী?
উত্তরঃ জলের মাধ্যমে শোষিত লবণ পাতার লবণগ্রন্থি ও মূলের সাহায্যে দেহ থেকে বের করে দেয় এবং লবণের বিষক্রিয়ার হাত থেকে উদ্ভিদ দেহকে রক্ষা করে।
২.২৫ নীচের চারটি বিষয়ের মধ্যে কোনো তিনটি অপর বিষয়টির অন্তর্গত।
সেই বিষয়টি খুঁজে বার করো এবং লেখো: কফের সংগে ঘন শ্লেষ্মা নির্গমন, ব্রংকাইটিস, ধূমপায়ীদের আক্রান্ত হওয়ার অধিক সম্ভাবনা, মানুষের শ্বসনতন্ত্রের ব্রংশাখার প্রদাহ।
উত্তরঃ ব্রংকাইটিস
২.২৬ কুমির সংরক্ষণে গৃহীত ‘প্রোজেক্ট ক্রোকোডাইল’-এ কোন বিষয়টির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে?
উত্তরঃ বন্দী অবস্থায় কুমিরের প্রজনন ও লালন-পালন (Captive breeding)-এর ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
বিভাগ-গ
নীচের ১৭ টি প্রশ্ন থেকে যেকোনো ১২ টি প্রশ্নের উত্তর দুই –তিনটি বাক্যে লেখো । ২ × ১২ = ২৪
৩.১ শর্করার বিপাক সংক্রান্ত নিম্নলিখিত দুটি বিষয়ে ইনসুলিন হরমোনের ভূমিকা কী কী ?
(ক) গ্লুকোজের ভাঙন
(খ) গ্লুকোজের রূপান্তর
উত্তরঃ
(ক) গ্লুকোজের ভাঙনে ইনসুলিনের ভূমিকা :
ইনসুলিন কোষে গ্লুকোজের প্রবেশ বৃদ্ধি করে এবং গ্লুকোজের জারণের মাধ্যমে পাইরুভিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে।
(খ) গ্লুকোজের রূপান্তরে ইনসুলিনের ভূমিকা :
ইনসুলিন যকৃত ও পেশিতে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে সঞ্চয় করতে সাহায্য করে (গ্লাইকোজেনেসিস) এবং গ্লাইকোজেনোলাইসিস ও গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়।
৩.২. নিম্নলিখিত দুটি বিষয়ে মায়োপিয়া ও হাইপারোপিয়ার তুলনা করো –
(ক) কারণ
(খ) লক্ষণ
উত্তরঃ
| বিষয় | মায়োপিয়া | হাইপারোপিয়া |
|---|---|---|
| কারণ | অক্ষিগোলক লম্বাটে হয় অথবা লেন্স অতিরিক্ত উত্তল হয়। | অক্ষিগোলক চ্যাপ্টা হয় অথবা লেন্স কম উত্তল হয়। |
| লক্ষণ | কাছের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু দূরের বস্তু অস্পষ্ট দেখা যায়। | দূরের বস্তু স্পষ্ট দেখা যায়, কিন্তু কাছের বস্তু অস্পষ্ট দেখা যায়। |
৩.৩. গমনের একটি চালিকাশক্তি হলো ‘প্রজননিক কাজের জন্য একত্রিত হওয়া’— দুটি সামুদ্রিক জীবের উদাহরণের সাহায্যে বক্তব্যটির যথার্থতা প্রতিষ্ঠা করো।
উত্তরঃ
অনেক সামুদ্রিক প্রাণী প্রজননের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে গমন করে। যেমন ইলিশ ও স্যামন মাছ সমুদ্রে বাস করলেও ডিম পাড়ার জন্য নদীর মিঠে জলে চলে আসে। তাই প্রজননের উদ্দেশ্যে একত্রিত হওয়াই তাদের গমনের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি।
৩.৪. দূরদর্শনে কোনো উত্তেজক খেলা দেখার সময় একজন দর্শক কোন্ কোন্ প্রতিবর্ত ক্রিয়া সম্পন্ন করেন?
উত্তরঃ
উত্তেজক খেলা দেখার সময় দর্শক হাততালি দেওয়া, আনন্দে চিৎকার করা, হতাশায় কপাল চাপড়ানো বা হতাশাসূচক শব্দ করা ইত্যাদি প্রতিবর্ত ক্রিয়া সম্পন্ন করেন। এছাড়া হৃদস্পন্দনের হার, রক্তচাপ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বৃদ্ধি পেতে পারে।
৩.৫ উদ্ভিদ ও প্রাণীদের ক্ষেত্রে মিয়োসিস কোশবিভাজনের ঘটনাস্থলের তালিকা তৈরি করো ।
উত্তরঃ
| উদ্ভিদ | প্রাণী |
|---|---|
| পরাগধানীর পরাগরেণু মাতৃকোষ এবং ডিম্বকের স্ত্রী রেণু মাতৃকোষে মিয়োসিস ঘটে। | শুক্রাশয়ের আদি পুং জননকোষ এবং ডিম্বাশয়ের আদি স্ত্রী জননকোষে মিয়োসিস ঘটে। |
৩.৬ শব্দচিত্রের মাধ্যমে ফার্নের জনুঃক্রমটি ব্যাখ্যা করো ।
উত্তরঃ

৩.৭ উদ্ভিদকোশের সাইটোকাইনেসিস কীভাবে ঘটে ?
উত্তরঃ উদ্ভিদ কোশের সাইটোকাইনেসিস প্রক্রিয়া —
(i) অ্যানাফেজ দশার শেষে অথবা টেলোফেজ দশার শুরুতে ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট নামক পেকটিন জাতীয় দানা কোশের বিষুব অঞ্চল বরাবর সজ্জিত হয়।
(ii) ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট দানাগুলি পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কোশপ্লেট গঠন করে।
(iii) কোশপ্লেট প্রসারিত হয়ে কোশের দুইদিকের কোশপ্রাচীর স্পর্শ করে।
(iv) কোশপ্লেট কিছু ভৌত ও রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কোশপ্রাচীরের মধ্য ল্যামেলায় পরিণত হয়।
(v) সেলুলোজ, লিগনিন ইত্যাদি মধ্য ল্যামেলার উভয় পার্শ্বে সঞ্চিত হয় এবং পরিণত কোশপ্রাচীর গঠন করে।
(vi) কোশপ্রাচীর গঠিত হওয়ার সাথে সাথে মাতৃকোশের সাইটোপ্লাজম সমভাবে বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোশ গঠন করে।
৩.৮. বংশগতি সম্পর্কিত নীচের শব্দদুটি ব্যাখ্যা করো।
(ক) অ্যালিল
(খ) লোকাস
উত্তরঃ
(ক) অ্যালিল :
সমসংস্থ (Homologous) ক্রোমোজোমের একই লোকাসে অবস্থিত কোনো বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী জিনের বিকল্প রূপকে অ্যালিল বলে।
(খ) লোকাস :
ক্রোমোজোমের উপর কোনো নির্দিষ্ট জিন যে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে, তাকে লোকাস বলে।
৩.৯ কিছু কিছু সঙ্কর জননের ক্ষেত্রে F2 জনুতে ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপের অনুপাত কীভাবে মেণ্ডেলের বংশগতি সংক্রান্ত প্রথম সূত্রের বিচ্যুতি নির্দেশ করে তা একটি উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো ।
উত্তরঃ
সাধারণত মেন্ডেলের সূত্রানুযায়ী একসংকর জননে F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত 3:1 হয়। কিন্তু অসম্পূর্ণ প্রকটতার (incomplete dominance) ক্ষেত্রে এই সূত্রের ব্যতিক্রম দেখা যায়। যেমন — স্ন্যাপড্রাগন (Antirrhinum) ফুলের রং নিয়ন্ত্রণে লাল (RR) ও সাদা (rr) ফুলের সংকরায়নে F1 জনুতে গোলাপি (Rr) ফুল উৎপন্ন হয়। F2 জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত দাঁড়ায় 1 লাল : 2 গোলাপি : 1 সাদা, যা মেন্ডেলের প্রত্যাশিত 3:1 অনুপাত থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন — এখানে ফিনোটাইপ ও জিনোটাইপ অনুপাত উভয়ই 1:2:1 হয়ে যায়, যা মেন্ডেলের প্রথম সূত্রের ব্যতিক্রম নির্দেশ করে।
৩.১০ মটর ফুল উভলিঙ্গ ও স্বপরাগযোগী হওয়ায় মেণ্ডেল কী কী সুবিধা পেয়েছিলেন ?
উত্তরঃ
১. বিশুদ্ধ বংশবৃদ্ধি: স্ব-পরাগযোগের কারণে মটর গাছগুলো বছরের পর বছর কোনো বাহ্যিক পরিবর্তন ছাড়াই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য (যেমন—লম্বা বা খাটো) বজায় রাখতে সক্ষম হয়।
২. পরাগায়ন নিয়ন্ত্রণ: উভলিঙ্গ হওয়ায় মেন্ডেল খুব সহজেই পুরুষ ও স্ত্রী ফুলের মিলন বা সংকরায়ণ (Hybridization) নিজের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন।
৩. ইতর পরাগযোগ সহজীকরণ: তিনি প্রয়োজনে অপরিণত ফুল থেকে পুংকেশর অপসারণ (Emasculation) করে অন্য গাছের পরাগরেণু দিয়ে খুব সহজে কাঙ্ক্ষিত ইতর পরাগযোগ সম্পন্ন করতে পারতেন।
৩.১১ কোনো সদ্য শিকার হওয়া বন্যপ্রাণীর মাংস খাওয়াকে কেন্দ্র করে কোনো বনাঞ্চলের প্রাণীদের মধ্যে কী কী সংগ্রাম দেখা যেতে পারে ?
উত্তরঃ
I. অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রামঃ একই প্রজাতির (যেমন — একাধিক শকুন বা হায়েনা) মধ্যে ঐ মাংস দখলের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
II. আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রামঃ ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীদের (যেমন — সিংহ, হায়েনা, শকুন) মধ্যে একই খাদ্যের (মাংস) জন্য প্রতিযোগিতা।
III. পরিবেশগত সংগ্রামঃ প্রতিকূল আবহাওয়া বা পরিবেশের সঙ্গে প্রাণীদের খাদ্য সংগ্রহের সংগ্রাম।
৩.১২ একটি রুইমাছ কীভাবে জলের ওপরে ভেসে ওঠে বা জলের গভীরে ডুবে যায় ?
উত্তরঃ
রুই মাছের পটকার অগ্র প্রকোষ্ঠে উপস্থিত রেড গ্ল্যান্ড গ্যাস উৎপাদন করে, যা মাছের শরীরের আপেক্ষিক গুরুত্ব কমিয়ে মাছকে জলে ভাসতে সাহায্য করে।
অপরপক্ষে, পটকার পশ্চাৎ প্রকোষ্ঠে উপস্থিত রেটে-মিরাবিলি নামক রক্তজালক ওই গ্যাস শোষণ করে রুই মাছের শরীরের আপেক্ষিক গুরুত্ব বাড়িয়ে মাছকে জলের গভীরে ডুবে যেতে সাহায্য করে।
৩.১৩ জীবনের জৈব-রাসায়নিক উৎপত্তি সংক্রান্ত মিলার ও উরে-র পরীক্ষায় ব্যবহৃত বিক্রিয়ক ও উৎপন্ন পদার্থের নামের একটি তালিকা তৈরি করো।
উত্তরঃ
| ব্যবহৃত বিক্রিয়ক | উৎপন্ন পদার্থ |
|---|---|
| মিথেন (CH₄), অ্যামোনিয়া (NH₃), হাইড্রোজেন (H₂), জলীয় বাষ্প (H₂O) | অ্যামাইনো অ্যাসিড (যেমন গ্লাইসিন, অ্যালানিন) ও অন্যান্য জৈব যৌগ |
৩.১৪ বায়ুতে দূষণ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব ক্রমাগত বাড়তে থাকলে পরিবেশগত কী কী সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে ?
উত্তরঃ
(i) বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming)
(ii) অনাবৃষ্টি
(iii) ওজোন স্তরে ছিদ্র (Ozone Hole) সৃষ্টি
(iv) বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
(v) মেরু অঞ্চলের বরফ গলন এবং সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি
৩. ১৫ মেরুভল্লুক ও গঙ্গানদীর শুশুকের বিপন্নতার কারণগুলো ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ
মেরুভল্লুকঃ বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে মেরুপ্রদেশের বরফ গলে যাওয়ায় এদের স্বাভাবিক বাসস্থান ও শিকারক্ষেত্র (সিল শিকার) সংকুচিত হয়ে পড়ছে, ফলে এরা বিপন্ন হচ্ছে।
গঙ্গানদীর শুশুকঃ নদীবাঁধ নির্মাণ, নদীর জলদূষণ, অতিরিক্ত মাছ ধরার জাল ও নৌকার ধাক্কায় আহত হওয়া এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে গঙ্গানদীর শুশুক বিপন্ন হয়ে পড়েছে।
৩.১৬ অ্যাজমা (হাঁপানি) রোগের পরিবেশগত কারণ কী কী হতে পারে ?
উত্তরঃ অ্যাজমা (হাঁপানি) রোগের পরিবেশগত কারণ —
(i) বায়ুদূষণ, ধুলাবালি, ধোঁয়া, পরাগরেণু (pollen), ছত্রাকের রেণু প্রভৃতি অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসা।
(ii) যানবাহনের ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য গ্যাস ও সিগারেটের ধোঁয়ার (passive smoking) মতো বায়ুদূষণকারী পদার্থের প্রভাবে শ্বাসনালীর অতি সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পাওয়া।
৩.১৭ ‘খাদ্যের সংকট ও চোরাশিকার পূর্ব হিমালয় হটস্পটের একটি স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিপন্নতার অন্যতম দুটি প্রধান কারণ’ — বক্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো।
উত্তরঃ
(i) খাদ্যের সংকটঃ লাল পান্ডার প্রধান খাদ্য বাঁশপাতা। কিন্তু বনভূমি ধ্বংস, গাছ কাটা ও মানুষের বসতি বিস্তারের ফলে বাঁশঝাড়যুক্ত অরণ্য ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে, ফলে লাল পান্ডার খাদ্যের যোগান মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
(ii) চোরাশিকারঃ লাল পান্ডার সুন্দর লোমশ চামড়া ও লেজের জন্য একে ব্যাপক হারে চোরাশিকার করা হয়, যা এই প্রাণীর সংখ্যা দ্রুত হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ।
বিভাগ – ঘ
৪। নীচের ছয়টি বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখো। দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের ৪.১ নং প্রশ্নের পরিবর্তে ৪.১ (A) নং প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫ (প্রশ্নের মান বিভাজন ৩+২, ২+৩ বা ৫ হতে পারে)। ৫×৬=৩০
৪.১ স্নায়ুকোশের একটি বিজ্ঞানসম্মত চিত্র অঙ্কন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করো — ৩+২=৫
(ক) ডেনড্রন (খ) মায়েলিন আবরণী
(গ) সোয়ান কোশ (ঘ) র্যানভিয়ারের পর্ব
উত্তরঃ

অথবা
ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের একটি বিজ্ঞানসম্মত চিত্র অংকন করে নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করো — ৩+২=৫
(ক) সেন্ট্রোমিয়ার (খ) স্যাটেলাইট
(গ) নিউক্লিওলার অর্গানাইজার (ঘ) টেলোমিয়ার
উত্তরঃ

৪.২ ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের রাসায়নিক উপাদানসমূহের নাম একটি সারণির সাহায্যে লেখো। যখন কোনো কোশ, কোশচক্রের বিভিন্ন সময়ে বিভাজনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায় তখন ওই কোশের ক্ষেত্রে কী কী ঘটনা ঘটে ? ৩+২=৫
উত্তরঃ

যখন কোনো কোশ, কোশচক্রের বিভিন্ন সময়ে বিভাজনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারায় তখন–
(i) অনিয়ন্ত্রিত কোশ বিভাজন শুরু হতে পারে, যার ফলে টিউমার বা ক্যানসার হতে পারে।
(ii) কোশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হয়।
(iii) অস্বাভাবিক বা অপ্রয়োজনীয় কোশ উৎপন্ন হয়।
(iv) অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে।
অথবা
মাইটোসিস কোশবিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় কী কী ঘটনা ঘটে ? সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের ধাপগুলো শব্দচিত্রের মাধ্যমে দেখাও ৷ ৩+২=৫
উত্তরঃ অ্যানাফেজ দশার ঘটনাসমূহ —
(i) ক্রোমোজোমের সিস্টার ক্রোমাটিড দুটির সংযোগস্থলে অবস্থিত সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজন ঘটে।
(ii) দুটি সিস্টার ক্রোমাটিড এক একটি সেন্ট্রোমিয়ারের অংশ নিয়ে পৃথক হয়ে দুটি অপত্য ক্রোমোজোম সৃষ্টি করে।
(iii) অপত্য ক্রোমোজোমগুলি দুটি সেট-এ বিভক্ত হয়ে বিপরীত মেরুতে গমন করে।
(iv) কাইনেটোকোরে সংযুক্ত বেমতত্ত্বগুলি সংকুচিত হয়ে ছোটো হয়ে যায়।
সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জননের ধাপসমূহ (শব্দচিত্র):

৪.৩ বিশুদ্ধ গোল হলুদ বীজ ধারণকারী মটরগাছের সঙ্গে কুঞ্চিত সবুজ বীজ ধারণকারী মটরগাছের সংকরায়ণ ঘটালে দ্বিতীয় অপত্য বংশে সৃষ্ট অপত্যগুলোর ফিনোটাইপিক অনুপাত চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখাও। এই পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত মেণ্ডেলের বংশগতি সংক্রান্ত সূত্রটি লেখো। ৩+২=৫
উত্তরঃ
(ক) সংকরায়ণ ও চেকার বোর্ড
মাতাপিতা জনুঃ গোল হলুদ (RRYY) × কুঞ্চিত সবুজ (rryy)
গ্যামেটঃ RY × ry
F₁ জনুঃ সমস্ত অপত্য RrYy (গোল হলুদ) — এখানে গোল (R) ও হলুদ (Y) প্রকট।
F₁ × F₁ সংকরায়ণে (RrYy × RrYy) গ্যামেটঃ RY, Ry, rY, ry (প্রতিটি পিতামাতা থেকে)
F₂ জনুর চেকার বোর্ড (Punnett square):
| ♀ \ ♂ | RY | Ry | rY | ry |
|---|---|---|---|---|
| RY | RRYY | RRYy | RrYY | RrYy |
| Ry | RRYy | RRyy | RrYy | Rryy |
| rY | RrYY | RrYy | rrYY | rrYy |
| ry | RrYy | Rryy | rrYy | rryy |
F₂ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাতঃ
| ফিনোটাইপ | সংখ্যা | অনুপাত |
|---|---|---|
| গোল হলুদ (R_Y_) | ৯ | ৯ |
| গোল সবুজ (R_yy) | ৩ | ৩ |
| কুঞ্চিত হলুদ (rrY_) | ৩ | ৩ |
| কুঞ্চিত সবুজ (rryy) | ১ | ১ |
অতএব F₂ জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত = ৯ : ৩ : ৩ : ১
এই পরীক্ষা থেকে মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন বিন্যাস সূত্র (Law of Independent Assortment) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বলে —
“যখন একজোড়ার বেশি বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য একসঙ্গে বংশগত হয়, তখন প্রতিটি বৈশিষ্ট্যের জিনজোড়া (অ্যালিল) গ্যামেট গঠনের সময় অন্য জিনজোড়ার থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ও এলোমেলোভাবে বিন্যস্ত হয়ে গ্যামেটে প্রবেশ করে।”
অথবা
সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ পদ্ধতি সংক্রান্ত মানব সমাজের ভ্রান্ত ধারণা কীভাবে নির্মূল করা যায় তা একটি ক্রসের মাধ্যমে দেখাও। থ্যালাসেমিয়া রোগের উপসর্গ কী কী ? ৩+২=৫
উত্তরঃ লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রস ও ভ্রান্ত ধারণা নিরসন–
মানুষের ক্ষেত্রে মাতা সর্বদা সমসংস্থ (XX) এবং পিতা ভিন্নসংস্থ (XY) —
মাতৃ জনুঃ XX (সমস্ত ডিম্বাণু X বহন করে)
পিতৃ জনুঃ XY (৫০% শুক্রাণু X বহন করে, ৫০% শুক্রাণু Y বহন করে)
ক্রসঃ
| ♀ (মাতা) \ ♂ (পিতা) | X | Y |
|---|---|---|
| X | XX (কন্যা) | XY (পুত্র) |
| X | XX (কন্যা) | XY (পুত্র) |
ফলাফলঃ সন্তানদের মধ্যে ৫০% কন্যা (XX) ও ৫০% পুত্র (XY) সন্তান জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে।
সিদ্ধান্ত :
মাতা সর্বদা X ক্রোমোজোমযুক্ত ডিম্বাণু উৎপন্ন করেন, কিন্তু পিতা X ও Y—দুই ধরনের শুক্রাণু উৎপন্ন করেন। তাই সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণের জন্য পিতার ক্রোমোজোমই দায়ী, মায়ের নয়। এই বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সমাজের ভ্রান্ত ধারণা দূর করা যায়।
থ্যালাসেমিয়া রোগের উপসর্গ —
(i) তীব্র রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) দেখা যায়।
(ii) রোগী দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই ক্লান্ত হয়ে যায়।
(iii) ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
(iv) যকৃত (লিভার) ও প্লীহা (স্প্লিন) বড় হয়ে যায়।
(v) শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
৪.৪ বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীগোষ্ঠীর হৃৎপিণ্ডের গঠনের তুলনামূলক আলোচনা থেকে অভিব্যক্তি সংক্রান্ত কী কী তথ্য জানা যায় ? ডারউইনের তত্ত্ব অনুসারে নিম্নলিখিত শব্দদুটি ব্যাখ্যা করো — ৩+২=৫
যোগ্যতমের উদ্বর্তন
প্রাকৃতিক নির্বাচন
উত্তরঃ মেরুদণ্ডী প্রাণীর হৃৎপিণ্ডের তুলনামূলক গঠন
| বৈশিষ্ট্য | মাছের হৃৎপিণ্ড | উভচরের হৃৎপিণ্ড | সরীসৃপের হৃৎপিণ্ড | পক্ষী ও স্তন্যপায়ীর হৃৎপিণ্ড |
|---|---|---|---|---|
| ১. হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠ সংখ্যা | দুটি প্রকোষ্ঠ — একটি অলিন্দ ও একটি নিলয় | তিনটি প্রকোষ্ঠ — দুটি অলিন্দ ও একটি নিলয় | তিনটি প্রকোষ্ঠ — দুটি অলিন্দ ও একটি অসম্পূর্ণভাবে বিভাজিত হৃৎপিণ্ড | চারটি প্রকোষ্ঠ — দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয় |
| ২. হৃৎপিণ্ডের প্রকৃতি | একচক্রী হৃৎপিণ্ড | অসম্পূর্ণ দ্বিচক্রী হৃৎপিণ্ড | অসম্পূর্ণ দ্বিচক্রী হৃৎপিণ্ড | সম্পূর্ণ দ্বিচক্রী হৃৎপিণ্ড |
বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীগোষ্ঠীর হৃৎপিণ্ডের গঠনের তুলনামূলক আলোচনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য —
(i) মাছের দুই প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, উভচরের তিন প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট, অধিকাংশ সরীসৃপের অসম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট এবং পাখি ও স্তন্যপায়ীর সম্পূর্ণ চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট হৃৎপিণ্ড দেখা যায়।
(ii) হৃৎপিণ্ডের গঠন ক্রমান্বয়ে সরল থেকে জটিল হয়েছে, যা অভিব্যক্তির (বিবর্তনের) অগ্রগতির প্রমাণ।
(iii) একচক্রী হৃৎপিণ্ড থেকে ক্রমে দ্বিচক্রী হৃৎপিণ্ডের উত্থান ঘটেছে।
(iv) পক্ষী ও স্তন্যপায়ী প্রাণী গোষ্ঠীতে হৃৎপিণ্ডে O₂ ও CO₂ সমৃদ্ধ রক্তের পৃথকীকরণ ঘটেছে।
(v) এটি প্রমাণ করে যে বিভিন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণীর সাধারণ পূর্বপুরুষ ছিল এবং ধাপে ধাপে বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান রূপের সৃষ্টি হয়েছে।
যোগ্যতমের উদ্বর্তন (Survival of the fittest): প্রকৃতিতে সীমিত খাদ্য ও বাসস্থানের জন্য জীবের মধ্যে যে সংগ্রাম চলে, তাতে যে সকল জীব পরিবেশের সঙ্গে সর্বাপেক্ষা ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিতে (অভিযোজন) সক্ষম হয়, তারাই বেঁচে থাকে এবং বংশবৃদ্ধি করে, আর অযোগ্য জীবেরা ধ্বংস হয়ে যায় — একেই যোগ্যতমের উদ্বর্তন বলে।
প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural selection): প্রকৃতি নিজেই এমনভাবে জীবজগতের ওপর নির্বাচনী প্রভাব বিস্তার করে যে, উপযোগী প্রকরণযুক্ত জীবেরা টিকে থাকার ও বংশবিস্তারের সুযোগ পায়, আর অনুপযোগী প্রকরণযুক্ত জীবেরা বিলুপ্ত হয়ে যায় — প্রকৃতির এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে।
অথবা
সমসংস্থ ও সমবৃত্তি অংগের অভিব্যক্তিগত তাৎপর্য উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো। পায়রার বায়ুথলির অভিযোজনগত তাৎপর্য কী কী ? ৩+২=৫
উত্তরঃ
সমসংস্থ অঙ্গ (Homologous organs):
উৎপত্তি ও গঠনগত উৎস একই হলেও কাজের ভিন্নতার কারণে যে অঙ্গগুলি ভিন্ন রূপ ধারণ করে, তাদের সমসংস্থ অঙ্গ বলে। যেমন — মানুষের হাত, বাদুড়ের ডানা, তিমির ফ্লিপার এবং ঘোড়ার সম্মুখপদ — এদের অস্থি বিন্যাস মূলত একই রকম হলেও কাজ ভিন্ন (ধরা, ওড়া, সাঁতার কাটা, দৌড়ানো)। এটি প্রমাণ করে যে এই প্রাণীগুলির একটি সাধারণ পূর্বপুরুষ ছিল এবং পরিবেশের প্রয়োজন অনুযায়ী অপসারী বিবর্তনের (divergent evolution) মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গে রূপান্তরিত হয়েছে।
সমবৃত্তি অঙ্গ (Analogous organs):
উৎপত্তি ও গঠনগত উৎস ভিন্ন হলেও কাজের মিলের কারণে যে অঙ্গগুলি একই রকম দেখতে হয়, তাদের সমবৃত্তি অঙ্গ বলে। যেমন — প্রজাপতির ডানা ও পাখির ডানা — উভয়েই ওড়ার কাজে ব্যবহৃত হলেও এদের গঠনগত উৎস সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি প্রমাণ করে যে ভিন্ন পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত প্রাণীরাও একই ধরনের পরিবেশে বসবাসের ফলে অভিসারী বিবর্তনের (convergent evolution) মাধ্যমে একই রকম কাজসম্পন্ন অঙ্গ বিবর্তিত করতে পারে।
পায়রার বায়ুথলির অভিযোজনগত তাৎপর্য—
(I) বায়ুথলি দেহের ওজন হ্রাস করে ও দেহকে হালকা রাখে, যা উড্ডয়নে (flight) সহায়ক হয়।
(II) বায়ুথলি অতিরিক্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে উড্ডয়নকালে অধিক শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে এবং দেহের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা পালন করে।
(III) পায়রার ওড়ার সময় দেহের ভরকেন্দ্র ঠিকভাবে স্থাপিত হয়।
৪.৫ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা সম্পর্কিত নীচের তিনটি সমস্যা ব্যাখ্যা করো —
প্রাকৃতিক সম্পদের অতিব্যবহার ও হ্রাস
বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন এবং বিশ্ব উয়ায়ণ
অরণ্য ধ্বংস ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয়
জীববৈচিত্র্য হ্রাসের অন্যতম প্রধান দুটি কারণ হলো অতিব্যবহার এবং জমির ব্যবহার রীতির পরিবর্তনের কারণে বাসস্থান ধ্বংস— উপযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে বক্তব্যটির যথার্থতা প্রতিষ্ঠা করো। ৩+২=৫
উত্তরঃ
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা সম্পর্কিত তিনটি সমস্যা
(i) প্রাকৃতিক সম্পদের অতিব্যবহার ও হ্রাসঃ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ও জ্বালানির চাহিদা মেটাতে জল, খনিজ, জীবাশ্ম জ্বালানি প্রভৃতি প্রাকৃতিক সম্পদের অতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে, ফলে এই সম্পদগুলি দ্রুত হারে হ্রাস পাচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংকট সৃষ্টি করছে।
(ii) বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তন এবং বিশ্ব উষ্ণায়ণঃ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিল্পকারখানা, যানবাহন ও জ্বালানি দহনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন প্রভৃতি গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে গ্রিনহাউস প্রভাব বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্ব উষ্ণায়ণ (global warming) ঘটছে।
(iii) অরণ্য ধ্বংস ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষয়ঃ বসতি স্থাপন, চাষযোগ্য জমি সম্প্রসারণ ও শিল্পায়নের জন্য বনভূমি নিধন (deforestation) করা হচ্ছে, যার ফলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং বহু প্রজাতির প্রাকৃতিক বাসস্থান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ —
অতিব্যবহারঃ বাণিজ্যিক প্রয়োজনে অতিরিক্ত মাত্রায় শিকার বা আহরণের ফলে জীববৈচিত্র্য হ্রাস পায়। যেমন — গণ্ডারের শৃঙ্গের জন্য অতিরিক্ত চোরাশিকারের ফলে একশৃঙ্গ গণ্ডার আজ বিপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত হয়েছে।
জমির ব্যবহার রীতির পরিবর্তনজনিত বাসস্থান ধ্বংসঃ বনভূমি কেটে কৃষিজমি বা বসতি তৈরির ফলে বহু প্রাণীর স্বাভাবিক বাসস্থান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যেমন — বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার-এর বাসস্থান সংকুচিত হয়ে পড়ছে, যা এই প্রাণীর সংখ্যা হ্রাসের অন্যতম প্রধান কারণ।
অথবা
কী কী কারণে নাইট্রোজেন চক্র বিঘ্নিত হতে পারে? ‘ভারতবর্ষের প্রত্যেকটি গ্রামের একটি করে PBR নথি প্রকাশ করা অত্যন্ত জরুরী’- PBR থেকে জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত কীকী তথ্য জানা যেতে পারে? ৩+২=৫
উত্তরঃ নাইট্রোজেন চক্র বিঘ্নিত হওয়ার কারণ —
(i) নাইট্রোজেনযুক্ত রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটিতে নাইট্রোজেনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়।
(ii) বন উজাড়ের ফলে নাইট্রোজেন স্থিরকারী জীবাণু ও উদ্ভিদের সংখ্যা কমে যায়, ফলে নাইট্রোজেন চক্র ব্যাহত হয়।
(iii) শিল্প ও যানবাহন থেকে নির্গত নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx) বায়ুদূষণ ও অম্লবৃষ্টির সৃষ্টি করে, যা নাইট্রোজেন চক্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে।
(iv) রসায়নাগারে তরল নাইট্রোজেনের ব্যবহার।
(v) রং, চামড়া ও ঔষধ তৈরির কারখানা থেকে নির্গত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থ ইত্যাদি।
PBR থেকে জীববৈচিত্র্য সংক্রান্ত প্রাপ্ত তথ্য —
(i) কোন অঞ্চলে কী কী উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব রয়েছে এবং তাদের সংরক্ষণ অবস্থা।
(ii) স্থানীয় জীবসম্পদের ব্যবহার, ঐতিহ্যগত (লোকায়ত) জ্ঞান এবং বিলুপ্তপ্রায় বা বিরল প্রজাতি সম্পর্কে তথ্য।
(iii) স্থানীয় এন্ডেমিক ও লুপ্তপ্রায় প্রজাতির ধারণা।
(iv) স্থানীয় অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন ও ভেষজগুণসম্পন্ন প্রজাতির সম্পর্কে ধারণা।
(v) স্থানীয় জীববৈচিত্র্য হ্রাসের কারণ তথা স্থানীয় কোনো প্রজাতির লুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণ সম্বন্ধে জানা যায়।
(vi) বিপন্ন প্রজাতি নির্ণয় ও স্থানীয় মানুষদের তরফ থেকে প্রজাতি সংরক্ষণের ধারণা ও উদ্যোগ।
৪.৬ সুন্দরবনের পরিবেশগত একটি সমস্যা হলো খাদ্য-খাদক সংখ্যার ভারসাম্যে ব্যাঘাত — তিনটি উদাহরণের সাহায্যে বক্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ ও অভয়ারণ্যের ভূমিকা কী কী ? ৩+২=৫
উত্তরঃ সুন্দরবনের পরিবেশগত একটি সমস্যা হলো খাদ্য-খাদক সংখ্যার ভারসাম্যে ব্যাঘাত—
১. রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা কমে গেলে হরিণ ও বুনো শূকরের সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তারা অতিরিক্ত গাছপালা খেয়ে বনভূমির ক্ষতি করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
২. মাছ ও কাঁকড়ার অতিরিক্ত আহরণের ফলে এগুলির সংখ্যা কমে যায়। এতে মাছভুক পাখি, কুমির ও অন্যান্য শিকারি প্রাণীর খাদ্যের অভাব দেখা দেয়।
৩. অবৈধ শিকার ও বন ধ্বংসের কারণে অনেক প্রাণীর সংখ্যা কমে যায়। ফলে খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে এবং খাদ্য-খাদক সংখ্যার ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়।
৪. অতিরিক্ত মৎস্য শিকারের ফলে সুন্দরবনের জলজ বাস্তুতন্ত্রে ছোটো মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, যার ফলে তাদের ওপর নির্ভরশীল গঙ্গানদীর শুশুক ও অন্যান্য মাছভুক প্রাণীর খাদ্যের অভাব দেখা দিচ্ছে।
১. বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (Biosphere Reserve):
বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ-প্রাণী এবং তাদের প্রাকৃতিক বাসস্থান সংরক্ষণ করে। এছাড়া গবেষণা, শিক্ষা ও জীবসম্পদের টেকসই ব্যবহারে সাহায্য করে।
উদাহরণ: সুন্দরবন বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ ও অন্যান্য জীব সংরক্ষিত হচ্ছে।
২. অভয়ারণ্য (Wildlife Sanctuary):
বন্যপ্রাণীকে শিকার, অবৈধ পাচার ও বাসস্থান ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে এবং তাদের নিরাপদ প্রজননের সুযোগ করে দেয়।
উদাহরণ: মহানন্দা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে হাতি, গৌর, হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করা হয়।
অথবা
নিম্নলিখিত বন্যপ্রাণীগুলোর বিপন্নতার কারণ কী কী ?
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার
একশৃংগ গণ্ডার
সিংহ
মানবস্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের দুটি প্রভাব কী কী ? ৩+২=৫
উত্তরঃ বন্যপ্রাণীর বিপন্নতার কারণ–
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার:
১. অরণ্য ধ্বংস ও বাসস্থান সংকোচনের ফলে এদের বিচরণক্ষেত্র ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
২. চোরাশিকারিদের দ্বারা চামড়া, হাড় প্রভৃতির লোভে অবৈধ শিকার।
৩. খাদ্যের অভাব (হরিণ, বন্য শূকর প্রভৃতি শিকার প্রাণীর সংখ্যা হ্রাস)।
৪. সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি বাসস্থান নষ্ট করছে।
একশৃঙ্গ গণ্ডার:
১. এদের শিং-এর জন্য (যা ভুল ধারণাবশত ঔষধি গুণসম্পন্ন মনে করা হয়) নির্বিচারে চোরাশিকার হয়।
২. বাসস্থান ধ্বংস — জলাভূমি ও তৃণভূমি কৃষিজমি ও জনবসতিতে রূপান্তরিত হওয়া।
৩. নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও বন্যার ফলে বাসস্থান বিপর্যস্ত হওয়া।
সিংহ:
১. অরণ্যচ্ছেদন ও মানুষের বসতি বিস্তারের ফলে বাসস্থান সংকুচিত হয়েছে।
২. শিকারযোগ্য প্রাণীর (তৃণভোজী) সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় খাদ্যাভাব।
৩. মানুষ-সিংহ সংঘাতে (গবাদি পশু রক্ষার জন্য) সিংহ নিধন।
৪. চোরাশিকার ও ট্রফি হান্টিং।
বায়ুদূষণের ফলে মানবস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব—
১. শ্বাসযন্ত্রের রোগ: বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণা, সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড প্রভৃতি দূষক ফুসফুসে প্রবেশ করে ব্রংকাইটিস, হাঁপানি (অ্যাজমা), ফুসফুসের ক্যানসার প্রভৃতি রোগ সৃষ্টি করে।
২. হৃদরোগ ও অন্যান্য সমস্যা: দীর্ঘমেয়াদী বায়ুদূষণ রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত করে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়, এছাড়া চোখ জ্বালা, মাথাব্যথা ও স্নায়বিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
(কেবলমাত্র বহিরাগত পরীক্ষার্থীদের জন্য)
বিভাগ – ঙ
৫। যে কোনো ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও। ১×8=8
৫.১ যোগকলার একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তরঃ যোগকলা দেহের বিভিন্ন কলা ও অঙ্গকে সংযুক্ত ও সমর্থন করে।
৫.২ লাইসোজোমের কাজ কী?
উত্তরঃলাইসোজোম কোষের অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষয়প্রাপ্ত অঙ্গাণু হজম করে।
৫.৩ কোলেনকাইমা কলার একটি কাজ লেখো।
উত্তরঃকোলেনকাইমা উদ্ভিদের কাণ্ড ও পাতাকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা প্রদান করে।
৫.৪ ইতর পরাগযোগের একটি অসুবিধা লেখো।
উত্তরঃ ইতর পরাগযোগে প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় হয়।
৫.৫ একটি লিপিড পরিপাককারী উৎসেচকের উদাহরণ দাও।
উত্তরঃ লাইপেজ (Lipase)।
৬। যে কোনো তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও: ২×৩=৬
৬.১ অ্যাক্সনের দুটি গঠনগত অংশের নাম লেখো।
উত্তরঃ
১. অ্যাক্সোলেমা (Axolemma) — অ্যাক্সনকে আবৃতকারী পাতলা পর্দা।
২. অ্যাক্সোপ্লাজম (Axoplasm) — অ্যাক্সনের ভেতরের সাইটোপ্লাজম।
৬.২ উদ্ভিদের দুটি নাইট্রোজেনবিহীন রেচন পদার্থের নাম লেখো।
উত্তরঃ
১. রজন (Resin)
২. গাম (Gum)
৬.৩ কোশপ্রাচীর ও কোশপর্দার একটি করে কাজ লেখো।
উত্তরঃ
কোশপ্রাচীরের কাজ :
কোষকে দৃঢ়তা ও নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে।
কোশপর্দার কাজ :
কোষে পদার্থের প্রবেশ ও নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করে।
৬.৪ পশ্চিমবঙ্গের দুটি জাতীয় উদ্যানের নাম লেখো।
উত্তরঃ
১. সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান
২. গোরুমারা জাতীয় উদ্যান
