তোমরা যারা মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছ এবং জীবন বিজ্ঞান বিষয়ে ভালো নম্বর পেতে চাও, তাদের জন্য আজকের এই পোস্টে থাকছে Madhyamik 2022 Life Science Question Paper Solution PDF। মাধ্যমিক ২০২২ জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর প্র্যাকটিস করলে তোমরা বুঝতে পারবে বোর্ড পরীক্ষায় কী ধরনের প্রশ্ন আসে এবং সেই প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর কীভাবে লিখতে হয়।
এই 2022 Madhyamik Life Science Question Paper Solved PDF-এ প্রতিটি প্রশ্নের বিস্তারিত ও নির্ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা তোমাদের পরীক্ষার খাতায় লেখার স্টাইল উন্নত করতে সাহায্য করবে।
শুধু তাই নয়, WBBSE Class 10 Board Exam Previous Year Question Paper PDF ও West Bengal Madhyamik 5 Years Question Answer PDF ডাউনলোড করে তোমরা গত কয়েক বছরের প্রশ্নের প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করতে পারবে, যা তোমাদের আসন্ন পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও মজবুত করে তুলবে। চলো, নিচে থেকে সম্পূর্ণ Complete Solution of Madhyamik 2022 Life Science Question দেখে নেওয়া যাক।
Madhyamik 2022 Life Science Question Paper Solution | মাধ্যমিক ২০২২ জীবন বিজ্ঞান প্রশ্ন উত্তর
বিভাগ – ‘ক’
(সমস্ত প্রশ্নের উত্তর করা আবশ্যিক)
১. প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে তার ক্রমিক সংখ্যাসহ বাক্যটিসম্পূর্ণ করে লেখো। ১×১৫=১৫
১.১ সঠিক জোড়টি নির্বাচন করো –
ক) স্কেরা – অক্ষিগোলকের ভেতরে অতিরিকু আলো শোষণ করে
খ) কোরয়েড অক্ষিগোলককে নির্দিষ্ট আকার দেয়
গ) লেন্স – আলোকের প্রতিসরণ ঘটায় ও উপযোজন সম্পন্ন করে
ঘ) রেটিনা – লেন্সকে সাসপেনসরি লিগামেন্টের সাহায্যে ধরে রাখে
উত্তরঃ গ) লেন্স- আলোকের প্রতিসরণ ঘটায় ও উপযোজন সম্পন্ন করে ।
১.২. অ্যাড্রিনালিন সম্পর্কিত নীচের কোন বক্তব্যটি সঠিক তা শনাক্ত করো ।
ক) হৃদস্পন্দনের হার বৃদ্ধি করে ।
খ) বয়ঃসন্ধিকালে শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করে
গ) হার্দ উৎপাদ বৃদ্ধি করে
ঘ) সিস্টোলিক রক্তচাপ বৃদ্ধি করে
উত্তরঃ খ) বয়ঃসন্ধিকালে শুক্রাণু উৎপাদনে সাহায্য করে
১.৩ নিম্নলিখিত কোনটি ট্রপিক চলনের বৈশিষ্ট্য তা নির্বাচন করো –
ক) উদ্দীপকের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নির্দিষ্ট উদ্ভিদ অঙ্গের আবিষ্ট বক্রচলন
খ) এটি একধরনের রসস্ফীতি জনিত চলন
গ) উদ্দীপকের তীব্রতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত উদ্ভিদ অঙ্গের আবিষ্ট বক্রচলন
ঘ) অক্সিনের প্রভাবে ঘটে না
উত্তরঃ ক) উদ্দীপকের গতিপথ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নির্দিষ্ট উদ্ভিদ অঙ্গের আবিষ্ট বক্রচলন
১.৪. ‘ক’ স্তম্ভে দেওয়া শব্দের সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভে দেওয়া শব্দের মধ্যে সমতা বিধান করে নীচের উত্তরগুলোর মধ্যে কোনটি সঠিক তা নির্বাচন করো –
| ‘ক’ স্তম্ভ | খ’ স্তম্ভ |
| A. CSF | (i) কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে যান্ত্রিক আঘাত থেকে রক্ষা করে |
| B. মেনিনজেস | (ii) মায়েলিন আবরণী গঠনে সাহায্য করে |
| C. নিউরোগ্লিয়া | (iii) অভিঘাত শোষকরূপে কাজ করে |
ক) A -(ii) B -(iii) C -(i)
খ) A – (iii) B-(i) C-(ii)
গ) A-(i) B-(ii) C- (iii)
ঘ) A- (i) B-(iii) C-(ii)
উত্তরঃ খ) A – (iii) B-(i) C-(ii)
১.৫. নীচের সঠিক ক্রমটি স্থির করোঃ
ক) গ্রাহক – কারক – সংজ্ঞাবহ স্নায়ু – আজ্ঞাবহ স্নায়ু- স্নায়ুকেন্দ্র
খ) গ্রাহক – স্নায়ুকেন্দ্র – আজ্ঞাবহ স্নায়ু – সংজ্ঞাবহ স্নায়ু – কারক
গ) গ্রাহক – সংজ্ঞাবহ স্নায়ু – স্নায়ুকেন্দ্র – আজ্ঞাবহ স্নায়ু – কারক
ঘ) গ্রাহক – আজ্ঞাবহ স্নায়ু – কারক – সংজ্ঞাবহ স্নায়ু – স্নায়ুকেন্দ্র
উত্তরঃ গ) গ্রাহক – সংজ্ঞাবহ স্নায়ু – স্নায়ুকেন্দ্র – আজ্ঞাবহ স্নায়ু – কারক
১.৬. সঠিক জোড়াটি নির্বাচন করো –
ক) টেলোফেজ – অপত্য ক্রোমোজোমের মেরু অভিমুখে গমন
খ) টেলোফেজ – নিউক্লিও পর্দা ও নিওক্লিওলাসের বিলুপ্তি
গ) টেলোফেজ – বেমতন্তু গঠন ]
ঘ) টেলোফেজ – নিওক্লিও পর্দা ও নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব
উত্তরঃ ঘ) টেলোফেজ – নিওক্লিও পর্দা ও নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব
১.৭. ক্রোমোজোমের প্রান্তদ্বয়ের নাম হলো-
ক) সেন্ট্রোমিয়ার
খ) টেলোমিয়ার
গ) নিউক্লিওলার অর্গানাইজার
ঘ) স্যাটেলাইট
উত্তরঃ খ) টেলোমিয়ার
১.৮. ইতর পরাগযোগ সম্পর্কিত নীচের কোন বক্তব্যটি সঠিক নয় তা শনাক্ত করো –
ক) বাহকের প্রয়োজন হয়
খ) বংশধারায় নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভব হয়
গ) প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে
ঘ) বীজের অঙ্কুরণ হার বেশি হয়
উত্তরঃ গ) প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে
১.৯. অযৌন ও যৌন জননের মধ্যে নীচের পার্থক্যগুলো বিবেচনা করো এবং কোনগুলো সঠিক তা বেছে নাও –
| অযৌন জনন | যৌন জনন |
| I. একই প্রজাতির বিপরীত লিঙ্গের দুটি জনিতৃ জীবের প্রয়োজন | একটি জনিতৃ জীব থেকেই অপত্য জীব সৃষ্টি হতে পারে। |
| II. কোশবিভাজন বা রেণু উৎপাদনের মাধ্যমে এই ধরনের জনন সম্পন্ন হয়। | গ্যামেট উৎপাদন ও মিলনের মাধ্যমে এই ধরনের জনন সম্পন্ন হয়। |
| III. অ্যামাইটোসিস,মাইটোসিস ও মিয়োসিস নির্ভর। | মিয়োসিস নির্ভর |
| IV. অপত্য জীবের মধ্যে প্রকরণ দেখা যায়। | অপত্য জীব হুবহু জনিতৃ জীবের মতো দেখতে হয়। |
(ক) I, IV (খ) II, III
(গ) III, IV (घ) I, II
উত্তরঃ (খ) II, III
১.১০. মানুষের ক্ষেত্রে সঠিক জোড়াটি নির্বাচন করো-
ক) ডিম্বাণুর স্বাভাবিক ক্রোমোজোম বিন্যাস – 22A+XX
খ) ডিম্বাণুর স্বাভাবিক ক্রোমোজোম বিন্যাস -22A+Y
গ) ডিম্বাণুর স্বাভাবিক ক্রোমোজোম বিন্যাস – 22A+X
ঘ) ডিম্বাণুর স্বাভাবিক ক্রোমোজোম বিন্যাস- 22A +XY
উত্তরঃ গ) ডিম্বাণুর স্বাভাবিক ক্রোমোজোম বিন্যাস – 22A+X
১.১১. কোন জিনোটাইপটি উভয় লোকাসের জন্য হোমোজাইগাস তা স্থির করো –
ক) BbRr
খ) BBRr
গ) BbRR
ঘ) bbrr
উত্তরঃ ঘ) bbrr
১.১২. সাদা বর্ণ ও অমসৃণ লোমযুক্ত গিনিপিগের জিনোটাইপ শনাক্ত করো –
ক) bbRR , bbrr
খ) BBRR , bbrr
গ) bbRR , bbRr
ঘ) BbRr , BbRR
উত্তরঃ গ) bbRR , bbRr
১.১৩ নীচের কোন্ দুটিকে মেণ্ডেল প্রকট বৈশিষ্ট্য হিসেবে নির্বাচন করেছিলেনতা স্থির করো-
ক) কান্ডের দৈর্ঘ্য – লম্বা , বীজের আকার- গোল
খ) ফুলের অবস্থান শীর্ষ , ফুলের বর্ণ সাদা
গ) বীজপত্রের বর্ণ – সবুজ , বীজের আকার -কুঞ্চিত
ঘ) কান্ডের দৈর্ঘ্য – খর্ব , বীজের আকার -কুঞ্চিত
উত্তরঃ ক) কান্ডের দৈর্ঘ্য – লম্বা , বীজের আকার- গোল
১.১৪. একটি সংকর দীর্ঘ (Tt) এবং একটি বিশুদ্ধ খর্ব (tt) মটর গাছের পরাগ মিলনে যে বীজ পাওয়া যায় , তা থেকে উৎপন্ন মটর গাছ গুলোর প্রকৃতি নির্ণয় করো –
ক) 100% দীর্ঘ
খ) 50% দীর্ঘ , 50% খর্ব
গ) 100% খর্ব
ঘ) 75% দীর্ঘ , 25% খর্ব
উত্তরঃ খ) 50% দীর্ঘ , 50% খর্ব
১.১৫. বিবাহের পূর্বে জিনগত পরামর্শ গ্রহণ করে কোন্ রোগটি প্রতিরোধ করা যেতে পারে তা স্থির করো –
ক) গয়টার
খ) ম্যালেরিয়া
গ) থ্যালাসেমিয়া
ঘ) যক্ষা
উত্তরঃ গ) থ্যালাসেমিয়া
বিভাগ – ‘খ’
২. নীচের ২৬টি প্রশ্ন থেকে ২১টি প্রশ্নের উত্তর নির্দেশ অনুসারে লেখো। ১×২১=২১
নীচের বাক্যগুলোর শূন্যস্থানগুলোতে উপযুক্ত শব্দ বসাও (যে কোনো পাঁচটি): ১×৫=৫
২.১ _ হরমোন পরিপক্ক বীজে খুব বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় ।
উত্তরঃ জিব্বেরেলিন
২.২. প্রতিবর্ত ক্রিয়া দ্রুত , স্বতস্ফুর্ত এবং _ ।
উত্তরঃ অনৈচ্ছিক ।
২.৩. __ কোশবিভাজনে বেমতন্তু গঠিত হয় না ।
উত্তরঃ অ্যামাইটসিস ।
২.৪. _ একটি পতঙ্গপরাগী পুস্প ।
উত্তরঃ আম
২.৫. রোলার জিভ মোড়ার ক্ষমতাসম্পন্ন জিনটি __ ।
উত্তরঃ প্রকট
২.৬. হিমোফিলিয়ার জন্য দায়ী জিনটি প্রচ্ছন্ন হওয়ার একমাত্র _ অবস্থায় এই রোগের লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় ।
উত্তরঃ হোমোজাইগাস বা হেমিজাইগাস
নীচের বাক্যগুলো সত্য অথবা মিথ্যা নিরুপণ করো (যে কোন পাঁচটি): ১×৫=৫
২.৭ দূরের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্যের বৃদ্ধি ঘটে ।
উত্তরঃ সত্য
২.৮. প্রতিটি নিউক্লিওসাইডে নাইট্রোজেনযুক্ত ক্ষারক ও ফসফরিক অ্যাসিড থাকে ।
উত্তরঃ মিথ্যা
২.৯. মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে স্ত্রীর কোনো ভূমিকাই নেই।
উত্তরঃ সত্য
২.১০.যদি কোনো মটরগাছে TT বা tt বৈশিষ্ট্য থাকে , তবে এই অ্যালিলের সাপেক্ষে মটরগাছটি হেটেরোজাইগাস হয় ।
উত্তরঃ মিথ্যা
২.১১. মটর ফুল একলিঙ্গ হওয়ায় মটরগাছে স্বপরাগযোগ এবং প্রয়োজনে ইতর পরাগযোগ ঘটানো যায় ।
উত্তরঃ মিথ্যা
২.১২. কোশীয় বিভেদন দশায় অপত্য কোশগুলো নানাভাবে পরিবর্তিত ও রূপান্তরিত হয়ে কলা , অঙ্গ ও তন্ত্র গঠন করে
উত্তরঃ সত্য
A-স্তম্ভে দেওয়া শব্দের সঙ্গে B-স্তম্ভে দেওয়া সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত শব্দটির সমতাবিধান করে উভয় স্তম্ভের ক্রমিক নং উল্লেখসহ সঠিক জোড়টি পুনরায় লেখঃ (যেকোনো পাঁচটি )
| A-স্তম্ভ | B-স্তম্ভ |
| ২.১৩ বহুমুত্র | (ক) স্বাধীন বন্টন সূত্র |
| ২.১৪ সোয়ান কোশ | (খ)অস্থির ভঙ্গুরতা |
| ২.১৫ মিয়োসিস | (গ) অ্যাক্সনের নিউরোলেমা ও মায়োলিন আবরণীর মাঝে থাকে |
| ২.১৬ বার্ধক্য দশা | (ঘ) ADH -এর কম ক্ষরণ |
| ২.১৭. জিনগত রোগ | (ঙ) রেণুমাতৃ কোশ ও জনন মাতৃকোশ |
| ২.১৮ মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র | (চ) বর্ণান্ধতা |
(ছ) পৃথকীভবনের সূত্র |
উত্তরঃ ২.১৩-ঘ , ২.১৪ -গ , ২.১৫ – ঙ , ২.১৬ – খ , ২.১৭ – চ , ২.১৮ – ক
একটি শব্দে বা একটি বাক্যে উত্তর দাও (যে কোনো ছটি): ১×৬=৬
২.১৯. বিসদৃশ শব্দটি বেছে লেখোঃ
অলফ্যাক্টরি স্নায়ু , ভেগাস স্নায়ু , অপটিক স্নায়ু , অডিটরি স্নায়ু
উত্তরঃ ভেগাস স্নায়ু ।
২.২০. প্রাণীদের কাজ শেষ হওয়ায় পর হরমোনের পরিণতি কি ?
উত্তরঃ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ।
২.২১. নীচের সম্পর্কযুক্ত একটি শব্দজোড় দেওয়া আছে । প্রথম জোড়টির সম্পর্ক বুঝে দ্বিতীয় জোড়টির শূন্যস্থানে উপযুক্ত শব্দ বসাওঃ
পিউরিনঃ অ্যাডেনিন : : পিরিমিডিন : ?
উত্তরঃ থাইমিন
২.২২. কোশচক্রের চেকপয়েন্টের কাজ বিঘ্নিত হলে কি ঘটবে ?
উত্তরঃ টিউমার সৃষ্টি হবে
২.২৩. সংকরায়ণ কি ?
উত্তরঃ কোনো চরিত্রের সাপেক্ষে বিপরীত বৈশিষ্ট্য যুক্ত একই প্রজাতির দুটি জীবের মধ্যে যৌন জননকে সংকরায়ণ বলে । যেমন বিশুদ্ধ লম্বা ও বিশুদ্ধ বেঁটে মটর গাছের মিলন ঘটিয়ে সংকর লম্বা মটর গাছ সৃষ্টি করার পদ্ধতি ।
২.২৪. প্রকট বৈশিষ্ট্য কী ?
উত্তরঃ একই চরিত্রের অন্তর্গত দুটি বিশুদ্ধ বিপরীত বৈশিষ্ট্যের জীবের মিলন ঘটালে প্রথম অপত্য বংশে (F1 জনুতে ) যে বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ পায় , তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে ।
উদাহরণঃ বিশুদ্ধ বেগুনি ও বিশুদ্ধ সাদা ফুলযুক্ত মটর গাছের পরনিষেক ঘটালে F1 জনুতে সৃষ্ট সকল গাছ বেগুনি ফুল বিশিষ্ট হয় , অর্থাৎ বেগুনি ফুল হওয়ার বৈশিষ্ট্যটি হল প্রকট বৈশিষ্ট্য ।
২.২৫. নীচের চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটি একটি বিষয়ের অন্তর্গত । সেই বিষয়টি খুঁজে বার করো এবং লেখো –
মৌল বিপাকীয় হার বৃদ্ধি , থাইরক্সিন , লোহিত রক্ত কণিকার ক্রমপরিণতি , এক্সপথ্যালিক গয়টার
উত্তরঃ থাইরক্সিন
২.২৬. ইন্টারফেজের কোন দশায় বেমতন্তু গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন সংশ্লেষিত হয় ?
উত্তরঃ G₂ দশায়।
বিভাগ ‘গ’
৩. নীচের ১৭ টি প্রশ্ন থেকে যে-কোনো ১২ টি প্রশ্নের উত্তর দুই-তিনটি বাক্যে লেখোঃ ২×১২ =২৪
৩.১. নীচের কাজগুলো কোন কোন হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তার একটি তালিকা তৈরি করো –
I. দীর্ঘ অস্থির প্রান্তস্থিত তরুণাস্থি ধাত্রের খনিজীভবন ঘটিয়ে অস্থিত দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায় ।
II. বিদীর্ণ ডিম্বথলিকে পীতগ্রন্থি নামক অস্থায়ী অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতে পরিণত করে এবং ওই গ্রন্থি থেকে প্রজেস্টেরন হরমোন ক্ষরণে প্রয়োজনীয় উদ্দিপনা জোগায় ।
III. যকৃতে প্রোটিন ও লিপিড থেকে গ্লুকোজ উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে ।
IV. প্রসবকালে জরায়ুগাত্রের পেশির সংকোচন ঘটায় ।
উত্তরঃ
(i) দীর্ঘ অস্থির প্রান্তস্থিত তরুণাস্থি ধাত্রের খনিজীভবন ঘটিয়ে অস্থির দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি ঘটায় — STH (সোমাটোট্রপিক হরমোন / Growth Hormone)
(ii) বিদীর্ণ ডিম্বথলিকে পীতগ্রন্থি নামক অস্থায়ী অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতে পরিণত করে এবং ওই গ্রন্থি থেকে প্রজেস্টেরন হরমোন ক্ষরণে প্রয়োজনীয় উদ্দিপনা জোগায় — LH (লিউটিনাইজিং হরমোন)
(iii) যকৃতে প্রোটিন ও লিপিড থেকে গ্লুকোজ উৎপাদনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে — ইনসুলিন হরমোন
(iv) প্রসবকালে জরায়ুগাত্রের পেশির সংকোচন ঘটায় — অক্সিটোসিন হরমোন
৩.২. মায়োপিয়া ও হাইপারমেট্রোপিয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো ।
উত্তরঃ
মায়োপিয়া – চোখের যে ট্রুটির কারণে নিকটের দৃষ্টি ঠিক থাকলেও দূরের দৃষ্টি ব্যাহত হয় , তাকে মায়োপিয়া বলে । এক্ষেত্রে অক্ষিগোলকের আকার বড় হওয়ায় বা লেন্সের ট্রুটির জন্য দূরবর্তী বস্তু থেকে আগত আলোক রশ্মি রেটিনার সামনে প্রতিবিম্ব গঠন করে । ফলে দূরদৃষ্টি অস্পষ্ট হয় ।
মায়োপিয়া সংশোধনের জন্য অবতল লেন্স (Concave lens) ব্যবহার করা হয়।
হাইপারমেট্রোপিয়া – চোখের যে ট্রুটির জন্য দূরের দৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও কাছের দৃষ্টি ব্যাহত হয় , তাকে হাইপারমেট্রোপিয়া বলে । এক্ষেত্রে অক্ষিগোলকের আকার স্বাভাবিকের তুলনায় ছোটো হওয়ার বা লেন্সের ট্রুটির জন্য রেটিনার পশ্চাতে প্রতিবিম্ব গঠিত হয় ।
হাইপারমেট্রোপিয়া সংশোধনের জন্য উত্তল লেন্স (Convex lens) ব্যবহার করা হয়।
৩.৩. নীচের পেশিগুলোর সংকোচনের ফলে কি কি ঘটনা ঘটে ব্যাখ্যা করো ।
I.ফ্লেক্সর পেশি
II.এক্সটেন্সর পেশি
III.অ্যাবডাক্টর পেশি
IV.রোটেটর পেশি
উত্তর:
| পেশির নাম | সংকোচনের ফলে |
|---|---|
| ফ্লেক্সর পেশি | দুটি অস্থি পরস্পরের কাছাকাছি আসে (অস্থিসন্ধিতে ভাঁজ সৃষ্টি হয়) |
| এক্সটেন্সর পেশি | ভাঁজ হওয়া অস্থি পরস্পরের থেকে দূরে সরে যায় (অস্থিসন্ধি সোজা হয়) |
| অ্যাবডাক্টর পেশি | কোনো অঙ্গ দেহের মধ্যরেখা/অক্ষ থেকে দূরে সরে যায় |
| রোটেটর পেশি | কোনো অঙ্গ দেহের মধ্যবর্তী অক্ষের চারপাশে বৃত্তাকারে ঘুরে আসতে পারে |
৩.৪. উদ্ভিদের বৃদ্ধি সংক্রান্ত কোন্ কোন্ কাজ অক্সিন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তার একটি তালিকা তৈরি করো ।
উত্তরঃ অক্সিন হরমোন উদ্ভিদের নিম্নলিখিত কাজগুলি নিয়ন্ত্রণ করে —
(i) অগ্রস্থ প্রকটতা (Apical dominance) সৃষ্টি ও পার্শ্বীয় মুকুলের বৃদ্ধি রোধ করে ।
(ii) কোশ বিভাজন ও কোশ বৃদ্ধিতে (cell elongation) সাহায্য করে ।
(iii) নিষেকের পর ফলের বৃদ্ধি ও পরিস্ফুটনে (parthenocarpy) সাহায্য করে ।
(iv) মূলের (adventitious/lateral root) সৃষ্টি ও বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ।
(v) ফটোট্রপিক ও জিওট্রপিক চলন নিয়ন্ত্রণ করে ।
৩.৫. নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের নিরিখে উদ্ভিদকোশের মাইটোসিস ও প্রাণীকোশের মাইটোসিসের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো –
I.বেমতন্তু গঠন
II.সাইটোকাইনেসিস পদ্ধতি
উত্তরঃ
| বৈশিষ্ট্য | উদ্ভিদকোশের মাইটোসিস | প্রাণীকোশের মাইটোসিস |
|---|---|---|
| I. বেমতন্তু গঠন | সেন্ট্রিওল অনুপস্থিত থাকায় সাইটোপ্লাজমের অণুনালিকা (Microtubule)-এর সাহায্যে বেমতন্তু গঠিত হয়। | সেন্ট্রিওল থেকে বেমতন্তু গঠিত হয়। |
| II. সাইটোকাইনেসিস পদ্ধতি | ফ্র্যাগমোপ্লাস্টের মাধ্যমে কোশপাত (Cell plate) সৃষ্টি হয়ে সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন হয়। | কোশের মাঝখানে ক্লিভেজ ফারো (Cleavage furrow) সৃষ্টি হয়ে সাইটোকাইনেসিস সম্পন্ন হয়। |
৩.৬ পাথরকুচি অস্থানিক মুকুলের সাহায্যে কীভাবে প্রাকৃতিক অংগজ বংশবিস্তার
করে তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ পাথরকুচির পাতার কিনারা থেকে অস্থানিক মুকুল জন্মায় । একে পত্রাশয়ী মুকুল বলে । এই পত্রাশ্রয়ী মুকুলের নীচের দিক থেকে আবার অনেক মূল বের হয় । পরে মূলসহ প্রতিট পাতা বিচ্ছিন্ন হয়ে অনুকূল পরিবেশে নতুন উদ্ভিদের জন্ম দেয়।
৩.৭. নিউক্লিয়াস বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় ক্রোমোজোমের যে যে পরিবর্তন হয় তা লিপিবদ্ধ করো ।
উত্তরঃ নিউক্লিয়াস বিভাজনের অ্যানাফেজ দশায় ক্রোমোজোমের পরিবর্তনসমূহ —
(i) সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে প্রতিটি ক্রোমোজোম দুটি পৃথক অপত্য ক্রোমোজোমে পরিণত হয় ।
(ii) ক্রোমোজোমীয় তন্তুর সংকোচন ও ইন্টারজোনাল তন্তুর প্রসারণের ফলে অপত্য ক্রোমোজোমগুলি বিপরীত মেরুর দিকে গমন করে। এইরূপ চলনকে অ্যানাফেজীয় চলন বলে ।
(iii) সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী গমনকালে ক্রোমোজোমগুলি V, L, J, I আকৃতি ধারণ করে (যথাক্রমে মেটাসেন্ট্রিক, সাবমেটাসেন্ট্রিক, আক্রোসেন্ট্রিক, টেলোসেন্ট্রিক) ।
৩.৮. ইস্টের কোরকদ্গম প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয় তা বর্ণনা করো ।
উত্তরঃ অনুকূল পরিবেশে ইস্ট কোশের গাত্রে একটি ছোটো স্ফীত উপবৃদ্ধি সৃষ্টি হয়, একে কোরক (bud) বলে। মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে একটি নিউক্লিয়াস কিছু সাইটোপ্লাজমসহ কোরকে প্রবেশ করে। কোরকটি ক্রমশ পুষ্টি সংগ্রহ করে বৃদ্ধি পায় এবং পরিণত হয়ে মাতৃকোশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন অপত্য ইস্ট কোশ গঠন করে; অনেক সময় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না হয়ে শিকলের মতো (chain) গঠনও তৈরি করতে পারে।
৩.৯. মানব বিকাশের বয়ঃসন্ধি দশায় যে যে পরিবর্তন ঘটে তার একটি তালিকা তৈরি করো ।
উত্তরঃ
পুরুষদেহে পরিবর্তনঃ
(i) দৈহিক ওজন ও উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, পেশি ও অস্থি শক্তিশালী হয় ।
(ii) কণ্ঠস্বর ভারী হয় এবং মুখমণ্ডলে (দাড়ি-গোঁফ) ও শরীরে লোম গজায় ।
(iii) যৌনাঙ্গের পরিপক্বতা ঘটে ও শুক্রাণু উৎপাদন শুরু হয় ।
স্ত্রীদেহে পরিবর্তনঃ
(i) ত্বকের নিচে মেদ সঞ্চিত হয়ে দেহে নমনীয়তা ও শ্রোণীদেশ চওড়া হয় ।
(ii) স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি ঘটে এবং বগল ও যৌনাঙ্গে লোম গজায় ।
(iii) রজঃচক্র (menstruation) শুরু হয় ।
৩.১০. মিয়োসিস কোশবিভাজনের নীচের দুটি তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো ।
I. প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা
II. জীবের মধ্যে প্রকরণের উতপত্তি
উত্তরঃ
I. প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা :
মিয়োসিসের ফলে জননকোশে (গ্যামেট) ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক (হ্যাপ্লয়েড) হয়ে যায়। পরে নিষেকের সময় দুটি হ্যাপ্লয়েড গ্যামেটের মিলনে ডিপ্লয়েড জাইগোট গঠিত হওয়ায় প্রতিটি প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধ্রুবক থাকে।
II. জীবের মধ্যে প্রকরণের উৎপত্তি :
মিয়োসিসের সময় ক্রসিং ওভার ও সমসংস্থ ক্রোমোজোমের স্বাধীন বিন্যাস (Independent Assortment)-এর ফলে জিনের নতুন সমন্বয় (রিকম্বিনেশন) সৃষ্টি হয়। এর ফলে অপত্য জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্য বা প্রকরণ দেখা যায়, যা ক্রমবিবর্তনে সহায়ক।
৩.১১ বংশগতি সংক্রান্ত মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রটি বিবৃত করো।
উত্তরঃ দুই বা তার বেশি বিপরীতধর্মী যুগ্ম বৈশিষ্ট্যের উপাদানগুলি জনিতৃ থেকে অপত্য জনুতে সঞ্চারিত হলেও তারা মিশ্রিত হয় না, বরং জননকোশ গঠনের সময় পরস্পর থেকে স্বাধীনভাবে পৃথক হয়ে সম্ভাব্য সকল সমন্বয়ে জননকোশে সঞ্চারিত হয় — এটিই মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্র বা স্বাধীন বিন্যাস সূত্র (Law of Independent Assortment)। উদাহরণস্বরূপ, দ্বি-সংকর জননে (RrYy × RrYy) F₂ জনুতে ৯:৩:৩:১ অনুপাতে চার প্রকার ফিনোটাইপ উৎপন্ন হওয়াই এই সূত্রের প্রমাণ।
৩.১২ “অসম্পূর্ণ প্রকটতার ক্ষেত্রে ফিনোটাইপিক ও জিনোটাইপিক অনুপাত অভিন্ন
হয়” – বক্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো।
উত্তরঃ

অসম্পূর্ণ প্রকটতায় জিনোটাইপ অনুপাত ও ফিনোটাইপ অনুপাত একই হয় — উভয়ই 1 : 2 : 1 (লাল : গোলাপি : সাদা)। এটি সম্পূর্ণ প্রকটতা (complete dominance)-র থেকে আলাদা, যেখানে জিনোটাইপ অনুপাত 1:2:1 হলেও ফিনোটাইপ অনুপাত হয় 3:1
৩.১৩ বংশগতি সংক্রান্ত পরীক্ষায় মেণ্ডেলের সাফল্যলাভের দুটি কারণ লেখো।
উত্তরঃ (১) উপযুক্ত পরীক্ষামূলক উদ্ভিদ নির্বাচনঃ মেন্ডেল পরীক্ষার জন্য মটর গাছ (Pisum sativum) নির্বাচন করেছিলেন, যা বিশুদ্ধ জাতের, স্বপরাগী (self-pollinating) এবং প্রয়োজনে সহজে কৃত্রিম পরপরাগযোগ ঘটানো যায় এমন উভলিঙ্গ ফুলবিশিষ্ট — ফলে সংকরায়ণ পরীক্ষা সহজ ও নির্ভুল হয়েছিল ।
(২) স্বল্প জীবনকাল ও দ্রুত ফলাফলঃ মটর গাছ একবর্ষজীবী (annual) হওয়ায় স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক জনু (F₁, F₂…) ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো সম্ভব হয়েছিল, যার ফলে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য উপসংহারে পৌঁছানো গিয়েছিল ।
৩:১৪ “গমনের একটি চালিকা শক্তি হল প্রাণীর বিস্তার” – উপযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে বক্তব্যটি যৌক্তিকতা বিচার করো।
উত্তরঃ প্রাণীরা প্রজনন ও বংশবিস্তারের জন্য, উপযুক্ত সঙ্গী বা সঙ্গিনী খোঁজার উদ্দেশ্যে এবং নিরাপদ স্থানে অপত্যের জন্মদান ও প্রতিপালনের জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন করে। যেমন — স্যামন মাছ প্রজননের জন্য সমুদ্র থেকে মিষ্টি জলের নদীতে ফিরে আসে, এবং অলিভ রিডলি কচ্ছপ ডিম পাড়ার জন্য নির্দিষ্ট সৈকতে বহু দূর পাড়ি দেয়। এর ফলে প্রাণীরা নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রিত থাকে। সুতরাং, বলা যায় গমনের একটি মূল চালিকাশক্তি হল প্রাণীর বিস্তার।
৩.১৫ ক্রোমোজোমের রাসায়নিক উপাদান একটি সারণির সাহায্যে দেখাও।
উত্তরঃ

৩.১৬ DNA ও RNA এর মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়ে বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে তুলনা করো —
- শর্করার প্রকৃতি
- পিরিমিডিন ক্ষারকের প্রকৃতি
উত্তরঃ
| বিষয় | DNA | RNA |
|---|---|---|
| শর্করার প্রকৃতি | পাঁচ কার্বনযুক্ত ডি-অক্সিরাইবোজ শর্করা | পাঁচ কার্বনযুক্ত রাইবোজ শর্করা |
| পিরিমিডিন ক্ষারকের প্রকৃতি | পিরিমিডিন ক্ষারক হিসেবে সাইটোসিন ও থাইমিন থাকে | পিরিমিডিন ক্ষারক হিসেবে সাইটোসিন ও ইউরাসিল থাকে (থাইমিনের পরিবর্তে) |
৩.১৭ “কোনাে কোনাে ফিনােটাইপের একাধিক জিনােটাইপ এবং অপর কোনােকোনাে ফিনােটাইপের একটিই জিনােটাইপ থাকতে পারে” – মটরগাছের ক্ষেত্রে দ্বিসংকরজননের পরীক্ষা লব্ধ ফলাফল থেকে বক্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করাে।
উত্তরঃ
দ্বিসংকর ক্রসে (YyRr × YyRr) F₂ জনুতে ফিনোটাইপিক অনুপাত 9:3:3:1 হলেও জিনোটাইপিক অনুপাত ভিন্ন হয়। যেমন — হলুদ-গোল ফিনোটাইপের অন্তর্গত ৪টি ভিন্ন জিনোটাইপ (YYRR, YYRr, YyRR, YyRr) থাকে, কিন্তু সবুজ-কুঞ্চিত ফিনোটাইপের মাত্র ১টি জিনোটাইপ (yyrr) থাকে। এভাবে দেখা যায়, কোনো ফিনোটাইপের একাধিক আবার কোনো ফিনোটাইপের একটিমাত্র জিনোটাইপ থাকতে পারে।
বিভাগ – ‘ঘ’
৪. নীচের ৬টি প্রশ্ন বা তার বিকল্প প্রশ্নের উত্তর লেখাে। দৃষ্টিহীন পরীক্ষার্থীদের ৪.১ নং প্রশ্নের পরিবর্তে ৪.১(A) নং প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। প্রতিটি প্রশ্নের মান ৫ (প্রশ্নের মানের বিভাজন ৩+২, ২+৩ কিম্বা ৫) : ৫X৬=৩০
৪.১ একটি নিউরোনের বিজ্ঞানসম্মত চিত্র অংকন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করো। ৩+২=৫
ক) অ্যাক্সন
খ) র্যানভিয়ারের পর্ব
গ) ডেনড্রন
ঘ) সোয়ান কোশ
উত্তরঃ

অথবা
একটি ইউক্যারিওটিক ক্রোমোজোমের অংগসংস্থানিক গঠনের বিজ্ঞানসম্মত চিত্র অংকন করো এবং নিম্নলিখিত অংশগুলো চিহ্নিত করো : ৩+২=৫
ক) ক্রোমাটিড
খ) টেলোমিয়ার
গ) সেন্ট্রোমিয়ার
ঘ) নিউক্লিওলার অরগ্যানাইজার
উত্তরঃ

৪.২ মানবদেহে বিপরীতধর্মী কাজ করে এমন নিম্নলিখিত তিন জোড়া হরমোনের কাজের তুলনা করো ।
- ইনসুলিন ও গ্লুকাগন
- ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন
- FSH ও LH
পশ্চাৎ মস্তিষ্কের সংগে শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের কার্যের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো। ৩+২=৫
উত্তরঃ
| ইনসুলিন | গ্লুকাগন |
|---|---|
| • রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত করে। | • যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে পরিণত করে। |
| • রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়। | • রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়। |
| • কিটোন বডি উৎপাদনে বাধা দেয়। | • কিটোন বডি উৎপাদনে সাহায্য করে। |
| ইস্ট্রোজেন | প্রোজেস্টেরন |
|---|---|
| • ঋতুচক্রের সময় জরায়ুর প্রাচীরের বৃদ্ধি ঘটায়। | • গর্ভাবস্থায় জরায়ুর প্রাচীরকে বজায় রাখে। |
| • স্ত্রীদেহে গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটায়। | • গর্ভধারণ ও ভ্রূণের বিকাশে সাহায্য করে। |
| FSH | LH |
|---|---|
| • মহিলাদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়ের ফলিকলের বৃদ্ধি ও পরিণতিতে সাহায্য করে। | • ডিম্বস্ফোটন ঘটায় এবং কর্পাস লিউটিয়াম গঠনে সাহায্য করে। |
| • পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণু উৎপাদনে সহায়তা করে। | • পুরুষদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে। |
পশ্চাৎ মস্তিষ্কের সঙ্গে শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক :
পশ্চাৎ মস্তিষ্কের মেডালা অবলংগাটায় অবস্থিত শ্বসন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (Respiratory Centre) স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্বাসক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে CO₂-এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে তা এই কেন্দ্রকে উদ্দীপিত করে, ফলে শ্বাসপেশি (মধ্যচ্ছদা ও আন্তঃপঞ্জর পেশি) সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে শ্বাসক্রিয়ার হার ও গভীরতা নিয়ন্ত্রিত হয়। এছাড়া মেডালার নিকটবর্তী পন্স-এ অবস্থিত নিউমোট্যাক্সিক কেন্দ্র শ্বসন কেন্দ্রের কার্যকলাপ সমন্বয় করে শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
অথবা
কোনো দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির নিম্নলিখিত শারীরিক কাজগুলো ব্যাহত হলো। কাজগুলোর সংগে সংশ্লিষ্ট মস্তিষ্কের অংশগুলোর নাম লেখো :
- বাকশক্তি
- ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও নিদ্রা
- দেহভঙ্গি ও দেহের ভারসাম্য
- জিহ্বা সঞ্চালন ও খাদ্য গলাধঃকরণ
হরমোনের কাজের ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি একটি উপযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে ব্যাখ্যা করো । ৩+২=৫
উত্তরঃ
| শারীরিক কাজ | সংশ্লিষ্ট মস্তিষ্কের অংশ |
|---|---|
| বাকশক্তি | সেরিব্রাম (ফ্রন্টাল লোবের ব্রোকা’স অঞ্চল/Broca’s area) |
| ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও নিদ্রা | হাইপোথ্যালামাস |
| দেহভঙ্গি ও দেহের ভারসাম্য | সেরিবেলাম |
| জিহ্বা সঞ্চালন ও খাদ্য গলাধঃকরণ | মেডালা অবলংগাটা |
হরমোনের কাজের ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির উদাহরণ — মানুষের মস্তিষ্কে হাইপোথ্যালামাস উত্তেজিত হলে TRH নিঃসৃত করে, যা পিটুইটারি গ্রন্থির অগ্রভাগ থেকে TSH ক্ষরণে প্রয়োজনীয় উদ্দীপনা জোগায়। TSH থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন ক্ষরণে প্রয়োজনীয় উদ্দীপনা জোগায়। রক্তে থাইরক্সিনের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছালে এটি হাইপোথ্যালামাসের ওপর কাজ করে TRH ক্ষরণ বন্ধ করে দেয়। TRH ক্ষরণ বন্ধ হলে অগ্র পিটুইটারি থেকে TSH আর ক্ষরিত হয় না। TSH-এর অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি উদ্দীপিত হতে না পারায় থাইরক্সিন হরমোনের ক্ষরণও বন্ধ হয়ে যায়। একে নেগেটিভ বা ঋণাত্মক ফিডব্যাক নিয়ন্ত্রণ বলে।
৪.৩ কৃষিকাজ ও উদ্যানবিদ্যায় কৃত্রিম উদ্ভিদ হরমোনের ভূমিকাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করো। মানবদেহের গ্লুকোজ শোষণ ও বিপাকের ওপর ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবগুলো কী কী? ২+৩=৫
উত্তরঃ
কৃষিকাজ ও উদ্যানবিদ্যায় কৃত্রিম উদ্ভিদ হরমোনের ভূমিকা–
i.আগাছা দমনে 2,4-D-এর মতো কৃত্রিম অক্সিন ব্যবহার করা হয়।
ii.বীজবিহীন (পারথেনোকার্পিক) ফল উৎপাদনে ব্যবহার করা হয়।
iii.ফল ঝরে পড়া রোধ ও ফলের আকার বৃদ্ধি করতে ব্যবহৃত হয়।
iv.কলমে দ্রুত শিকড় গজাতে (IBA, NAA) ব্যবহার করা হয়।
মানবদেহে গ্লুকোজ শোষণ ও বিপাকের ওপর ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবসমূহ —
গ্লাইকোজেনেসিস — ইনসুলিন রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেনেসিস পদ্ধতিতে গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত করে এবং যকৃত ও পেশিতে সঞ্চয় করে।
গ্লুকোজ শোষণ — ইনসুলিন কোশপর্দার মাধ্যমে কোশের মধ্যে গ্লুকোজের শোষণে সাহায্য করে।
গ্লুকোজের জারণ — ইনসুলিন কলাকোশে গ্লুকোজের জারণ ত্বরান্বিত করে পাইরুভিক অ্যাসিড উৎপন্ন করে, ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়।
নিউগ্লুকোজেনেসিস (গ্লুকোনিওজেনেসিস) রোধ — ইনসুলিন প্রোটিন ও ফ্যাট ইত্যাদি থেকে গ্লুকোজ উৎপাদনে বাধা দেয়।
অথবা
দ্বিনেত্র দৃষ্টি ও একনেত্র দৃষ্টির নিম্নলিখিত বিষয়ে তিনটি পার্থক্য লেখো : ৩+২=৫
- বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠন
- দৃষ্টিক্ষেত্র
- গভীরতা
সহজাত ও অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মধ্যে নিম্নলিখিত যে কোনো দুটি বিষয়ে পার্থক্য নিরূপণ করো –
- প্রকৃতি
- শর্ত
- পূর্ব অভিজ্ঞতা
- স্নায়ুপথ
উত্তরঃ
| বিষয় | দ্বিনেত্র দৃষ্টি (Binocular vision) | একনেত্র দৃষ্টি (Monocular vision) |
|---|---|---|
| বস্তুর প্রতিবিম্ব গঠন | উভয় চোখের রেটিনায় পৃথক প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়ে মস্তিষ্কে একটি ত্রিমাত্রিক (3D) প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। | একটিমাত্র চোখের রেটিনায় প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয় এবং দ্বিমাত্রিক (2D) প্রতিবিম্ব দেখা যায়। |
| দৃষ্টিক্ষেত্র | দৃষ্টিক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে কম (প্রায় 120°)। | দৃষ্টিক্ষেত্র তুলনামূলকভাবে বেশি (প্রায় 180° বা তার বেশি)। |
| গভীরতা | বস্তুর গভীরতা ও দূরত্ব সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায়। | বস্তুর গভীরতা ও দূরত্ব সঠিকভাবে নির্ণয় করা যায় না। |
| বিষয় | সহজাত প্রতিবর্ত ক্রিয়া | অর্জিত প্রতিবর্ত ক্রিয়া |
|---|---|---|
| প্রকৃতি | জন্মগত ও স্বাভাবিক। | অভ্যাস বা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত। |
| শর্ত | কোনো বিশেষ শর্তের প্রয়োজন হয় না। | নির্দিষ্ট শর্ত ও বারবার অনুশীলনের প্রয়োজন হয়। |
| পূর্ব অভিজ্ঞতা | পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। | পূর্ব অভিজ্ঞতা বা শিক্ষা প্রয়োজন হয়। |
| স্নায়ুপথ | জন্মগত ও স্থায়ী স্নায়ুপথের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। | নতুনভাবে গঠিত ও অস্থায়ী স্নায়ুপথের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। |
৪.৪ ফার্ণের জনুক্রম একটি শব্দচিত্রের মাধ্যমে দেখাও। ৫
উত্তরঃ

অথবা
শব্দচিত্রের মাধ্যমে সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন পদ্ধতিটি দেখাও। ৫
উত্তরঃ সপুষ্পক উদ্ভিদের যৌন জনন পদ্ধতিটি–

৪.৫ মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মধ্যে নিম্নলিখিত তিনটি বিষয়ে পার্থক্য নিরূপণ করো: ৩+২=৫
- সম্পাদনের স্থান
- ক্রোমোজোম বিভাজনের প্রকৃতি
- উৎপন্ন কোশের সংখ্যা
মিয়োসিস কোশবিভাজন সম্পর্কিত নীচের ঘটনাগুলো ব্যাখ্যা করো:
- ক্রমোজোম ও ক্রোমাটিডের পৃথকিকরণ
- ক্রসিং-ওভার
উত্তরঃ
| বিষয় | মাইটোসিস (Mitosis) | মিয়োসিস (Meiosis) |
|---|---|---|
| সম্পাদনের স্থান | দেহকোষে (Somatic cell) | জনন মাতৃকোষে (অণ্ডাশয় ও শুক্রাশয়) |
| ক্রোমোজোম বিভাজনের প্রকৃতি | সমসংখ্যক বা সমীকরণমূলক বিভাজন (2n → 2n) | হ্রাসমূলক বিভাজন (2n → n) |
| উৎপন্ন কোশের সংখ্যা | ২টি অভিন্ন ডিপ্লয়েড (2n) অপত্য কোশ | ৪টি হ্যাপ্লয়েড (n) অপত্য কোশ |
১. ক্রোমোজোম ও ক্রোমাটিডের পৃথকীকরণ
মিয়োসিস-১ এর অ্যানাফেজ পর্যায়ে সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়া (প্রতিটিতে দুটি করে ক্রোমাটিড যুক্ত থাকে) পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে বিপরীত মেরুর দিকে গমন করে — এখানে ক্রোমাটিড আলাদা হয় না।
এরপর মিয়োসিস-২ এর অ্যানাফেজ পর্যায়ে প্রতিটি ক্রোমোজোমের দুটি বোন ক্রোমাটিড পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে যায় এবং প্রতিটি স্বতন্ত্র ক্রোমোজোম হিসেবে বিপরীত মেরুতে যায় (মাইটোসিসের অ্যানাফেজের মতো)।
২. ক্রসিং-ওভার
মিয়োসিস-১ এর প্রোফেজ পর্যায়ে (প্যাকাইটিন উপ-পর্যায়ে) সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে খণ্ড বিনিময় ঘটে, একে ক্রসিং-ওভার বলে। এর ফলে জিনগত পুনর্বিন্যাস ঘটে এবং সন্তান প্রজন্মে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয় — এটি মিয়োসিসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, যা মাইটোসিসে দেখা যায় না।
অথবা
উদ্ভিদকোশের সাইটোকাইনেসিস ও প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিসের মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়ে পার্থক্য নিরূপণ করোঃ
- পদ্ধতি
- সূচনার সময়কাল
- গলগি বস্তুর ভূমিকা
জিন, DNA ও ক্রোমোজোমের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করো। ৩+২=৫
উত্তরঃ
| বিষয় | উদ্ভিদকোশের সাইটোকাইনেসিস | প্রাণীকোশের সাইটোকাইনেসিস |
|---|---|---|
| পদ্ধতি | কোশপ্লেট বা ‘সেলপ্লেট’ গঠনের মাধ্যমে ঘটে। | ফারোয়িং বা ক্লিভেজ পদ্ধতিতে ঘটে। |
| সূচনার সময়কাল | টেলোফেজ দশার শেষের দিকে বা সমাপ্ত হলে শুরু হয়। | অ্যানাফেজ দশার শেষের দিকে এবং টেলোফেজ দশার প্রথমদিকে শুরু হয়। |
| গলগি বস্তুর ভূমিকা | ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম পেকটেট (ফ্র্যাগমোপ্লাস্ট দানা) ক্ষরণের মাধ্যমে কোশপ্লেট গঠন করে। | এক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা নেই। |
জিন, DNA ও ক্রোমোজোমের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক–
DNA হলো বংশগতির রাসায়নিক পদার্থ।
জিন হলো DNA-এর একটি নির্দিষ্ট অংশ, যা কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
ক্রোমোজোম হলো DNA ও হিস্টোন প্রোটিন দ্বারা গঠিত গঠন, যার উপর অসংখ্য জিন অবস্থান করে।
আন্তঃসম্পর্ক:
ক্রোমোজোম ⟶ DNA ⟶ জিন
অর্থাৎ, ক্রোমোজোম DNA দ্বারা গঠিত এবং DNA-এর নির্দিষ্ট অংশই হলো জিন।
৪.৬ নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলোতে বংশগতি সংক্রান্ত ফলাফল কী হতে পারে :
- বাবা বা মায়ের এর একজন থ্যালাসেমিক ও অন্যজন থ্যালাসেমিয়ার জিন বাহক • বাবা ও মা উভয়ই থ্যালাসেমিয়ার জিন বাহক
থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণগুলো কী কী? ২+৩=৫
উত্তরঃ
| ক্ষেত্র | সম্ভাব্য ফলাফল |
|---|---|
| বাবা বা মায়ের একজন থ্যালাসেমিক (tt) এবং অন্যজন থ্যালাসেমিয়ার জিন বাহক (Tt) | ৫০% সন্তান থ্যালাসেমিক (tt) এবং ৫০% সন্তান জিন বাহক (Tt) হবে। |
| বাবা ও মা উভয়ই থ্যালাসেমিয়ার জিন বাহক (Tt × Tt) | ২৫% সন্তান স্বাভাবিক (TT), ৫০% জিন বাহক (Tt) এবং ২৫% থ্যালাসেমিক (tt) হবে। |
থ্যালাসেমিয়ার প্রধান লক্ষণগুলি হলো—
1.রক্তাল্পতা (অ্যানিমিয়া) দেখা দেয়।
2.শরীর দুর্বল ও সহজে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
3.মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে হয়ে যায়।
4.যকৃত (লিভার) ও প্লীহা (স্প্লিন) বড় হয়ে যেতে পারে।
5.বৃদ্ধি ও শারীরিক বিকাশে বিলম্ব ঘটে এবং অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের (Blood transfusion) প্রয়োজন হয়।
অথবা
মেণ্ডেল কর্তৃক নির্বাচিত মটর গাছের বীজ সংক্রান্ত তিনজোড়া বিপরীতধর্মী বৈশিষ্ট্য সারণির সাহায্যে দেখাও। মানুষের ক্ষেত্রে লিঙ্গ-নির্ধারণ পদ্ধতি একটি চেকার বোর্ডের সাহায্যে দেখাও। ৩+২=৫
উত্তরঃ
| বৈশিষ্ট্য | প্রকট (Dominant) | প্রচ্ছন্ন (Recessive) |
|---|---|---|
| বীজের আকৃতি | গোলাকার (Round) | কুঞ্চিত (Wrinkled) |
| বীজের রং | হলুদ (Yellow) | সবুজ (Green) |
| বীজের বীজপত্রের (Cotyledon) রং | হলুদ | সবুজ |
মানুষের ক্ষেত্রে লিঙ্গ-নির্ধারণ পদ্ধতি–
| X (বাবা) | Y (বাবা) | |
|---|---|---|
| X (মা) | XX (কন্যা) | XY (পুত্র) |
| X (মা) | XX (কন্যা) | XY (পুত্র) |
ফলাফল:
- ৫০% XX = কন্যা সন্তান
- ৫০% XY = পুত্র সন্তান
উপসংহার: মানুষের ক্ষেত্রে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণে বাবার (XY) ভূমিকা প্রধান, কারণ বাবা X বা Y—যেকোনো একটি ক্রোমোজোম প্রদান করতে পারেন, আর মা সর্বদাই X ক্রোমোজোম প্রদান করেন।
বিভাগ – ‘ঙ’ (কেবলমাত্র বহিরাগত পরীক্ষার্থীদের জন্য)
৫. যে কোনাে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দাও : ১×৪=৪
৫.১ যোগকলার (Meristematic Tissue) একটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: যোগকলার কোষগুলি সক্রিয়ভাবে বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ সৃষ্টি করে।
৫.২ কোন কোশ অঙ্গাণুকে কোশের ‘শক্তি ঘর’ বলা হয়?
উত্তর: মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)।
৫.৩ কোলেনকাইমা কলার একটি কাজ লেখো।
উত্তর: উদ্ভিদের কচি কাণ্ড ও পাতাকে যান্ত্রিক দৃঢ়তা ও নমনীয়তা প্রদান করে।
৫.৪ একটি পক্ষীপরাগী ফুলের উদাহরণ দাও।
উত্তর: শিমুল (Silk cotton)।
৫.৫ একটি শর্করা পরিপাককারী উৎসেচকের উদাহরণ দাও।
উত্তর: অ্যামাইলেজ (Amylase)।
৬. যে কোনাে তিনটি প্রশ্নের উত্তর দাও। ২×৩=৬
৬.১ স্নায়ুকোশের দুটি গঠনগত অংশের নাম লেখো।
উত্তরঃ
স্নায়ুকোশের দুটি গঠনগত অংশ হল—
- কোষদেহ (Cyton বা Cell body)
- স্নায়ুতন্তু (Nerve fibre) — যেমন ডেনড্রন (Dendron) ও অ্যাক্সন (Axon)।
৬.২ উদ্ভিদের নাইট্রোজেনবিহীন দুটি রেচন পদার্থের নাম লেখো।
উত্তরঃ
উদ্ভিদের নাইট্রোজেনবিহীন দুটি রেচন পদার্থ হল—
- রেজিন (Resin)
- গাম (Gum)
(অন্যান্য সঠিক উদাহরণ: ল্যাটেক্স, ট্যানিন, অত্যাবশ্যকীয় তেল)
৬.৩ রাইবোজোম ও লাইসোজোমের একটি করে কাজ লেখো।
উত্তরঃ
রাইবোজোমের কাজ :
- প্রোটিন সংশ্লেষ (Protein synthesis) করে।
লাইসোজোমের কাজ :
- কোষের অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গাণু পরিপাক করে এবং কোষকে পরিষ্কার রাখে।
৬.৪ পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিপন্ন প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তরঃ
পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিপন্ন প্রাণী হল—
- রয়েল বেঙ্গল টাইগার (Royal Bengal Tiger)
- গঙ্গার শুশুক (Ganges River Dolphin)
(অন্যান্য গ্রহণযোগ্য উদাহরণ: লাল পান্ডা, একশৃঙ্গ গণ্ডার, চিতা বিড়াল)
